বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, কেন্দ্রীয় স্পোর্টস বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর ফাইনাল ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর খিলক্ষেত লেক সিটির এ অ্যান্ড এএমএস গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নোয়াখালী শহর শাখা ও নরসিংদী জেলা শাখা মুখোমুখি হয়।
‘জুলাইয়ের অঙ্গীকার, ইনসাফের বাংলাদেশ বিনির্মাণ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সারা দেশের ১৩৮টি শাখার অংশগ্রহণে গত ১৫ জুন টুর্নামেন্টের যাত্রা শুরু হয়। নকআউট পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত এ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে দিনাজপুর শহর শাখার বিপক্ষে নোয়াখালী শহর শাখা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বিপক্ষে নরসিংদী জেলা শাখা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। সেমিফাইনালের লড়াই শেষে নোয়াখালী শহর ও নরসিংদী জেলা শাখা ফাইনালে জায়গা করে নেয়। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় নোয়াখালী শহর শাখাকে হারিয়ে নরসিংদী জেলা শাখা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
ফাইনাল ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জুলাইয়ের স্মৃতিকে ধারণ করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের মাসব্যাপী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে ছাত্রশিবিরের গৃহীত কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল জুলাইয়ে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করা।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতা কুক্ষিগত করে লুটপাট, গুম, খুন ও আয়নাঘর প্রতিষ্ঠা করেছিল, সেই ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচার বাংলার মাটিতে নিশ্চিত করে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা আমাদের অন্যতম দাবি ছিল।
তিনি বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করাও আমাদের দাবি ছিল। কিন্তু সরকার জনগণের সেই রায়ের সঙ্গে স্পষ্ট বেঈমানি করছে। সরকার বলেছে, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবে। কিন্তু তারা কোন অক্ষরের কথা বলছে, তা জনগণের কাছে বোধগম্য নয়। বরং জুলাইয়ের সঙ্গে গাদ্দারি করে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে নিজেদের দলীয় লোক নিয়োগের মাধ্যমে পুনরায় ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা কায়েমের চেষ্টা করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্পোর্টস সম্পাদক মুশফিকুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াছিন আরাফাত, সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদসহ কেন্দ্রীয় সেক্রেটারিয়েটের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শাখার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী চ্যাম্পিয়ন দলকে নগদ ৫০ হাজার ও রানার্সআপ দলকে ৩০ হাজার টাকা এবং উভয় দলকে মেডেল ও ট্রফি প্রদান করা হয়।