বাংলাদেশ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার ২০ কোটি টাকা ব্যাংক থেকে উধাও হওয়ার অভিযোগের রেশ কাটতে না কাটতে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো বাংলাদেশ বক্সিং ফেডারেশন। ফেডারেশনের ব্যাংক হিসাব থেকে ভ্যাট-ট্যাক্সের নামে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা কেটে নেয়া হলেও এ বিষয়ে কিছুই জানে না কর্তৃপক্ষ। ফেডারেশনের অনুমতি বা পূর্ব নোটিস ছাড়া এই বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংক থেকে কর্তনের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান পূবালী ব্যাংক পিএলসির ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন শাখার ম্যানেজারের কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

জানা গেছে, ১৯৭৩ সাল থেকে পূবালী ব্যাংকের ওই শাখায় একটি চলতি হিসাবের (নম্বর : ০৯৩৯৯০১০১৮৬১৫) মাধ্যমে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বক্সিং ফেডারেশন। কিন্তু গত বছরের ১৫ জুলাই প্রথম দফায় ৬ লাখ ৬২ হাজার ১১৮ টাকা এবং একই মাসের ২৯ জুলাই দ্বিতীয় দফায় সমপরিমাণ টাকা কেটে নেয়া হয়। দুই দফায় মোট ১৩ লাখ ২৪ হাজার ২৩৬ টাকা কর্তন করা হয়েছে।

বক্সিং ফেডারেশনের দাবি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর ও ভ্যাট বাবদ এই অর্থ কেটে নেয়া হলেও তাদের আগে থেকে কোনো ইনভয়েস বা আনুষ্ঠানিক নোটিস পাঠানো হয়নি। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ কুদ্দুস খান জানিয়েছেন, ‘এত বড় অঙ্কের টাকা কেন বা কীভাবে কর্তন করা হলো, তা জানার অধিকার নিশ্চয়ই আমাদের রয়েছে। আমার টাকা আমাকে না জানিয়ে কীভাবে এনবিআরকে দেয়া হলো? তাহলে কি ধরে নেব ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে গেছে?’ এই ঘটনাটি আরও বেশি রহস্য ছড়াচ্ছে দুটি কারণে। একই ব্যাংকের একই শাখায় দেশের আরও কয়েকটি ক্রীড়া ফেডারেশনের হিসাব পরিচালিত হলেও, তাদের কারও অ্যাকাউন্ট থেকে এভাবে অর্থ কর্তনের ঘটনা ঘটেনি বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাওয়া হলে ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম সংলগ্ন পূবালী ব্যাংক পিএলসির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আলমগীর জাহান একপ্রকার দায় এড়িয়ে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বক্সিং ফেডারেশনকে জিজ্ঞেস করেন।’ তবে ফেডারেশন কর্তৃপক্ষের প্রশ্ন একটাই, হিসাবধারীকে না জানিয়ে কীভাবে এত বড় অঙ্কের অর্থ সরিয়ে নেওয়া সম্ভব? এম এ কুদ্দুস খানের ভাষায়, ‘আমার টাকা আমাকে না জানিয়ে কীভাবে এনবিআরকে দেওয়া হলো তা জানতে চাই। তাহলে কি ধরে নেব ব্যাংক থেকে টাকা উধাও হয়ে গেছে?’