স্টাফ রিপোর্টার

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি। তিনি বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত জুলাইয়ের চেতনা থেকে সরে যাওয়ার প্রমাণ। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম। এতে বক্তব্য দেন অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, অধ্যাপক নুরনবী মানিক, অধ্যাপক মাওলানা শাহজাহান মাদানী, অধ্যাপক মঞ্জুরুল হক, ড. আব্দুস সবুর মাতব্বর, মো. মতিয়ার রহমান, অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম সরকার ও অধ্যক্ষ শফিকুল আলম হেলাল।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, ‘এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা জুলাই চেতনা থেকে সরে যাওয়ার প্রমাণ।’

তিনি অভিযোগ করেন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করে বিএনপি সরকার জঘন্য অপরাধ করেছে। তাঁর দাবি, অতীতে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না করার এমন নজির নেই।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের সমালোচনা করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোটা প্রথার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিল। অথচ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় যাওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই দলীয়করণের মাধ্যমে নয়টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়েছে। একইভাবে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা অর্পণ না করে অধিকাংশ জেলা পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব কর্মকা- জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা ও চেতনাবিরোধী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপির ঐতিহ্য হচ্ছে টাকার বিনিময়ে নিয়োগ দেওয়া। অতীতে আমরা তা প্রত্যক্ষ করেছি। আবার সেটা ফিরিয়ে আনতে নতুন ভিত্তি দিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, দলীয়করণের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অযোগ্য ব্যক্তিদের নিয়োগ দিয়ে শিক্ষাব্যবস্থাকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এ দেশের জনগণ তা মেনে নেবে না।

শিক্ষকদের দাবি আদায়ে জামায়াতকে বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, অবসরপ্রাপ্ত ও বঞ্চিত শিক্ষকদের ভোগান্তি নিরসনে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন স্থানে দুর্বৃত্তদের হাতে শিক্ষকদের অপমান-অপদস্থ হওয়ার ঘটনাও বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

বৈঠকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের নিন্দা জানানো হয়। একই সঙ্গে সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কঠোর আন্দোলন ও কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। কয়েক ধাপে আন্দোলন পরিচালনার প্রস্তাবও গৃহীত হয়।

এ সময় বিদ্যমান বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ ও মাদরাসায় এনটিআরসিএর মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া বহাল রাখার দাবি জানানো হয়।