স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির প্রধান কার্যালয়ের সামনে মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া দুই পক্ষ রোববার দুপুরে কর্মসূচি শেষ করে সরে গেছে। তবে দাবি আদায়ে উভয় পক্ষইে আজ আবারও অবস্থান কর্মসূচিতে নামার ঘোষণা দিয়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাংকপাড়ায় উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে পুলিশ।

গতকাল রোববার সকাল থেকে মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নেয় ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম এবং ইসলামী ব্যাংকসহ বিভিন্ন ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, পরে পরিস্থিতি হাতাহাতি পর্যন্ত গড়ায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা ইসলামী ব্যাংককে এস আলম গ্রুপের প্রভাবমুক্ত করা, ব্যাংকে সুশাসন নিশ্চিত করা, আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা, এস আলমের আমলে অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিল এবং নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠনের দাবি জানান। অন্যদিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

গ্রাহক ফোরামের সহসভাপতি শামিম হাসনাইন বলেন, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় খবর পেয়ে তারা রাতেই অবস্থান নেন। তার দাবি, এস আলমের আমলে অনিয়ম ও জাল সনদের মাধ্যমে অনেককে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ব্যাংক এসব নিয়োগের সনদ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেয় এবং পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্যদের বহাল রাখার উদ্যোগ ছিল। তবে সংশ্লিষ্টরা পরীক্ষায় অংশ নেননি বলে দাবি করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এখন চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে ব্যাংকের সামনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়Ñএমন কোনো পরিস্থিতি গ্রাহক ফোরাম মেনে নেবে না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে থাকা উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হারুন-অর-রশীদ বলেন, যেকোনো আন্দোলন শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে করার জন্য উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে এমন জায়গায় কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হচ্ছে, যেখানে মানুষের চলাচল কম এবং জনদুর্ভোগের আশঙ্কাও কম থাকে।

তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে দুটি পক্ষ কর্মসূচি পালন করছে। চাকরিচ্যুত ব্যাংক কর্মকর্তাদের তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল স্মারকলিপি দিতে ব্যাংকের ভেতরে যায়। তারা স্মারকলিপি দিয়ে বেরিয়ে এলে রোববারের জমায়েত শেষ হবে বলে আশা করা হয়েছিল।

ডিসি হারুন আরও বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষ এক জায়গায় জমায়েত হলে তাদের সরিয়ে দিতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও বিশৃঙ্খল হয়ে উঠতে পারে। এতে হতাহতের আশঙ্কাও থাকে। এ কারণে পুলিশ বড় ধরনের জমায়েত নিরুৎসাহিত করছে।

ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে সাম্প্রতিক কোনো রাজনৈতিক ঘটনা কিংবা আওয়ামী লীগের কোনো কর্মসূচির যোগসূত্র রয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ডিসি হারুন বলেন, এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, ব্যাংকপাড়ায় যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে থেকে সরে যান। পরে দুপুর ১টার দিকে দুই পক্ষই দিলকুশা এলাকা থেকে সরে যায়। তবে উভয় পক্ষের ঘোষণা অনুযায়ী, সোমবার আবারও ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালনের কথা রয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মীদের চাকরি পুনর্বহালের দাবির বিপরীতে গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম সচল রাখা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। ফলে সোমবারের কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ফের উত্তেজনা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।