আজ ১৫ আগস্ট। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী। দিনটি উদযাপন উপলক্ষে সারাদেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গতকাল শুক্রবার দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ আগস্ট শনিবার ‘গণতন্ত্রের মা’ সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। এ উপলক্ষে ঢাকাসহ সারাদেশে দলীয় কার্যালয় অথবা মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকায় সকাল ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতারা উপস্থিত থাকবেন। রাজধানীসহ সারাদেশে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের সব পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের এসব মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে অংশ নেওয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এদিকে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনের আওতাধীন মহাখালী কড়াইল এলাকার টিঅ্যান্ডটি মাঠে বেলা ৩টায় এ অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রসঙ্গত, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন মরহুমা খালেদা জিয়ার জন্ম অবিভক্ত ভারতের জলপাইগুড়িতে। তিনি ১৯৪৬ সালের ১৫ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তার পারিবারিক নাম- খালেদা খানম। ডাক নাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও তিনি জলপাইগুড়িতে বোনের বাসা থেকে পড়ালেখা করেন। তিনি বিয়েও করেন তিস্তা পাড়ের শহরটিতে।
পরে ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের পর খালেদা জিয়ার পরিবার বাংলাদেশের দিনাজপুর শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। সেখানে মিশনারি স্কুলে প্রাথমিকের গণ্ডি পেরানোর পর দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন খালেদা। ১৯৬০ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানের সঙ্গে খালেদার বিয়ে হয়। পরে স্বামীর কর্মস্থল পশ্চিম পাকিস্তানে চলে যান। স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে কতিপয় বিপথগামী সেনা সদস্যদের হাতে জিয়াউর রহমানের শাহাদাতের পর বিএনপির হাল ধরেন তার স্ত্রী খালেদা জিয়া। তখন তিনি নিতান্তই একজন গৃহবধূ।
বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ১৯৮৩ সালে সাত দলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। সেই আন্দোলনে এরশাদ সরকারের সঙ্গে কখনো আপস করেননি খালেদা জিয়া। তাই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার নাম হয় আপসহীন নেত্রী। পরে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। এরপর ২০০১ সালে জাতীয় নির্বাচনেও জয়লাভ করে প্রধানমন্ত্রী হন তিনি। নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান।
বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন। তিনি আওয়ামী সরকারের আমলে কারাবন্দী হলে দলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন তার বড় ছেলে তারেক রহমান। বর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।