বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে জোর কূটনৈতিক প্রস্তুতি চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি হতে পারে তাঁর প্রথম দ্বিপক্ষীয় ভারত সফর। সফরটি আগামী সপ্তাহের শেষভাগে অথবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। এছাড়া আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লীতে অনুষ্ঠিতব্য ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ সেশনেও বাংলাদেশকে বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে এই সফরের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাঁকে বাংলাদেশে প্রত্যর্পণ ইস্যুতে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে সংবেদনশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে পরস্পরবিরোধী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

দ্য ট্রিবিউন-এর দাবি করছে, গত ১০ আগস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকে তারেক রহমান বার্তা দিয়েছেন যে, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত তিনি ভারত সফরে যাবেন না। ফলে সফরটি ‘৫০-৫০’ ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। তবে বৈঠক শেষে হাইকমিশনার সাংবাদিকদের জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়; এমন কোনো সমস্যা দুই দেশের মধ্যে নেই। এনডিটিভি-র দাবি করছে, সফরের প্রস্তুতি দুই দেশেই চলছে এবং সফরকালে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ঢাকা-নয়া দিল্লি সম্পর্কের মধ্যে টানাপোড়েন তৈরি হয়। তবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। কূটনৈতিক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের অংশ হিসেবে গত এপ্রিলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ভারত সফর করে এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সম্প্রতি ভারতীয় হাইকমিশনারও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সম্ভাব্য মোদি-তারেক প্রথম বৈঠকে যেসব ইস্যু প্রাধান্য পেতে পারে। মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা এবং সম্প্রতি ভারতে অবস্থানকালে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকায় সৃষ্ট অসন্তোষ। ভারত জানিয়েছে, প্রত্যর্পণের অনুরোধটি আইনি ও কূটনৈতিক চ্যানেলে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে চলায় এটি নবায়নের আলোচনা বিশেষ গুরুত্ব পাবে। বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং সীমান্ত সংলগ্ন যোগাযোগের উন্নয়ন।

বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি মাত্র সফরেই অমীমাংসিত সব সংকটের সমাধান না হলেও, নরেন্দ্র মোদি ও তারেক রহমানের মধ্যে সরাসরি আলোচনা দুই দেশের মধ্যে বরফ গলাতে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে একটি নতুন রাজনৈতিক পথ উন্মোচন করতে পারে।