- আজ ১৫ আগস্ট অত্যাচারীদের নির্মম পরিণতির কথা নতুন করে স্মরণ করছে মানুষ
পলাতক আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতাদের প্রাসাদোপম ও বিলাসবহুল বাড়িগুলো এখন অনেকটা ধ্বংসস্তূপ। এক সময় যে বাড়িগুলোই হয়ে উঠেছিল রাজনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দু। ক্ষমতায় থাকাকালীন নিয়মিতভাবেই এখানে ভিড় করতেন নেতাকর্মীরা। দিন-রাত বাড়িগুলো থাকত জমজমাট। নিরাপত্তারও ছিল না কোনো ঘাটতি ।
সেই বিলাসবহুল বাড়িগুলোরও এখন দেয়ালের ইট নেই। ফাঁকা-জনশূন্য; পরিণত হয়েছে ময়লার আবর্জর্নার ভাগাড়ে। এক সময়কার বিলাসবহুল বাড়িগুলোতে কুকুর, বিড়াল আর মশার আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ইদুর মরে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ভোট ছাড়া দেড় দশকের বেশি সময় ক্ষমতায় থেকে জুলুম নির্যাতনের মাত্রা ছাড়িয়ে যায় আওয়ামী লীগ। ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দলের সভাপতি শেখ হাসিনা পালিয়ে যান। একই সময়ে দেশে ছেড়ে পালিয়ে যায় আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট নেতারা। ক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িঘর ভেঙেচুরে গুঁড়িয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের মাত্রা ছাড়া অত্যাচারের কথা আর আজ ১৫ আগস্ট নতুন করে মনে করছে মানুষ।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর :
রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ হাসিনার বাড়ি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দিনও বাড়িটি পুড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। এবার দ্বিতীয় দফায় বাড়িটিতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় গেলো বছরের নভেম্বরে।
শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছাড়ার পর থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। এর আগ পর্যন্ত তা ব্যবহার হচ্ছিল জাদুঘর হিসেবে। গণ-অভ্যুত্থানের মুখে পালিয়ে ভারতে অবস্থান নেয়া পলাতক শেখ হাসিনার ভাষণ দেয়ায় ক্ষুদ্ধ জনতা হাসিনার বাসভবন সুধা সদন গুঁড়িয়ে দেয়।
গডফাদার শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জের বাড়ি
নারায়ণগঞ্জে গডফাদার শামীম ওসমানের একসময়কার আলিশান জাঁকজমকপূর্ণ বাড়িটি এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিলাসবহুল বাড়িটি কুকুর, বিড়াল আর মশার আস্তানায় পরিণত হয়েছে। ইদুর মরে পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান শামীম ওসমান ও তার পরিবার। ওই দিন এবং পরের দিন ৬ আগস্ট শহরের জামতলা এমপি গলির বাসভবন ডুপ্লেক্স বাড়িটি হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় ক্ষুব্ধ জনতার হাতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নারায়ণগঞ্জ শহরের জামতলা এলাকার শামীম ওসমানের বাড়িতে দেখা যায়, ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি বাথরুমের হাইকমোড থেকে শুরু করে বিদ্যুতের তার পর্যন্ত নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। বাড়ির আসবাবপত্র বলতে কিছুই নেই। আশপাশ এলাকার মানুষজন এখনো এসে ভিড় করছেন ধ্বংসস্তূপ দেখার জন্য।
স্থানীয় বাসিন্দা আাসলাম শিকদার জানান, মানুষের প্রতি অনেক জুলুম করেছেন শামীম ওসমান ও তার দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। মানুষের ক্ষোভ থেকে তার বিলাসবহুল বাড়ি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এটা একটা নজির।
চাষাড়া এলাকার বাসিন্দা ইউসুফ আলী জানান, শামীম ওসমানের বাড়িটি একটা জলন্ত দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে মানুষের প্রতি অত্যাচার করলে শুধু পালিয়ে যেতে হয়, তা নয়, বসতবাড়ির নিশানাও হারাতে হয়।
জামতলা এলাকার নৈশপ্রহরী জানান, একসময়কার জাঁকঝমকপূর্ণ বাড়িটি এখন ভুতুড়ে বাড়িতে পরিণত হয়েছে। কুকুর, বিড়াল আর মশার আস্তানায় পরিণত হয়েছে। চিকা মরে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
ফেনীর নিজাম উদ্দিন হাজারীর বাড়ি
আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম প্রভাবশালী ফেনীর নিজাম উদ্দিন হাজারী। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় গড়েন আলিশান বাগানবাড়ি। জনশ্রুতি রয়েছে, এটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে হাজার কোটি টাকার বেশি। আওয়ামী লীগের পতনের দিনটিতে এ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন নিজাম হাজারী। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়তে তিনি বাড়ি ছেড়ে চলে যান। ওইদিন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভের অংশ হিসেবে বাড়িটিতে ব্যাপক হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। লুটপাট হয় বাড়ির অভ্যন্তরে থাকা নানা জিনিসপত্র। বিলাসবহুল বাড়িটি পরিণত হয় ধ্বংসস্তূপে। এখন পর্যন্ত ওভাবেই পড়ে রয়েছে বাড়িটি।
নোয়াখালির একরামুল করিম চৌধুরী বাড়ি
আওয়ামী লীগের আলোচিত আরেক স্থানীয় হেভিওয়েট নেতা নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। কবিরহাট উপজেলার সোন্দলপুরে গড়েছেন বিলাসবহুল বাড়ি। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভিড় কমলেও কিছু কর্মী-সমর্থক নিয়ে গ্রামের ওই বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন একরাম চৌধুরী। তবে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। পরবর্তী সময়ে গত ১১ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাড়ি ছাড়েন একরাম চৌধুরী। বর্তমানে আলিশান বাড়িটি ফাঁকা ও জনশূন্য অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
সালমান এফ রহমানের বাড়ি
রাজধানীর অভিজাতপাড়া খ্যাত গুলশান-২-এর ৭১ নম্বর সড়কের ১ নম্বর বাড়িটিতে বসবাস করতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা ও ঢাকা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সালমান ফজলুর রহমান। বর্তমানে তিনি কারাগারে।
এক সময় গুলশানে সালমান এফ রহমানের তিনতলা বাড়িটি ছিল রাজধানী ঢাকার অন্যতম বিলাসবহুল বাড়ি, যার নিরাপত্তা ব্যবস্থাও ছিল কঠোর। এদেশের শীর্ষ রাজনৈতিক-ব্যবসায়ী এমনকি বিদেশী কূটনীতিকদেরও নিয়মিত আনাগোনা ছিল এখানে। এ বাড়ি জুড়ে এখন শুধু নীরবতা আর পোড়া গন্ধ। শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরপরই বাড়িটিতে ঢুকে লুটপাট চালানো হয়। জ্বালিয়ে দেয়া হয় বাড়ির প্রাঙ্গণে ও গ্যারেজে থাকা ১২টি গাড়ি। দ্বিতীয় তলায়ও আগুন লাগানো হয়। বর্তমানে এটি একপ্রকার ভুতুড়ে বাড়ি হিসেবে পড়ে আছে।
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের বাড়ি
আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার গ্রামের বাড়িতে এখন আর মানুষের বসবাস নেই। পতনের বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা লাঠিসোঁটা নিয়ে ওবায়দুল কাদেরের কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার বড় রাজাপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। বর্তমানে বাড়িতে জমেছে ময়লা আবর্জনা আর শ্যওলা।
ফরিদপুরে নিক্সন চৌধুরীর বাড়ি
আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন নিজের নির্বাচনী এলাকায় গড়ে তুলেছেন বিলাসবহুল বাড়ি। ফরিদপুরের ভাঙার আজিমনগর ইউনিয়নের চরচন্দ্রা গ্রামের কয়েক একর নিয়ে গড়ে তোলা বাড়িটিতে বিলাসী জীবনযাপনের প্রায় সব উপকরণ রয়েছে। সরকার পতনের পর এ বাড়িটিও একেবারে জনশূন্য হয়ে পড়েছে।
লক্ষ্মীপুরে তাহেরপুত্র সালাহ উদ্দিনের পরিত্যক্ত বাড়ি
লক্ষ্মীপুরের সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা এ কে এম সালাহ উদ্দিনের বাড়ি এখন ভুতুড়ে বাড়ি। হাসিনার পতনের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায় তাহের পুত্র টিপু। শহরের তমিজ মার্কেট এলাকার পিংকি প্লাজা নামের বাড়িটি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ জনতা। ছাত্র জনতার আন্দোলনের সময় সাদ আল আফনান, সাব্বির হোসেনসহ চার শিক্ষার্থী হত্যা মামলার প্রধান আসামী সালাহ উদ্দিন টিপু। এ ছাড়া পুলিশের ওপর হামলার মামলায় এজাহারভুক্ত প্রধান আসামী তিনি। হাসিনার পতনের পর টিপুর বাড়ির দেয়াল, জানালাসহ বিভিন্ন কাঠামো হাতুড়ি ও লোহার শাবল দিয়ে ভেঙে দেন বিক্ষুব্ধ ব্যক্তিরা। ভাঙচুরের একপর্যায়ে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাড়িটিতে। এরপর এক্সেকেভেটর দিয়ে বাড়িটি ভাঙা হয়।
কুষ্টিয়ার হানিফের বাড়ি
আওয়ামী লীগের পতনের পর বিক্ষুদ্ধ জনতা কুষ্টিয়ায় বুলডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুব উল আলম হানিফের বাড়ি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে হানিফ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে রয়েছেন। শহরের পিটিআই সড়কের এই বাড়িতেই এক সময় ছিল আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পদচারণা। কিন্তু এখন যেন দৃশ্য ভিন্ন, বাড়ির জানালা-দরজা ভাঙা, ধ্বংসস্তূপে পরিণত, যেন এক জরাজীর্ণ ভূতুড়ে বাড়ি।
খুলনার ‘শেখ বাড়ি’ এখন পোকামাকড় ও সাপের বসতি
খুলনা নগরের প্রাণকেন্দ্র শের-ই-বাংলা রোডে ছোট একটি ‘প্রাসাদ’। এটি ‘শেখ বাড়ি’ নামেই পরিচিত। বিগত ১৬ বছর ধরে এই বাড়ি থেকে খুলনার রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রিত হতো। এটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা মরহুম শেখ আবু নাসেরের বাড়ি। ২০২৪ সালের ৪ ও ৫ আগস্ট দুই দিন এবং পরে এক বছরের মধ্যে কয়েক দফা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটের পর এখন ভুতুড়ে অবস্থা বাড়িটির। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া শেখ বাড়িতে এখন সাপ, কুকুর, বিড়াল ও পোকামাকড়ের বসতি। বাড়ির আঙিনা এখন পিকআপ ও প্রাইভেট কারের অস্থায়ী স্ট্যান্ড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাড়িটির ভেতরে ছড়িয়ে পড়েছে লতাপাতায়। বাড়িটিতে ভৌতিক অবস্থা বিরাজ করছে। চব্বিশে গণ-অভ্যুত্থানের পরপর ধ্বংসস্তূপ বাড়িটি দেখতে উৎসুক জনতার যে ভিড় ছিল, তা এখন আর নেই। আশপাশের বাসিন্দারাও বাড়িটির দিকে তেমন পা মাড়ান না।
বরিশালে আমুর বাড়ি এখন ময়লার ভাগাড়
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয় আওয়ামী লীগের এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের বাসভবনটি। আমু বর্তমানের কারাগারে রয়েছেন। আওয়ামী রাজনীতির এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ সেই কেন্দ্রটি গত দুই বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় যে ভবন থেকে দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো, সেটি এখনও ময়লা-আবর্জনা ফেলা হয়।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, ভবনের বিভিন্ন অংশে এখনো ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের চিহ্ন স্পষ্ট। দরজা-জানালা ভাঙা, দেয়ালের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ভবনের ভেতরে-বাইরে জমে আছে ময়লা-আবর্জনা। আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ছে দুর্গন্ধ। বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে মাদক সেবনের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামও পড়ে থাকতে দেখা গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত এই ভবনটি এখন মাদকসেবী ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকান্ডের আখড়ায় পরিণত হয়েছে।
বরিশালের সেরনিয়াবাত ভবন হাসানাতের প্রাসাদ এখন শিয়াল কুকুরের আস্তানা
আওয়ামী লীগ আমলে বরিশালের সবচেয়ে প্রতাপশালী নেতা ছিলেন আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ। সে সময়ে তার প্রাসাদসম ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ থেকেই পুরো দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গের আওয়ামী রাজনীতি নিয়ন্ত্রিত হতো। দুই বছরের ব্যবধানে এই বাড়িতে এখন বাতি জ্বালানোরও মানুষ নেই। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণরোষের শিকার আলোচিত বাড়িটিতে হামলার পর অগ্নিসংযোগ আর এক্সকেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে ভগ্ন ও বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে নগরীর কালীবাড়ি রোডের এই বাড়িটি। ভেঙে পড়া দেওয়ালে জন্মেছে পরগাছা। ছেয়ে গেছে শ্যাওলা আর নানা পরজীবী উদ্ভিদে। একসময়ের ক্ষমতার প্রাসাদ এখন শিয়াল-কুকুরের আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পতনের পর কোনো সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধানের হাসিনার মতো পালিয়ে যাওয়ার নজির নেই। শুধু তা-ই নয়, ওই দলটির নেতাকর্মীদেরও পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। এত বছর ধরে তারা যে সম্পদের পাহাড় গড়েছে, সেগুলোও তারা ভোগ করতে পারছে না। বাড়ি-ঘরে থাকতে পারছে না। তাদের কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার কারণেই তাদের এ করুণ পরিণতি। তাই একমাত্র গণতান্ত্রিক চর্চা আর মানুষের আস্থাই পারবে ভবিষ্যতে সরকারগুলোকে এমন পরিস্থিতি থেকে নিজেদের রক্ষা করতে।