মোংলা সংবাদদাতা: সুন্দরবনে দস্যু নির্মূল এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুটি বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামের এই কার্যক্রম বর্তমানে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, বনাঞ্চলের অভ্যন্তরে সক্রিয় দস্যুদের কার্যক্রম বন্ধ করতে পরিকল্পিতভাবে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালদের নিরাপদ পরিবেশে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ সৃষ্টি করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দস্যুদের অবস্থান শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের আস্তানা ধ্বংসের কাজ অব্যাহত রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও দ্রুতগতির নৌযান ব্যবহার করে সুন্দরবনের বিভিন্ন নদীপথে টহল জোরদার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সুন্দরবন দেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাকৃতিক সম্পদ, যা বহু মানুষের জীবিকার সঙ্গে জড়িত। এই অঞ্চলে শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্ট গার্ড দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। গত ১৮ মাসে পরিচালিত অভিযানে ৮১টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ করিম-শরীফ, নানা ভাই, ছোট সুমন, আলিফ ও আসাবুরসহ বিভিন্ন দস্যু দলের মোট ৬১ জন সদস্যকে আটক করা হয়েছে। একই সময়ে অপহরণের শিকার ৭৮ জন জেলে ও তিনজন পর্যটককে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
এছাড়া, ৫৯৯ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার, ৯৪৪ কেজি হরিণের মাংস জব্দ এবং ৯০০টি হরিণ শিকারের ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ সংক্রান্ত অভিযানে ২৯ জন শিকারিকেও আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেসবাউল ইসলাম বলেন, দস্যুদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে কোস্ট গার্ড সদস্যরা নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই দুই অভিযানের মাধ্যমে বনাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভবিষ্যতেও উপকূলীয় নিরাপত্তা রক্ষা, দস্যুতা দমন এবং অপরাধ প্রতিরোধে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।