যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য গোলাম রসুলের মানসিক রোগী (সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত) কন্যার আচরণকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অপপ্রচার থামেনি। তবে স্থানীয় অনেক বাসিন্দা মনে করেন, একজন মানসিক রোগে আক্রান্ত তরুণীর অসুস্থতাজনিত আচরণকে কেন্দ্র করে পুরো পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা অত্যন্ত বেদনাদায়ক এবং মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
দীর্ঘদিন ধরে এমপি গোলাম রসুলের সাথে বসবাস করেছেন রওশন বলেন, আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, অধ্যাপক গোলাম রসুলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে তাদের মেয়ের জটিল মানসিক অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করছে। অসংখ্যবার হাসপাতালে ভর্তি, দীর্ঘ চিকিৎসা এবং নিয়মিত ওষুধ সবকিছুর সাক্ষী আমি নিজে। বাসায় প্রায়ই জরুরি প্রয়োজনে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ব্যাগ গুছিয়ে রাখা হতো। একজন মানসিক রোগীর অসুস্থতাজনিত আচরণকে রাজনৈতিক ইস্যু বানিয়ে পুরো পরিবারকে হেয় করা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমাদের উচিত গুজব নয়, একজন অসুস্থ মানুষ ও তার পরিবারের প্রতি মানবিকতা, সহমর্মিতা এবং সংবেদনশীল আচরণ প্রদর্শন করা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, গোলাম রসুল বহু বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্বাভাবিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছেন। তাদের দাবি, ব্যক্তিগত আচরণ নিয়ে আগে কখনো বড় ধরনের অভিযোগ শোনা যায়নি। তাই একটি পারিবারিক সংকটকে ঘিরে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তা তাদেরও মর্মাহত করেছে।
স্থানীয়দের মতে, বাসভবনের সামনের সরু সড়ক দিয়ে একটি নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চলাচলের সময় কিছুটা ভিড় সৃষ্টি হয়। এটি দীর্ঘদিনের একটি নাগরিক সমস্যা, যা ওই এলাকার প্রায় সব বাসিন্দাকেই ভোগায়। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে অপ্রমাণিত তথ্য ও গুজব ছড়িয়ে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে না করার আহ্বান জানান তারা।
পরিবারের দাবি, সংসদ সদস্যের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে সিজোফ্রেনিয়া রোগে আক্রান্ত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কখনো বাস্তবতা সম্পর্কে বিভ্রান্ত হতে পারেন, অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারেন কিংবা নিজের অজান্তেই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে ফেলতে পারেন। নিয়মিত ওষুধ, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পরিবারের আন্তরিক সহযোগিতা এ রোগ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিয়ে বিদ্রূপ, অপমান বা সামাজিকভাবে হেয় করা শুধু অমানবিকই নয়, রোগীর সুস্থ হওয়ার পথও কঠিন করে তোলে। একই সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যরাও চরম মানসিক চাপ ও সামাজিক বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিমত, যেকোনো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। গুজব, আবেগ বা রাজনৈতিক বিভাজনের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের মাধ্যমেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসতে পারে। একই সঙ্গে তারা সমাজের সব শ্রেণির মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, একজন মানসিক রোগী ও তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন করতে।
একজন অসুস্থ মানুষের আচরণকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারকে জনসমক্ষে অপমানিত করা কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় হতে পারে না। মানবিকতা, সংযম ও সত্যনিষ্ঠাই হতে পারে এমন স্পর্শকাতর ঘটনার সর্বোত্তম প্রতিকার।