চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মধ্য টরকী গ্রামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মো. ফরিদ মিয়া (৫০)। মামলায় যে দিন ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, ওই দিন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে দাবি করেছেন। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মধ্য টরকী গ্রামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদ মিয়া অভিযোগ করে বলেন, একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাকে হয়রানি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে। প্রশাসন সুষ্ঠু তদন্ত করলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলেও দাবি করেন তিনি।

ফরিদ মিয়া জানান, মধ্য টরকী গ্রামের মজিবুর রহমান বেপারীর মেয়ে হাজেরা বেগম একই গ্রামের নোয়াব আলীর ছেলে বশির আহমেদের কাছ থেকে জমি কেনার জন্য ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেন। তবে টাকা দেওয়ার প্রায় ১৪ বছর পার হলেও জমিটি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি।

পরে হাজেরা বেগম আদালতে গিয়ে বশির আহমেদ, লিয়াকত আলী, কামাল হোসেন, বিল্লাল হোসেন ও জহির হোসেনকে বিবাদী করে মামলা করেন। ওই মামলায় পঞ্চায়েত হিসেবে ফরিদ মিয়াকে সাক্ষী করা হয় বলে জানান তিনি।

ফরিদ মিয়ার অভিযোগ, ওই মামলায় তার নাম সাক্ষী হিসেবে থাকায় বশির আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগমকে দিয়ে তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ মামলায় যে দিন ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, সেদিন তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন বলে দাবি করেন ফরিদ মিয়া।

তিনি বলেন, ‘আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানাচ্ছি। তদন্তে সত্যতা যাচাই করে যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’

ফরিদ মিয়া আরও বলেন, হাজেরা বেগম জমি কেনার জন্য বশির আহমেদকে টাকা দেওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে জমি রেজিস্ট্রি না দেওয়ার বিষয়টি অমানবিক। টাকা গ্রহণের বিষয়টির সুরাহা করে জমি রেজিস্ট্রি দেওয়া হলে বিরোধের অবসান হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে বশির আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘জমি বিক্রি করার জন্য আমরা টাকা নিয়েছি। তারা আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিধায় আমরা রেজিস্ট্রি দিচ্ছি না।’

তবে ফরিদ মিয়ার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বিষয়ে আনোয়ারা বেগমের বিস্তারিত বক্তব্য জানা যায়নি।