গাজীপুরের জয়দেবপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সুটকেস ও বস্তাবন্দী অবস্থায় উদ্ধার হওয়া দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত নারীর পরিচয় শনাক্ত করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিহত নারীর নাম ডলি আক্তার (৩০)। প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়া-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে তথ্য পেয়েছে পিবিআই।

ডলি আক্তার ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানার পাহাড়পাবিজান গ্রামের বাদশা মিয়ার মেয়ে। জীবিকার তাগিদে গাজীপুরে এসে তিনি বাঘের বাজার এলাকার গোল্ডেন রিপিট গার্মেন্টসে সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।

গত ১১ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেলে গাজীপুর সদর উপজেলার মেম্বারবাড়ী এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভবানীপুর ফকিরা গার্মেন্টস-সংলগ্ন আবুল কাশেমের বহুতল ভবনের পাশে কালভার্টের নিচে একটি কালো রঙের সুটকেস দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে জয়দেবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুটকেস খুলে নারীর দ্বিখণ্ডিত ও অর্ধগলিত লাশের একটি অংশ উদ্ধার করে। পরে আশপাশে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাবন্দী অবস্থায় লাশের অপর অংশও উদ্ধার করা হয়।

লাশ অর্ধগলিত থাকায় ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশি অনুসন্ধানের পাশাপাশি পিবিআইয়ের তদন্তে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। পরিচয় পাওয়ার পর জানা যায়, ডলি আক্তার বাঘের বাজার এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন জানান, উদ্ধার হওয়া নারীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ তখনও পুরোপুরি উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং হত্যার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।

এদিকে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু করে পিবিআই, গাজীপুর জেলা। পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার জানান, প্রাথমিক তদন্তে পরকীয়া-সংক্রান্ত বিষয়কে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তিনি জানান, হত্যার নেপথ্যে কারা জড়িত, কীভাবে ডলি আক্তারকে হত্যা করা হয় এবং লাশটি কীভাবে ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা হয়েছে—এসব বিষয়ে তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

পিবিআই জানিয়েছে, নিহতের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের রহস্যও উদঘাটন করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পিবিআই, গাজীপুর জেলা কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের ঘটনা, জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য এবং তদন্তে পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হবে।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।