গাজীপুর সিটি করপোরেশনের অঞ্চল-৩ (গাছা) এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে নতুন গতি এসেছে। নগরবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি দূর করে আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে একদিনে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সূচনা করেছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ৩২, ৩৩, ৩৪, ৩৫, ৩৬, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে সড়ক, ড্রেন, সোলিং ও আরসিসি উন্নয়নকাজ পরিদর্শন এবং উদ্বোধন করেন তিনি। একই সঙ্গে উত্তর খাইলকুর এলাকায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন এবং বাদশা মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করেন।

দিনের শুরুতে ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের জাঝর-ডেগেরচালা এলাকায় হামিদ মণ্ডলের বাড়ি থেকে সাক্রাউরী রোড পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সিসি রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক। পরে ডেগেরচালা রোডে বাখরাবাদ গার্মেন্টসের দক্ষিণ দিক থেকে হাজী মোহাম্মদ আলী নিটিং ফ্যাক্টরি পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন।

এরপর ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খাইলকুর বটতলা থেকে মৈরান বাইপাস পর্যন্ত সড়কে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সবুজ নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

একই ওয়ার্ডে উত্তর খাইলকুর আদর্শ নগর এলাকায় দেলোয়ারের বাড়ি থেকে রাজুর বাড়ি হয়ে তাজউদ্দিন মৃধা রোড পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সিসি রাস্তা, বসুরা পল্লী বিদ্যুৎ সড়কে সোলিং রাস্তা, দুলালের বাড়ি থেকে অলির বাড়ি হয়ে বশিরের বাড়ি পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সিসি রাস্তা, শহীদ সিদ্দিক সড়কে হান্নান ফ্যাশন থেকে জসিম হাজী জামে মসজিদ পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সোলিং রাস্তা এবং আদর্শ নগরে আব্দুল মান্নানের বাড়ি থেকে জামে মসজিদ পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সোলিং রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় প্রশাসক 'বাদশা মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজে' শিক্ষার্থীদের হাতে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন এবং প্রত্যেককে অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যার আহ্বান জানান।

পরে ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ খাইলকুর পেয়ারা বাগান রোডে মুজাহিদুল ইসলামের বাড়ি থেকে সাত্তার মার্কেট সংযোগ পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সিসি রাস্তা নির্মাণকাজ উদ্বোধন করেন।

একই দিনে ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কুনিয়া বড়বাড়ী শাহী জামে মসজিদ থেকে জালাল সরকারের বাড়ি পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও সিসি রাস্তা এবং কুনিয়া ইঞ্জিনিয়ার বাড়ি সড়কে কাজী বাশারের বাড়ি থেকে জামানের বাড়ি পর্যন্ত সিসি রাস্তা ও ব্রিক ড্রেন নির্মাণকাজেরও উদ্বোধন করা হয়।

এরপর ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কলমেশ্বর রোকেয়া সরণি স্কুল সড়কে রবিনের বাড়ি থেকে মোহর খান সড়ক পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন ও সিসি রাস্তা, ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে মোহর খান সড়ক থেকে ইসলামপুর সংযোগ পর্যন্ত ব্রিক ড্রেন, ইউনিব্লক ও সিসি রাস্তা এবং আইইউটি সড়ক থেকে মণ্ডলবাড়ি-কামারজুরী খালপাড় (ডিআইজি বাড়ি সড়ক) পর্যন্ত আরসিসি ড্রেন ও আরসিসি রাস্তা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়।

দিনের শেষ পর্যায়ে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের শরীফপুর ইকো ওয়াশিং সড়কে সামাদ মণ্ডলের বাগানবাড়ি থেকে শহীদ সাজিদুর রহমানের মসজিদ হয়ে আতিক সিপাহীর বাড়ি পর্যন্ত সোলিং রাস্তা ও আরসিসি ড্রেন নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন প্রশাসক।

উদ্বোধনকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, 'গাজীপুরকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আমরা পর্যায়ক্রমে প্রতিটি ওয়ার্ডে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছি। টেকসই সড়ক, উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং ব্যাপক সবুজায়নের মাধ্যমে নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। প্রতিটি প্রকল্পের গুণগত মান নিশ্চিত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।'

তিনি আরও বলেন, 'অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাই নগরজুড়ে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও আশপাশে গাছ লাগিয়ে পরিচর্যা করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব গাজীপুর গড়ে তোলা সম্ভব।'

এ সময় গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তানজিলা খানম, করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল বারেক, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সুদীপ বসাক, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক এ কে এম হারুনুর রশিদ, মোঃ লেহাজ উদ্দিন, আশরাফ হোসেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাম্মৎ হাফিজা জেসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী মাইদুল ইসলাম ও খাদিজা হেনা, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন ওয়ার্ডের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুলসংখ্যক এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার অনেক সড়ক চলাচলের অনুপযোগী ছিল এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতো। এসব উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশের উন্নতি এবং নাগরিক সেবার মান বৃদ্ধির পাশাপাশি গাছা অঞ্চলের সার্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।