যশোর সংবাদদাতা

যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমীর অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ প্রফেসর পাড়া এলাকার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল মঙ্গলবার সকালে এমপির চিকিৎসাধীন মানসিক রোগে আক্রান্ত মেয়েকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট একটি ঘটনাকে ঘিরে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এমপি গোলাম রসুল ফেসবুক লাইভে এসে বলেন, তার মেয়ে মেহেজাবিন জান্নাত অনন্যা প্রায় ১০ বছর ধরে মানসিক রোগে আক্রান্ত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে নিয়মিত চিকিৎসাধীন আছেন। অসুস্থতার কারণে তার আচরণ কখনো স্বাভাবিক থাকে, আবার কখনো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। তিনি দাবি করেন, মঙ্গলবার সকালে তার মেয়ে বাড়ির সামনে অবস্থিত একটি মাদরাসার দিকে গেলে কয়েকজন অভিভাবকের সাথে কথা কাটাকাটিতে তাকে মারধর করেন। পরে উচ্ছৃঙ্খল লোকজনকে ডেকে এনে তার বাসভবনে হামলা চালানো হয়।

এমপি গোলাম রসুলেন, হামলাকারীরা বাসভবনের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে এবং শাবল ও ড্রিল মেশিন দিয়ে প্রধান ফটক ভাঙার চেষ্টা চালায়। এ সময় তাকে ও তার পরিবারকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয় কয়েক ঘণ্টা এবং বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরনের অশালীন গালিগালাজ করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ ঘটনার পর যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তিনি হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান

তিনি আরও বলেন, তার মেয়ের চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সংরক্ষিত রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে তদন্তকারী সংস্থার কাছে তা উপস্থাপন করা হবে। একজন চিকিৎসাধীন মানসিক রোগীর আচরণকে কেন্দ্র করে একটি পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুরের চেষ্টা এবং আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত করে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, যশোর জেলা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। জেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, একজন চিকিৎসাধীন মানসিক রোগীকে কেন্দ্র করে সংসদ সদস্যের বাসভবনে হামলা, ভাঙচুরের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি অত্যন্ত নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক। বিবৃতিতে অবিলম্বে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে সকলকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।

জামায়াত নেতৃবৃন্দ বলেন, আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে যেকোনো অভিযোগ যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কোনো অবস্থাতেই হামলা, ভাঙচুর ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির মতো কর্মকা- গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

্এ ঘটনায় অপরাধিদের শাস্তির দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে যশোর সিভিল কোর্ট মোড় থেকে মনিহার পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলে নেতাকর্মীরা হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।