রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) সংবাদদাতা : লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় ডাব ব্যবসায় অপার সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। এ ব্যবসা ঘিরে গড়ে উঠেছে এক শক্তিশালী বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক, যা উপজেলার প্রতিটি গ্রামে বিস্তৃত।

স্থানীয় ডাব ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি মাসে এখানে পাঁচ কোটি টাকারও বেশি ডাব কেনাবেচা হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসেই প্রায় ১৫ কোটি টাকার ডাব ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে। যা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাজারেও প্রায় এক কোটি টাকার ডাব বিক্রি হয়েছে।

নারিকেল, পান, সুপারি ও সয়াবিনের জন্য বিখ্যাত লক্ষ্মীপুর জেলা। যার অধিকাংশ উৎপাদন হয় রায়পুর থেকে। রায়পুরের মাটি ও আবহাওয়া নারিকেল চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল হওয়ায় উপজেলার বসতভিটা, উঁচু জমি, পতিত ভূমি ও বাড়ির আঙিনাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে অসংখ্য নারিকেল গাছ। এসব গাছ থেকেই উৎপাদিত ডাব এখন বহু পরিবারের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। শুধু তাই নয়, এই ব্যবসাকে কেন্দ্র করে মৌসুমভিত্তিক প্রায় ছয় হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

তথ্য মতে, বাণিজ্যিকভাবে পরিকল্পিত নারিকেল বাগান কম থাকলেও ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছ থেকেই বৃহৎ পরিসরে ডাব সংগ্রহ করা হচ্ছে। লক্ষ্মীপুরের অন্যান্য উপজেলার তুলনায় রায়পুরেই নারিকেল গাছের সংখ্যা বেশি। এখানকার ডাবের পানি স্বাদে মিষ্টি হওয়ায় সারাদেশে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে।

রায়পুরের কয়েকজন ডাব ব্যবসায়ীর সাথে কথা বললে তারা জানান, স্বল্প পুঁজি নিয়ে ঢাকায় ডাব সরবরাহ করলেও বর্তমানে তাদের ব্যবসা বহুগুণে বিস্তৃত হয়েছে। তারা বলেন, “প্রতি শত ডাব আমরা ১,৫০০ টাকায় কিনে পাইকারিতে ২,৫০০ থেকে ৩,০০০ টাকায় বিক্রি করি। গরম যত বাড়ে, চাহিদা ও দামও তত বাড়ে।” বর্তমানে তারা প্রতিদিন ২ থেকে ৩টি ট্রাক ডাব দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠাচ্ছেন।

এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে প্রায় ১০০ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। বড় ব্যবসায়ীরা তাদের ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাদন দিয়ে থাকেন। এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী গ্রামে ঘুরে গৃহস্থদের গাছ থেকে ডাব সংগ্রহ করে থাকেন। পরে আকারভেদে ডাব তিনটি গ্রেডে ভাগ করা হয় এবং প্রতিটি ডাব ৩০ থেকে ৪০ টাকায় ক্রয় করা হয়।

রায়পুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, “এ অঞ্চলে নারিকেলের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষি বিভাগ নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি উন্নত জাতের নারিকেল চারা বিনামূল্যে ও স্বল্পমূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদন আরও বাড়াবে।”

রায়পুরে এই ডাবের ব্যবসা ঘিরে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হচ্ছে এবং তৈরি হচ্ছে টেকসই আয়ের সুযোগ। তাই বেকারত্ব সমস্যা কমাতে ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে ডাবের ব্যবসা অন্যতম একটি খাত হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।