যশোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের যশোর শহরের নীলগঞ্জ প্রফেসরপাড়া এলাকার বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টার ঘটনায় প্রশাসনের উদ্যোগে সমাধান হয়েছে।
এ ঘটনায় বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেল ৩টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উভয় পক্ষ, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংসদ সদস্যকে নিয়ে আয়োজিত একটি বৈঠকে সমাধান হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়েছে।
ঘটনার পরদিন এলাকায় গিয়ে কথা বলে স্থানীয়দের মধ্যে দুঃখ ও উদ্বেগের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অধ্যাপক গোলাম রসুল দীর্ঘদিন ধরে এ এলাকায় বসবাস করছেন। এমপি হওয়ার আগেও তিনি একজন শিক্ষক ও সমাজসেবক হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাদের ভাষ্য, তাঁকে কখনো প্রতিবেশীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা উচ্চস্বরে কথা বলতে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা আরও জানান, সংসদ সদস্যের মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে (সিজোফ্রেনিয়া) আক্রান্ত এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অসুস্থতার কারণে তাঁর আচরণ কখনো স্বাভাবিক, আবার কখনো ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে। এমন একটি পারিবারিক সংকটকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি এতটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠা এবং একটি পরিবারের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের চেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক বলে তারা মন্তব্য করেন।
প্রতিবেশীদের দাবি, সংসদ সদস্য গোলাম রসুল এলাকার উন্নয়নে বিভিন্ন সময় ভূমিকা রেখেছেন। বিশেষ করে তাঁর বাড়ির সামনের সড়ক নির্মাণ, স্থানীয় মসজিদ ও মাদ্রাসার বিভিন্ন কাজে সহযোগিতা এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা এলাকাবাসীর কাছে সুপরিচিত। তাদের মতে, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু অতিউৎসাহী ও সুবিধাবাদী মহল পরিস্থিতিকে অযথা উত্তপ্ত করেছে।
সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেন, "আমি জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি। আমি সব দলের মানুষের এমপি। একটি ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের সংঘাত বা বিভেদ সৃষ্টি হোক, তা আমি চাই না। যারা তৃতীয় পক্ষ হিসেবে পরিস্থিতিকে ঘোলা করে ফায়দা লোটার চেষ্টা করেছে, আমি তাদের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। আজ প্রশাসনের উদ্যোগে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে।"
এদিকে, এলাকাবাসী বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধান হয়েছে। তারা মনে করেন, একজন চিকিৎসাধীন মানসিক রোগীকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট ঘটনাকে আর বড় না করে শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি হলেই এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় থাকবে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যের চিকিৎসাধীন মানসিক রোগে আক্রান্ত মেয়েকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট একটি ঘটনার জেরে তাঁর বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় তিনি যশোর কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। পরে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে যশোর সিভিল কোর্ট মোড় থেকে মনিহার পর্যন্ত একটি বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।