যশোর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাড়ির মালিক নাজমুন্নাহার হিরা অভিযোগ করেছেন, তার নিজস্ব ভবন দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া পরিশোধ না করে জোরপূর্বক দখল করে রেখেছেন ভাড়াটিয়া আরাফাত নাজনীনও তার স্বামী মনজুর মোরশেদ। একই সঙ্গে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ২৭ জুন একটি লিখিত চুক্তির মাধ্যমে তার ভবনটি ভাড়ায় দেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রথমে মাসিক ৬০ হাজার টাকা এবং পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ৭০ হাজার টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া পরিশোধ করেননি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত এক টাকাও ভাড়া না পাওয়ায় একাধিকবার মৌখিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হয়। স্থানীয়ভাবে কয়েক দফা সালিশ বৈঠক হলেও ভাড়াটিয়া কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেননি। এতে বাধ্য হয়ে তিনি দুই দফা ভবনে তালা দেন। কিন্তু ভাড়াটিয়া পক্ষ কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়াই জোরপূর্বক তালা ভেঙে ভবনে প্রবেশ করে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে থাকে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে রেজিস্ট্রি ডাকযোগে একটি নোটিশ পাঠানো হয়, যা গ্রহণ করা হলেও তাতেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরে অক্টোবর মাসে ভাড়াটিয়া আপোষ মীমাংসার প্রস্তাব দিলে আলোচনায় বসা হয়। ওই সময় ভাড়াটিয়া নিজের ভুল স্বীকার করে আংশিক ২৫ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বকেয়া পরিশোধের অঙ্গীকার করেন। কিন্তু পরবর্তীতেও তিনি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, ভাড়াটিয়া চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে ভবন ছাড়ার নির্ধারিত সময় পার করেও সেখানে অবস্থান করছেন। বরং নানা কৌশলে সময়ক্ষেপণ করছেন এবং ভবন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন। এ ছাড়া বাড়ির মালিককে ভয়ভীতি দেখানো, অজ্ঞাত ব্যক্তিদের দিয়ে হুমকি দেওয়া এবং প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে কোতয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। এমনকি একাধিকবার বৈঠকের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও ভাড়াটিয়া পক্ষ তা উপেক্ষা করেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নাজমুন্নাহার হিরা বলেন, আমরা আইনকে সম্মান করি এবং শান্তিপূর্ণভাবে সমস্যার সমাধান চাই। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া না দিয়ে আমার নিজস্ব সম্পত্তি দখল করে রাখা হয়েছে। উপরন্তু আমাকে ও আমার পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তার নিজস্ব ভবন উদ্ধার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত পরিবারের সদস্যরাও একই অভিযোগ তুলে ধরেন এবং বিষয়টির দ্রুত সমাধান দাবি করেন।