বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদের ১ম অধিবেশন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক লস্কর মোঃ তসলিম-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর আ.ন.ম. শামছুল ইসলাম সাবেক এমপি।
সভায় শ্রমিক কল্যাণের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট্য কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচন করা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আ.ন.ম. শামছুল ইসলাম বলেন, শ্রমিক বাঁচলে মালিক বাঁচবে, শিল্পও বাঁচবে। এজন্য শ্রমিকদের জন্য সকলে একযোগে কাজ করতে হবে, সব সময় শ্রমিকদের বিপদে তাদের পাশে থাকতে হবে, আমি আশা করি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন বাংলাদেশের শ্রমিকদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করতে পারবে, তারাই শ্রমিকের মুখে হাসি ফোটাতে পারবে।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, শ্রমিকের সকল দায়িত্ব মালিকের ঘাড়ে চাপিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না। মালিক ইনসাফ অনুযায়ী শ্রমিকের দায়িত্ব গ্রহণ করবে। অবশিষ্ট দায়িত্ব রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে। তিনি সরকারের কাছে শ্রমঘন এলাকায় মানুষের জীবন মান উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করতে এবং শ্রমিকদের সন্তানদের শিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য সরকারকে বিশেষ শিক্ষা প্রকল্প হাতে নিতে জোর দাবি জানান।
তিনি বলেন বাংলাদেশের ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের আজকের দিনটি ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসাবে ইতিহাসের পাতায় লিপিবদ্ধ থাকবে। ষাটের দশক থেকে এদেশে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন থামিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একদল শ্রমিক নেতা শ্রমিক সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নকে ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি হিসাবে বারংবার ব্যবহার করেছে। ফলে শ্রমিকদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয়নি। আমরা আশা করছি এদেশে ইসলামী অনুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শ্রমিকদের অধিকার আমরা বাস্তবায়ন করবো ইনশাআল্লাহ্।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহঃ সেক্রেটারী মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠারপর থেকে যেভাবে শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করে আসছে তার ২য় কোন নজীর নেই। আগামিতেও আমাদের এধারা অব্যহত কারতে রাখতে এ পরিষদ অগ্রগামী ভূমিকা পালন করবে।
সভায় শ্রমিক কল্যাণের ১৭ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ গঠন ও শপথ পাঠ করানো হয় এসময় সংগঠনটি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও সহ-সেক্রেটারিবৃন্দ সহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।