নেত্রকোনায় হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচী উদ্বোধন করা হয়েছে। জেলার আটপাড়া উপজেলায় তিনটি কেন্দ্রে আনুষ্ঠানিক ভাবে এ কার্যক্রম শুরু হয়। রবিবার সকাল ৯টায় উপজেলার বানিয়াজান কেন্দ্রে জেলা সিভিল সার্জন এ টিকাদান কর্মসূচী উদ্বোধন করেন। এর আগে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার সারাদেশে ২০টি জেলার ৩০টি উপজেলাকে ‘হটস্পট’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরমধ্যে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা একটি।

স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পায়। এটি নিয়ন্ত্রণ করতে সরকার টিকাদান করার উদ্যোগ নেয়। সারাদেশে সরকার ২০টি জেলার ৩০টি উপজেলা কে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করে। এরমধ্যে নেত্রকোনার আটপাড়া উপজেলা একটি। এসব উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করে সরকার। এ কর্মসূচির আওতায় ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা প্রতিরোধী টিকা প্রদান করা হচ্ছে। এটি আগামী ২১মে পবিত্র ঈদুল আজহার আগেই সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. গোলাম মাওলা বলেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সময়মতো টিকা প্রদানই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তাই সকল অভিভাবকের সচেতন অংশগ্রহণ জরুরি। নির্ধারিত কেন্দ্র গুলোতে পর্যাপ্ত টিকা ও স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। যাতে করে কোনো শিশুই টিকার বাইরে না থাকে। অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নির্ধারিত টিকা কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- নেত্রকোনা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ গোলাম মাওলা আটপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার উত্তম কুমার পাল, মদন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ নূরুল হুদা খান উপজেলা বিএনপির সভাপতি মাসুম চৌধুরী প্রমুখ।

মাগুরা সংবাদদাতা : দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করতে মাগুরায় ড্রপ আউট, লেফট আউট এবং পজিটিভ কেস সনাক্তকরণের লক্ষ্যে ক্রাস (ঈজঅঝ) প্রোগ্রামের আওতায় এক উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার সকাল ৯টায় মাগুরা পৌরসভা চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন খান, এমপি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছরে কথার ফুলঝুরি ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে দৃশ্যমান বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।” তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার জনগণের পাশে রয়েছে এবং হাম প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, উপপরিচালক (উপসচিব) ইমতিয়াজ হোসেন, স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রতিনিধি ও মাগুরা পৌরসভার প্রশাসক, অধ্যাপক ডা: মোহাম্মদ আব্দুল হাই, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন, মাগুরা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাগুরার সিভিল সার্জন মোঃ শামীম কবির।

বক্তারা বলেন, বর্তমানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। যারা টিকাদান কর্মসূচীর বাইরে রয়েছে (ড্রপ আউট ও লেফট আউট), তাদের দ্রুত সনাক্ত করে টিকার আওতায় আনার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পজিটিভ কেস শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, কর্মসূচীটি স্বাস্থ্য বিভাগ, মাগুরার আয়োজনে এবং মাগুরা পৌরসভার সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সংবাদদাতা ঃ সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে হামের প্রাদুর্ভাব নিমূর্লে ৬ মাস থেকে ৫৯ বয়সী শিশুদের টিকাদান কর্মসূচী শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আয়োজনে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে গতকাল রোববার সকাল ৯টায় শিশুদের টিকাদান এ ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মোঃ মুসা জঙ্গী। এসময় উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস, স্থানীয় সরকার চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপপরিচালক উজ্জ্বল কুমার ঘোষ, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মোঃ মাসুদ পারভেজ, সিভিল সার্জন ডা. এ, কে, এম শাহাব উদ্দীন, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ পরিচালক শুকলাল বৈদ্য, জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক আব্দুস সামাদ প্রমুখ। জেলা প্রশাসক বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে সকল শিশুকে টিকার আওতায় আনা গেলে হাম-রুবেলা রোধ করা সম্ভব হবে।

কুষ্টিয়া সংবাদদাতা: মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ মাস বয়সী রায়ান নামে আরও ১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪ জনে। রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। সে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর ইউনিয়নের নদীরকুল এলাকার সোহাগের ছেলে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. এ এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম। কুষ্টিয়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২০ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২০ জন রোগীর হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহ ধরে শিশুটির ঠান্ডা, জ্বর ও শরীরে লালচে ফোঁটা ফোঁটা দাগ দেখা দিয়েছিল। এরপর রায়ানকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের পরামর্শে চিকিৎসা দেওয়া হ”িছল। তবে অবস্থার অবনতি হলে তাকে রোববার সকালে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিস জানায়, কুষ্টিয়া জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ২০ জন রোগী হাম উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এখন পর্যন্ত জেলায় ৩২০ জন রোগীর হাম সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে ২৩০ জন ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ৪ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং ৫-৬ জন শিশুর অবস্থা আশংকাজনক রয়েছে।