জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) মোহাম্মদ তুফায়েল নামে এক বহিরাগতকে রাতভর আটকে রেখে মারধর ও টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভুক্তভোগী ঐ শিক্ষার্থী ভুয়া পরিচয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখায় কিছু জাবি শিক্ষার্থী তাকে ডেকে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং ফোন চেক করে। জিজ্ঞাসাবাদে কোনো সদুত্তর না পেয়ে এবং ফোনে অপ্রীতিকর কিছু বিষয় পেয়ে ১০-১২ জন শিক্ষার্থী তাকে মারধর করে। সারারাত তাকে নিয়ে ক্যাম্পাসে বিভিন্ন স্থানে ঘুরায় বলেও জানা যায়। অতঃপর সকাল হলে তার পকেটের ৩০০ টাকায় সবাই নাস্তা করে। নাস্তা শেষে ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ৪৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী হামিদুল্লাহ সালমান তাকে নানাভাবে জেরা করে ভিডিও স্টেটমেন্ট নিয়ে নিরাপত্তা অফিসে দিয়ে আসেন।
তুফায়েল দাবি করেন, তিনি এসএসসি-২০২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী এবং সম্প্রতি ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হয়েছেন। ভর্তি হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ঘুরতে আসেন। ক্যাম্পাসে পরিচিত এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কয়েকজন তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন।
তার অভিযোগ, ক্যাম্পাসে প্রবেশের সময় নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাকে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি বারবার নিজেকে অরাজনৈতিক দাবি করলেও তাকে ‘রোহিঙ্গা’ ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্য বলে সন্দেহ করা হয়। পরে কয়েকজন তাকে মারধর করেন, যার ফলে তার পায়ে আঘাত লাগে বলে তিনি দাবি করেন।
তুফায়েল আরও অভিযোগ করেন, রাতভর তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ভিডিও ধারণ করে নির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে চাপ দেওয়া হয়। এছাড়া তার কাছ থেকে খাবারের বিলের নামে ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ভিডিওতে তার ব্যবহৃত একাধিক ফেসবুক আইডি ও পেজ নিয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি জানান, কয়েকটি আইডি কেবল নিজের পেজের ভিডিও প্রচারের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করতেন এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক পোস্ট ছিল না। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, অতীতে স্বল্প সময়ের জন্য একটি ছাত্রসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শিবির কর্মী দাবি করা হচ্ছে।
নির্যাতনের সত্যতা জানতে চাইলে জুলজি ৫৪ তম ব্যাচের শিক্ষার্থী শুভ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে সদুত্তর দিতে না পারায় আমরা সবাই তাকে মেরেছি। হাতে তামাক দিয়ে ভিডিও করার ঘটনা মিথ্যা। এমনকিছু হয়নি। তার ফোনে মেয়েদের নিয়ে অপ্রীতিকর বিষয় পেয়েছি। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় তার কাছ থেকে নাস্তার বিল দিয়েছিলাম।
এরপর দুপুর দেড়টার দিকে নিরাপত্তা অফিসে নির্যাতনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা দিয়ে ভুক্তভোগী ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।