সোনাগাজী (ফেনী) সংবাদদাতা : নোয়াখালী ও ফেনীর সংযোগস্থলে ছোট ফেনী নদীর উপর নির্মিত মুছাপুর রেগুলেটর পুনঃনির্মাণের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সোনাগাজী উপজেলা ও পৌরসভার আয়োজনে মানববন্ধন ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ৪ মে রোববার সকালে সোনাগাজী উপজেলা পরিষদ চত্বর এলাকায় এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় বক্তারা বলেন, মুছাপুর রেগুরেটর নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়ায় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মুছাপুর, চর হাজারী, চরপার্বতী ইউনিয়ন ও সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া, চরদরবেশ, চর মজলিশপুর ইউনিয়ন ও দাগনভূঁঞা উপজেলার আংশিক এলাকা ভাঙ্গনের সৃষ্টি হয়।
পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মহসিন ভূঞার সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ফখরুদ্দিন, চেয়ারম্যান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মো. মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি বেলায়েত হোসেন, পৌর আমির মো. কালিম উল্লাহ, পৌর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মান্নান ও ডাঃ ইমাম উদ্দিন, খাদিজাতুল কোবরা মহিলা দাখিল মাদরাসার সুপার আবু হানিফ, চরচান্দিয়া ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর আমির মজিবুর রহমান, নবাবপুর ইউনিয়ন আমির জিয়াউর রহমান, চরদরবেশ ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাও. হোসাইন আহম্মদ প্রমুখ। এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সোনাগাজী উপজেলা ও পৌর নেতৃবৃন্দ সহ শত শত নেতাকর্মী মানব বন্ধন কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এবং নোয়াখালীর কোম্পানিগঞ্জ উপজেলার সীমানায় ছোট ফেনী নদীর উপর ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৩ ভোল্টের রেগুলেটরটি নির্মাণ করা হয়। সোনাগাজী ও নোয়াখালী এলাকার ১ দশমিক ৩০ লাখ হেক্টর জমির ফসলকে লবণাক্ততা থেকে সুরক্ষা এবং জোয়ারের পানি থেকে এ সমস্ত এলাকাকে সুরক্ষার জন্য জনগণের দীর্ঘ দিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুছাপুর ২৩ দরজা বিশিষ্ট রেগুলেটরটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বন্যার পানির চাপ বেশি থাকায় ২৬ আগস্ট সকাল ১০টার দিকে রেগুলেটরটি ভেঙে যায়। পরে সেটি পুরোপুরি ধসে ছোট ফেনী নদীতে বিলীন হয়ে যায়। স্লুইসগেইট ভেঙে যাওয়ার পর থেকে ছোট ফেনী নদীর দুই পাশে নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়।