স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুরঃ
গাজীপুর মহানগরের পূবাইল থানার মেঘডুবি এলাকায় চা ও পান দোকানদার শেফালী বেগম কুলসুম হত্যা মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করেছে গাজীপুর জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার রাজবল্লভ গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে মোঃ কামরুজ্জামান (৩৫), একই জেলা ও থানার একনাথ রামাকান্ত (খাস জমি) গ্রামের মোঃ বাদশা মিয়ার ছেলে মোঃ আমজাদ হোসেন (৩০) এবং একই এলাকার মোঃ বাদশা মিয়ার ছেলে মোঃ আফজাল হোসেন (৩৩)।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, নিহত শেফালী বেগম কুলসুম (৪৬) পূবাইল থানাধীন মেঘডুবি (কড়ইটেক) এলাকায় নিজ বাসায় বসবাস করতেন। তিনি চা ও পান দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২৬ এপ্রিল দুপুর থেকে রাতের মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা, মুখ, হাত ও পেটে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। পরে স্বজনরা বাসার গেইট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে তার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে বাদী হয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই গাজীপুর জেলা ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে গত ৮ মে দিবাগত রাতে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
তদন্তে বেরিয়ে আসে, ডাকাতির উদ্দেশ্যে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। আসামিরা প্রথমে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নিহতকে অচেতন করার চেষ্টা করে। পরে বাঁশের লাঠি ও ধারালো দা দিয়ে তাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে নগদ টাকা ও গহনা লুট করে পালিয়ে যায়।
গ্রেফতারকৃত আসামি কামরুজ্জামান ও আমজাদ হোসেন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর আসামি আফজাল হোসেনকে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার পিবিআই গাজীপুর, মোঃ রকিবুল আক্তার বলেন, 'অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে মামলাটি তদন্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় সোর্স ও পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। অপরাধ দমনে পিবিআই গাজীপুর জেলা সবসময় আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সঞ্জিত বিশ্বাস (পিবিআই) জানান, ডাকাতি ও হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী আনোয়ার হোসেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে। তিনি জানান, আনোয়ার হোসেন কামরুজ্জামান ও আমজাদকে নিয়ে গত ২৩ এপ্রিল থেকেই পরিকল্পনা শুরু করে। গ্রেফতারকৃত কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে তার নিজ এলাকা গঙ্গাচড়া থানায় একটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়াও এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে কিনা সে বিষয়েও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতারে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয়রা দ্রুত পলাতক আনোয়ারকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।