শ্যামনগর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব আনারুল ইসলাম আঙ্গুরের বিরুদ্ধে বিএনপি কর্মী রফিকুল ইসলামের চিংড়ি ঘের দখলের অভিযোগ উঠেছে। দাবিকৃত ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর পর গত ১৭ জুলাই তার প্রায় ২৮ বিঘা জমির চিংড়িঘের দখল করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন রফিকুল ইসলাম।

বুধবার (২৯ জুলাই) শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আনারুল ইসলাম আঙ্গুরের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী মো. রফিকুল ইসলাম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রফিকুল ইসলাম বলেন, শ্যামনগর উপজেলার আটুলিয়া ইউনিয়নের তালবাড়িয়া মৌজায় প্রায় ৯ দশমিক ৪৩ একর জমিতে ১৯৮০-৮১ সাল থেকে সরকারি বন্দোবস্তের মাধ্যমে তিনি মৎস্য চাষ করে আসছেন। প্রায় দেড় মাস আগে যুবদল নেতা আনারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে তার মৎস্যঘের দখলের চেষ্টা করা হয়। এতে বাধা দিতে গেলে তাকে মারপিট করে রক্তাক্ত জখম করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসনের সহায়তায় তিনি মৎস্যঘেরের দখল ফিরে পান বলে জানান।

রফিকুল ইসলামের দাবি, এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আনারুল ইসলাম আঙ্গুর তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত ১৬ জুলাই রাতে শ্যামনগর থানা পুলিশ তাকে একটি মারামারির মামলায় গ্রেপ্তার করে। মামলাটি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না বলেও দাবি করেন। শুক্র ও শনিবার আদালত বন্ধ থাকায় জামিন পেতে দেরি হয়। এ সুযোগে ১৭ জুলাই বিকেলে আনারুল ইসলাম আঙ্গুরের নেতৃত্বে আব্দুর রাজ্জাক গাজী, মফিজুল ইসলাম মোল্লা, সাইফুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম ও সিরাজুল ইসলামসহ ৪০-৪৫ জনের একটি দল পুনরায় ঘেরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, ওই সময় তার ঘের থেকে প্রায় ১০-১২ লাখ টাকার মাছ ধরে নেওয়া হয় এবং ঘেরটি পুনরায় দখল করা হয়। বর্তমানে তিনি চার দিন কারাভোগের পর গত ১৯ জুলাই আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। তবে স্থানীয়ভাবে প্রতিকার না পেয়ে তিনি ঘেরে যেতে পারছেন না বলে জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রফিকুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আনারুল ইসলাম আঙ্গুর এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজি করছেন। তার অবৈধ বালুর ব্যবসা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে প্রেসক্লাবে ঢুকে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ০৪/২৬ নম্বর মামলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এ ছাড়া নওয়াবেকী ইটভাটার মালিক জামান সাহেবের কাছে চাঁদা দাবি এবং চাঁদা না পেয়ে তার প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও জমি দখলের অভিযোগে আনারুল ইসলাম আঙ্গুরের বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে বলে দাবি করেন রফিকুল ইসলাম। সম্প্রতি আটুলিয়ার সাহেল মোল্লার মৎস্যঘেরও আঙ্গুরের অনুসারী আব্দুর রাজ্জাক, মফিজুল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি একজন সাধারণ মৎস্য চাষি। চাঁদা না দেওয়ায় তার মৎস্যঘেরটি আনারুল ইসলাম আঙ্গুরের কবল থেকে এখনো উদ্ধার করতে পারেননি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে দীর্ঘদিনের ভোগদখলীয় মৎস্যঘের উদ্ধার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।