জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবির। কর্মসূচি শেষে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে চার দফা দাবি পেশ করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (১৩ মে) বিকেল ৪টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন রেজিস্ট্রার ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। শাখা ছাত্রশিবিরের নেতা ফেরদৌস আল হাসানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কার্যকরী পর্ষদের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান এবং শাখা সেক্রেটারি মাজহারুল ইসলামসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
মানববন্ধনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “গত রাতে ক্যাম্পাসে এমন একটি স্পর্শকাতর ঘটনা ঘটার পরও উপাচার্য বা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হননি। যেখানে আমাদের একজন বোন ধর্ষণের শিকার হতে পারতেন, এমনকি তাকে হত্যাও করা হতে পারত; সেখানে তারা কীভাবে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারেন? আজ হয়তো আমরা ওই শিক্ষার্থীর জানাজার জন্য এখানে দাঁড়াতাম। এই ঘটনায় প্রশাসনের অনুপস্থিতি প্রমাণ করে যে, তারা শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে কাজ করছেন না; বরং নিজস্ব স্বার্থ ও দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে বসে আছেন।”
মানববন্ধন শেষে শিবিরের নেতাকর্মীরা প্রশাসনিক ভবনে প্রবেশ করেন। সেখানে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) এবং কোষাধ্যক্ষের কাছে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে চার দফা দাবি তুলে ধরেন।
ছাত্রশিবিরের পেশ করা চার দফা দাবিগুলো হলো—ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা, ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা জনবল বৃদ্ধি করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের অরক্ষিত প্রবেশদ্বার ও ভাঙা সীমানাপ্রাচীর দ্রুত সুরক্ষিত করা এবং ক্যাম্পাসে কর্মরত বহিরাগত শ্রমিকদের ডাটাবেজ তৈরি করে তাদের ওপর নজরদারি নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত পুরাতন ফজিলাতুন্নেছা হল ও আল-বেরুনী হলের সম্প্রসারিত অংশ সংলগ্ন এলাকায় এক নারী শিক্ষার্থীকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের তৎপরতায় ওই শিক্ষার্থী রক্ষা পান।
শিক্ষাঙ্গন
জাবি শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের মানববন্ধন, ৪ দফা দাবি