শিশু রামিসাকে নৃশংসভাবে হত্যা, অব্যাহত নারী নির্যাতন, ধর্ষণ এবং দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক অবনতির প্রতিবাদে আজ বুধবার (২০ মে ) বিকাল ৪:৩০ মিনিটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রীসংস্থা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভানেত্রী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর কার্যনির্বাহী সদস্য সাবিকুন্নাহার তামান্না, শাখার অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ।

বক্তব্যে সাবিকু্ন্নাহার তামান্না বলেন, দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, “ধর্ষণ মামলার সংখ্যা শতাধিক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বিচার কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায় না এবং অপরাধীরা দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি থেকে রেহাই পেয়ে যাচ্ছে।” তিনি শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে বিচারহীনতার সংস্কৃতির ভয়াবহ উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দেন।

তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকারের উচিত শুধুমাত্র রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশের নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। তিনি অভিযোগ করেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্রমাবনতির কারণে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিনে মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, “দেশের মা-বোনেরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন, কোমলমতি শিশুরা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। অথচ এসব প্রতিরোধে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না।

তিনি সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের নারীদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, "অভিযুক্ত ব্যক্তি শনাক্ত হওয়ার পরও গ্রেপ্তার না হওয়া বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই প্রমাণ করে।" একইসঙ্গে অনলাইন হয়রানি, স্লাট-শেমিং, ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স এবং সামাজিক নৈতিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

মানব বন্ধনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আসমা খাতুন বলেন, “রামিসা, তনু, আছিয়াসহ দেশের সকল ধর্ষিত ও নির্যাতিত নারীর পক্ষ থেকে আমরা বিচার চাই। আর কতবার আমাদের রাজপথে দাঁড়াতে হবে?” তিনি দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আরেক শিক্ষার্থী সুমাইয়া ফাহমিদা বলেন, "বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই দেশে ধারাবাহিকভাবে হত্যা, ধর্ষণ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটছে।" তিনি বলেন, “রাষ্ট্রকাঠামো ও বিচারব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়লে অনিয়ম অবিচার জনগণের নিয়তিতে পরিণত হয়। আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক সমাজ রেখে যেতে চাই।”

মানববন্ধন থেকে শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি নারী ও শিশুদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।