জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান, অসৌজন্যমূলক আচরণ, ছাত্র ইউনিয়নের নেত্রী নাজিহা নাওয়ারের হুমকি এবং সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মব সৃষ্টির অপচেষ্টার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, ইসলামি ছাত্রশিবির ও জাতীয় ছাত্রশক্তি। একইসঙ্গে পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতিও।

মঙ্গলবার (১৯ মে) পৃথক বিবৃতিতে সংগঠনগুলো এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের দফতর সম্পাদক আব্দুল্লাহ অন্তর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে আহ্বায়ক জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর ও সদস্য সচিব ওয়াসিম আহমেদ অনীক বলেন, গণমাধ্যম একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সাংবাদিকরা সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী।

তারা আরও বলেন, ভিন্নমত কিংবা কোনো পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান অথবা হেনস্তার মতো ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসকে মুক্তচিন্তা, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক চর্চার নিরাপদ স্থান হিসেবে বজায় রাখতে সকলকে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানান তারা।

অন্যদিকে জাতীয় ছাত্রশক্তি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক কাজী মেহরাব তুর্য স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি সাংবাদিকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, মারমুখী আচরণ এবং সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির অপচেষ্টা অত্যন্ত দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (জাবিসাস) ও প্রেসক্লাবের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিকদের ‘ক্যারিয়ার ধ্বংস করার’ হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করার বিষয়টি উঠে এসেছে, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য হুমকিস্বরূপ। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত জড়িতদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানায়।

এদিকে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও সেক্রেটারি মো. মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাধীন ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পরিবেশ বজায় রাখা একটি গণতান্ত্রিক ও সুস্থ শিক্ষাঙ্গনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন কিংবা উসকানিমূলক বক্তব্যের মাধ্যমে মব সৃষ্টির চেষ্টা স্বাধীন সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী এবং অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তারা আরও বলেন, সাংবাদিকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম, অসঙ্গতি ও শিক্ষার্থীদের অধিকারসংক্রান্ত বিষয় তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকেন। দায়িত্ব পালনরত গণমাধ্যমকর্মীদের লাঞ্ছিত করার চেষ্টা কিংবা ‘ক্যারিয়ার ধ্বংসের’ হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

ছয়টি সংগঠনই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের স্বাধীন ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

1000206554



উল্লেখ্য, গত রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন আন্দোলনকারীর প্রক্টরকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি ও মারতে তেরে যাওয়ার পরিস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নূর-এ-তামিম স্রোত, অর্থনীতি বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাফিজ রাতুল, নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী সানজিদা আফরিন এবং নৃবিজ্ঞান বিভাগের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আনিকা তাবাসসুম ফারাবিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী সাংবাদিকদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ ও মারমুখী আচরণ করেন।


পরবর্তীতে ওই ভিডিও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে ছাত্র ইউনিয়ন নেত্রী নাজিহা নাওয়ার প্রকাশকারী গণমাধ্যমের প্রতিনিধিদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মক ভাষায় ‘ক্যারিয়ার ধ্বংস’ করার হুমকি দেন। এ সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী তাঁকে উসকানিমূলক সমর্থন দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।