পল্লবীতে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নির্মম হত্যা, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা, নাটোরে ৬ বছরের শিশুকে ধর্ষণসহ সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধারাবাহিক যৌন সহিংসতা ও হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করছে সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটস।
বুধবার সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটসের নির্বাহী পরিচালক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের আমলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১১৫ জন শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর ৬ জন শিশুকে হত্যা করা হয়েছে।উদ্বেগজনকভাবে, শুধু চলতি মে মাসের প্রথম ২০ দিনেই ৩০টি শিশু ধর্ষণ এবং ধর্ষণের পর ২টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে, শিশুদের জন্য পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, জনপরিসর, কোনোটিই যথেষ্ট নিরাপদ নয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, শিশু অধিকার সনদ (CRC)-এ স্বাক্ষরকারী রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ শিশুদের জীবন, নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় বাধ্য। একইসঙ্গে শিশুদের বিরুদ্ধে সকল ধরনের যৌন সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিরোধ করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ও আইনগত দায়িত্ব। কিন্তু ধারাবাহিক এসব ঘটনা প্রমাণ করছে যে বিচারহীনতা, দুর্বল আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক উদাসীনতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটস মনে করে, একটি সভ্য রাষ্ট্রে কোনো শিশুই ধর্ষণ, নির্যাতন বা হত্যার শিকার হতে পারে না।
শিশু নির্যাতন বন্ধে ৬ দফা দাবিও তুলে ধরে সেন্টার ফর চাইল্ড রাইটস। দাবিগুলো হলো, ১. পল্লবী, ঠাকুরগাঁও, নাটোরসহ সাম্প্রতিক সকল শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ২. ভুক্তভোগী পরিবারকে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, বিনামূল্যে আইনি সহায়তা, চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে হবে, ৩. প্রতিটি জেলায় শিশু সুরক্ষা সেল ও জরুরি প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, ৪. ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পুলিশি টহল ও নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে, ৫. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ও যৌন সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করতে হবে, ৬. শিশু নির্যাতনের ঘটনায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধে রাষ্ট্রকে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।