নাইক্ষ্যংছড়ি (বান্দরবান) সংবাদদাতা : বান্দরবান পার্বত্য জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়ন তুলাতলী একটি অবহেলিত গ্রাম। পার্বত্য এলাকার দুর্গম পাহাড়ের ভিতরে যোগাযোগ, অবাকাঠামো, উদ্যোক্তার অভাব সহ না কারণে শিক্ষা দীক্ষায় অবহেলিত পিছিয়ে পড়া গ্রামটিতে দ্বীনি শিক্ষার আলো ছড়াতে এক ঝাঁক শিক্ষিত তরুণদের সমন্বয়ে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ২০২৫ সালে স্থাপিত হয় দারুন নাজাত মডেল দাখিল মাদরাসা।

মাদ্রাসাটিতে আশেপাশে পাড়া মহল্লার মোট ১৯০ জন শিক্ষার্থী পাঠদান দিয়ে যাচ্ছেন আটজন শিক্ষক। শিক্ষার্থীদের মাসিক ফি ও এলাকাবাসীর অনুদানে মাদ্রাসাটি প্রায় দুই বছর যাবত চরম অভাবের মাঝেও সুন্দরভাবে চলছিল। কিন্তু সপ্তাহখানেক চলা কালবৈশাখী ঝড় যেন তছনছ করে দিল প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী ও এলাকায় আলো ছড়ানো প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ।

কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে টিনের চাল, বাঁশ ও টিনের বেড়া, কাঠের খুটি দেওয়া অস্থায়ী অবকাঠামোটি ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে। ফলে সকল ধরনের শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।

ঝড়ে ক্লাস রুম ভেঙে যাওয়ার ফলে ব্লাকবোর্ড,চেয়ার,টেবিল, বেঞ্চ, বই ইত্যাদির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি হলেই যে অংশটুকু ভালো রয়েছে সেগুলোসহ পুরো মাদ্রাসায় পানি ঢুকে যায়। এমতাবস্থায় অবহেলিত তুলাতুলি গ্রামের নব প্রতিষ্ঠিত একমাত্র দাখিল মাদ্রাসাটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসন, বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলের জরুরী হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে স্থানীয় অভিভাবক মোহাম্মদ ফজল করিম বলেন, “আমাদের ছেলেমেয়েদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করতে এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় গত বছর একটি দাখিল মাদ্রাসা নির্মাণ করে ভালোভাবে চলছিল। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আমাদের প্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।”