বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি দলের নেতাকর্মীদের যৌন লালসায় দেশের নারী-শিশুর জীবন হুমকির মুখোমুখি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এতবেশি নারী শিশু ধর্ষিতা হচ্ছে যে, তখন আর বুঝতে বাকি থাকে না যে, এই সরকারের আমলে নারী-শিশু নিরাপদ নয়। এই ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে আইনগত এমনকি বিএনপি দলীয়ভাবেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা। এসব অপরাধের নিয়ন্ত্রণে বা দমনে সরকারের কোনো অভিযান বা পদক্ষেপ নেই। ফলে সামাজিক অপরাধ বেড়েই চলছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি বজায় থাকলে সামাজিক অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।

রাজধানীতে শিশু রামিশাকে নৃশংসভাবে হত্যা, সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বুধবার (২০ মে) বিকেলে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইটে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় তিনি রামিশা হত্যা মানবতার নিকৃষ্ট একটি উদাহরণ উল্লেখ করে বলেন, রামিশা হত্যায় পুরো জাতি ব্যথিত হলেও আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন ব্যথিত নন! আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতির দায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত দাবি করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীরা ব্যর্থতা স্বীকার করে পদত্যাগ করলেও আমাদের মন্ত্রীরা দায় চাপানোর রাজনীতি করেন। জামায়াতে ইসলামী মবের রাজনীতি করে না, দায় চাপানোর রাজনীতি করে না, জামায়াতে ইসলামী ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় মানুষের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হিসেবে কাজ করে। অতীতের সরকারের ব্যর্থতার বুলি দিয়ে নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে রাখা যাবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের অস্তিত্বে আঘাত লাগলে সরকারের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে। নিরীহ মানুষকে উচ্ছেদ করতে গিয়ে পুলিশ সদস্যরা যেভাবে দৌঁড়ে পালিয়েছে, জনগণের মতের বিরুদ্ধে গেলে সরকারকেও দৌঁড়াতে হতে পারে। তাই জনগণের মতামত মেনে নিয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমীর জননেতা মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমীর মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, মানুষ একটি প্রশ্নের জবাব খুঁজে পাচ্ছে না। আমরা কি এখনো ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের যুগে আছি নাকি নতুন বাংলাদেশে নতুন সরকারের অধীনে আছি? সরকারের কার্যক্রমে জনগণ বিশ্বাস করতে পারছে না যে নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। এত বড় একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কিংবা সরকারের সংশ্লিষ্ট কেউ শিশু রামিশার পরিবারের পাশে গিয়ে দাঁড়াননি এবং পরিবারকে সান্ত্বনা দেননি। বরং তিনি নিজে সেই পরিবারের পাশে যাওয়ার পর শিশুটির বাবার বুকফাটা আর্তনাদ জাতিকে ব্যথিত করেছে। শিশুটির বাবা স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, রাষ্ট্র কর্তৃক তিনি এই হত্যাকাণ্ডের বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন না। কারণ অতীতে এই জাতীয় কোনো হত্যাকাণ্ডের বিচার ভুক্তভোগী পরিবার পায়নি।

কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এমপি’র পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমীর এডভোকেট ড. হেলাল উদ্দিন, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান প্রমুখ।

এসময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি ড. আব্দুল মান্নান এবং মুহাম্মদ শামছুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত, মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ সদস্য যথাক্রমে আব্দুস সালাম, ড. মোবারক হোসেন ও শাহীন আহমেদ খান, মহানগরী উত্তরের প্রচার সম্পাদক আতাউর রহমান সরকার, মহানগরী দক্ষিণের সহকারী প্রচার সম্পাদক আবদুস সাত্তার সুমন, সহকারী মিডিয়া সম্পাদক আশরাফুল আলম ইমনসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপি বলেন, রামিশা হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নিকৃষ্ট অসভ্যতার উদাহরণ। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ৩ মাসের মধ্যে লোমহর্ষক অনেক ঘটনা ঘটলেও সরকার আইনশৃঙ্খলার উন্নতির জন্য কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। যার ফলে নারী-শিশু নিপীড়ন প্রতিনিয়ত বেড়েই চলছে। নারী-শিশু নিপীড়নের ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি জনগণ মেনে নেবে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি সরকারের আমলে বহু নারী ও শিশু ধর্ষিতা এবং খুন হচ্ছে। প্রতিটি হত্যাকাণ্ড, ধর্ষণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপির নেতাকর্মীরা সরাসরি জড়িত। দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সরকারকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করতে তিনি আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেইট থেকে শুরু হয়ে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট-পল্টন মোড় প্রদক্ষিণ করে বিজয়নগর মোড়ে এসে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী জনসাধারণ সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজিতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে।