রাষ্ট্র পরিচালনায় সরকারের ব্যর্থতার কারণে দেশে খুন, ধর্ষণ ও নাগরিক নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভুঁইয়া। তিনি বলেন, নির্বাচনের পর জনগণ ভেবেছিল পরিস্থিতির উন্নতি হবে। কিন্তু বাস্তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম অডিটোরিয়ামে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের এনসিপিতে যোগদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাজনীতি শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের মাধ্যম। ওয়ার্ড, থানা কিংবা মহল্লা পর্যায়ে রাজনীতি করে যদি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব রাখা না যায়, তাহলে সেই রাজনীতির কোনো অর্থ থাকে না। এনসিপি মহানগরের রাজনীতিকে শুধু ক্ষমতার রাজনীতি হিসেবে নয়, বরং নগর পরিচালনায় নতুন সংস্কৃতি ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার রাজনীতি হিসেবে দেখে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে মনে হয় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতির ভূমিকায় বেশি আছেন। কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি ধর্ষণসহ একই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে আসিফ মাহমুদ বলেন, গলাকেটে হত্যা এখন যেন ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে কোনো অভ্যন্তরীণ বা বহিরাগত ষড়যন্ত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।
সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বলা হয়েছিল নির্বাচিত সরকার না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। কিন্তু নির্বাচনের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি, বরং আরও খারাপ হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে জনগণ কতদিন সহ্য করবে জানি না। বিশ্বজুড়ে তরুণ প্রজন্ম রাজনৈতিকভাবে সচেতন হয়ে উঠছে। বাংলাদেশের ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, শ্রীলঙ্কা ও নেপালের আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে তরুণরা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়।
ঝিনাইদহে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলার বিষয়ে আসিফ মাহমুদ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে হামলার যে সংস্কৃতি ছিল, সেটি আবার ফিরে আসছে। ২০২৪ সালে আমরা সেটা দেখিয়েছি। এই লড়াই কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, এটা একটি প্রজন্মের সঙ্গে সংঘাত হয়ে যাবে। এ সময় ঝিনাইদহে হামলার ঘটনায় জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ ও ছবি দেখে রাতের মধ্যেই গ্রেপ্তার করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অন্যথায় আমাদেরও ভিন্ন পথ বেছে নিতে বাধ্য হতে হবে।