বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেছেন, দেশে রিকশা শ্রমিকদের নিয়ে নানা ধরনের রাজনীতি হলেও তাদের ন্যায্য অধিকার, সামাজিক মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি এখনো নিশ্চিত হয়নি। অথচ দেশের প্রায় প্রতিটি মানুষ কোনো না কোনো সময় রিকশার যাত্রী হয়েছেন এবং এই শ্রমজীবী মানুষের শ্রমেই নগরজীবনের গুরুত্বপূর্ণ চাহিদা পূরণ হচ্ছে।

তিনি বলেন, “তপ্ত রোদের মধ্যে রিকশা শ্রমিকরা ঘাম ঝরিয়ে মানুষকে গন্তব্যে পৌঁছে দেন। কিন্তু তাদের জীবনের কষ্ট, নিরাপত্তাহীনতা ও বঞ্চনার কথা কেউ ভাবে না। আইনের কোথাও রিকশা শ্রমিকদের স্বীকৃতি নেই, অথচ লক্ষ লক্ষ মানুষ এই পেশার সঙ্গে জড়িত।”

তিনি রিকশা শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা, চিকিৎসা সুবিধা, সন্তানদের লেখাপড়ার সুযোগ ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের প্রতি মানবিক আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের নিজেদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। কোনো শ্রমিকের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। শ্রমিকদেরও ছোটখাটো ভুল-ত্রুটি পরিহার করতে হবে।”

রিকশা চালকদের জীবনসংগ্রামের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, অনেক শ্রমিকের সন্তান উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। গাইবান্ধার এক রিকশাচালকের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “তিনি কষ্ট করে সন্তানকে মেডিকেলে পড়াচ্ছেন, যাতে তার সন্তানকে আর বাবার মতো কষ্ট করতে না হয়। আমরা একজন রিকশাচালককে হয়তো অবহেলা করি, কিন্তু সেই মানুষটিই ভবিষ্যতের একজন বড় মানুষ গড়ে তুলছেন।

শ্রমিকদের চাপা কষ্টের কথা উল্লেখ করে এডভোকেট আতিকুর রহমান বলেন, “ঈদ সামনে রেখে অনেক শ্রমিক পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারেন না। তাদের না বলা দুঃখগুলো একান্তে কথা বললে বোঝা যায়। তাই শ্রমিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করতে হবে। কারণ তাদেরও পরিবার আছে, দায়িত্ব আছে, স্বপ্ন আছে।

তিনি বলেন, প্রকৃত শ্রমিক নেতা হতে হলে শ্রমিকদের কাতারে যেতে হবে। তাদের সঙ্গে বসতে হবে, তাদের সুখ-দুঃখ জানতে হবে। “আমি যদি নিজেকে এলিট শ্রেণির মানুষ মনে করি, তাহলে শ্রমিক নেতা হতে পারব না। ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে সব শ্রমিককে ন্যায্যতার আওতায় আনতে হবে,

তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের পুঁজি করে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন অপতৎপরতা চালাতে না পারে, সে জন্য সংগঠিত আন্দোলন ও সচেতন নেতৃত্ব প্রয়োজন। “আমাদের সংগ্রাম শ্রমিকের সম্মান, অধিকার ও কল্যাণের জন্য। তাদের মুখে হাসি ফোটানো এবং জুলুম থেকে রক্ষা করাই ট্রেড ইউনিয়নের মূল দায়িত্ব।

বাংলাদেশ রিকশা শ্রমিক ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ খানের সভাপতিত্বে রিকশা সেক্টরের দায়িত্বশীলদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক মহিবুল্লাহর সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সম্পাদক মিজানুল হক, সহ-সাধারণ সম্পাদক এস এম শাহাজাহান, ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাহবুব আলম, আব্দুল ওয়াদুদ সরদারসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ। প্রেসবিজ্ঞপ্তি।