জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধানের বাসায় হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে রাশেদের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর আসাদ গেট এলাকার বাসায় এই হামলা হয়। এছাড়া পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয়ে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার।
জানা গেছে, আসাদ গেট এলাকার বাসার সামনে থেকে যুব জাগপার ক্রীড়া সম্পাদক জনি নন্দীকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাগপা। এছাড়া বিকেলে পঞ্চগড়ে জাগপার কার্যালয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে দলটির নেতারা। রাশেদ প্রধান বলেছেন, আমার একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সকালে বাসার সামনে একদল লোক জড়ো হয়ে মব করে। তারা কেউই নিজেদের পরিচয় দেননি। তবে তাদের কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছে-সবাই বিএনপি ও যুবদলের সমর্থক বা নেতাকর্মী। যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু জানান, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে ১৫-২০ জন জড়ো হয়। তারা বাসায় ইটপাটকেল ছুঁড়ে মারে। খবর দিলে ঘটনাস্থলে পুলিশ আসে। তিনি জানান, একপর্যায়ে পুলিশের সামনে হ্যান্ডমাইকে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা বক্তৃতা দেয়। তারা রাশেদ প্রধানকে ‘রাজাকারের নাতি’ বললে যুব জাগপার ক্রীড়া সম্পাদক জনি নন্দী প্রতিবাদ জানান। প্রতিবাদ বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতিতে গড়ালে পুলিশ তাদের নিবৃত্ত না করে উল্টো জনি নন্দীকে নিয়ে যায়। বাবলু আরও বলেন, রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে যখন ‘মব’ হচ্ছিল, তখন আশেপাশের গলিতেও আমরা বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীকে অবস্থান করতে দেখেছি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, জড়ো হয়ে আন্দোলনকারীদের কেউ বিএনপির কর্মী, স্বীকার করেননি। আমরা যতদূর জানি, আমজনতার দলের প্রধান তারেক রহমানের অনুসারীরা উপস্থিত হয়েছিলেন। যুব জাগপার নেতা জনি নন্দীকে হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবাদ চলাবস্থায় জনি নন্দীকে হঠাৎ এক ব্যক্তির ওপর চড়াও হতে দেখে পুলিশ তাকে হেফাজতে নিয়েছে। অভিযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা জনির সঙ্গেও কথা বলব। জনি নন্দীর বিষয়ে রাশেদ প্রধান বলেন, একটি প্রতিনিধিদলকে মোহাম্মদপুর থানায় পাঠানো হয়েছে। জনি নন্দীর বিষয়ে কোনো তথ্য পাইনি। এ ঘটনায় শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
জামায়াতের নিন্দা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র এবং ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষস্থানীয় নেতা ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানের বাসার সামনে পুলিশের উপস্থিতিতে একদল সন্ত্রাসীর ‘মব সৃষ্টি’ও হামলা এবং পঞ্চগড়ে জাগপার জেলা কার্যালয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার গতকাল শুক্রবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। বিবৃতিতে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, চব্বিশের ছাত্রজনতার অভ্যুত্থানের পর ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রভাবে থাকা একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার জেলা পর্যায়ের অফিসে হামলা ও বাসার সামনে আজ সকালে একদল সন্ত্রাসীর ‘মব সৃষ্টি’ ও হামলার ঘটনায় বিএনপি সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। আমি রাশেদ প্রধানের দলীয় কার্যালয় ও বাসায় হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে তদন্তপূর্বক ঘটনা দুটির সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে শাস্তি দাবি করছি এবং রাশেদ প্রধানের বাসা, রাজনৈতিক কার্যালয় ও তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা দাবি করছি। আমি দেশের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
যুব জাগপার নিন্দা
রাশেদ প্রধানের বাসায় ‘বিএনপি সমর্থকরা’ হামলা চালিয়েছে অভিযোগ করে এর নিন্দা জানিয়েছে যুব জাগপা। গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে যুব জাগপার সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম বলেন, জনগণ ও বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাদের বাকরুদ্ধ এবং বাসা অবরুদ্ধ করার মাধ্যমে চলছে বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থা। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের পতিত স্বৈরাচারের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে। তারা বলেন, রাশেদ প্রধান পতিত স্বৈরাচারবিরোধী বিএনপি ঘোষিত যুগপৎ আন্দোলনে প্রথম সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। জুলাই আন্দোলনে রাশেদ প্রধানের অবদান ছিল ‘হয় তো লাশ, না হয় ইতিহাস’। আজ যারা রাশেদ প্রধান এবং জাগপার রাজনীতির ইতিহাস খুঁজছেন, তারা বিগত ১৭ বছর গুপ্ত ছিলেন।