চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই আবারও সরাসরি সংলাপে বসতে আগ্রহ দেখিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ লক্ষ্যে দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে।

আসন্ন বৈঠকের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে ইসলামাবাদকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ এপ্রিল সেখানে অনুষ্ঠিত পূর্ববর্তী বৈঠক ফলপ্রসূ না হলেও উভয় পক্ষ কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে আগ্রহী।

এ বিষয়ে পাকিস্তানের সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে, তারা নিয়মিত দুই দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ওয়াশিংটন-তেহরান সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হলেও তা কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়।

পরবর্তীতে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে অভিযান শুরু করে। একই সময় ইসরায়েল ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক পদক্ষেপ নেয়।

সংঘাতের প্রথম দিকেই ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। নিহত হন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে যুদ্ধের ৩৯তম দিনে উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে আবারও বৈঠকে বসে দুই দেশের প্রতিনিধিদল। তবে দীর্ঘ সময় আলোচনা চললেও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।

বর্তমানে নতুন করে সংলাপের উদ্যোগকে সংঘাত নিরসনের একটি সম্ভাব্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।