সংগ্রাম ডেস্ক

মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে সৌদি আরব ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ইস্যুতে সৌদি আরব ও ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে পৃথক টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আরাগচির টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সোমবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত এসব ফোনালাপে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সর্বশেষ অবস্থা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রয়টার্স, আল জাজিরা, গ্যালফ নিউজ।

বিবৃতিতে বলা হয়, আলোচনায় আরাগচি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা এবং যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এদিকে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহানের সঙ্গে আরাগচির এই আলোচনা এমন সময় অনুষ্ঠিত হলো, যখন রিয়াদ দাবি করেছে, ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ছোড়া কয়েকটি ড্রোন সৌদি প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে ইরানের এই কূটনৈতিক যোগাযোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অতর্কিত হামলায় ব্যক্তিগত সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের জনগণের সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান।) কাতার ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম লাইভ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। ইরান সরকারের মুখপাত্র বলেছেন, মার্কিন বাহিনীর হামলার কারণে বেসামরিক জনগণের অবকাঠামো, ব্যক্তিগত সম্পদের ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ফাতেমেহগ মোহাজেরানি বলেছেন, জেলেদের উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন নৌকা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া পর্যটন ব্যবসাও মার্কিন হামলার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া মোহাজেরানি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ চালানো হামলায় অন্তত ১২টি সেতু এবং দুইটি টানেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চলতি মাসে টানা ১৩ রাত ধরে ইরানে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র দেশটি দক্ষিণাঞ্চলে বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এসব হামলা চালিয়েছে। তবে গত শুক্রবার থেকে পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ রয়েছে।

বাজেয়াপ্ত ইরানি অর্থ ব্যবহার

ইরানের হামলায় ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা বাজেয়াপ্ত তেহরানের তহবিল ব্যবহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন করদাতাদের ওপর অতিরিক্ত বোঝা না চাপিয়ে তেহরানকে জবাবদিহির আওতায় আনার এটিই যৌক্তিক পথ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মিশিগান যাওয়ার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান যে মার্কিন নিয়ন্ত্রণে থাকা ইরানের অর্থই তাদের ঘটানো ক্ষয়ক্ষতির ক্ষতিপূরণ হিসেবে ব্যবহার করা হবে। গালফ অঞ্চলে ইরানি বাহিনী বা তাদের প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর মাধ্যমে বাণিজ্য জাহাজে হামলার পর বৈশ্বিক তেল পরিবহনের এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তারই ধারাবাহিকতায় এই বার্তা দিলেন ট্রাম্প মার্কিন অর্থ দপ্তর ক্ষতিগ্রস্ত জাহাজের মেরামত খরচ, পণ্যের ক্ষতি এবং আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করে এর বিস্তৃতি ও বাস্তবায়নের সময়সূচি চূড়ান্ত করছে। ট্র্যাজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত জুন মাস থেকেই এই প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। সমর্থকরা এই পদক্ষেপে জবাবদিহি নিশ্চিতের ইতিবাচক প্রয়াস হিসেবে দেখলেও সমালোচকরা বলছেন যে এতে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সুযোগ কমে যেতে পারে। এদিকে পুনর্ব্যবহারযোগ্য এই তহবিলের আইনি ভিত্তি বা কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে হোয়াইট হাউস তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করেনি।