এসো জবিউল্লাহ হই

জানে আলম

ঘূর্ণি বাতাসে ঘুরপাক খাওয়া পাতার মতো

কেনো আমরা কেবল ঘুরপাক খাবো?

অভিশাপের তিহি প্রান্তরে ঘুরতে থাকা কওমের মতো

কেনো আমরা অগ্রসর হতে হতে

আগের স্থানেই ফিরে আসি বার বার।

কোন অজ্ঞাত অসুখের কাছে নিজেদের

নিবেদন করছি আমরা আর বিনোদিত হচ্ছি

মিথ্যে বিনোদনে।

আমাদের এ বিনোদন

সেমেটিক সভ্যতার মতো নিজেদের

ধ্বংস ডেকে আনার বিনোদন।

আমাদের এ বিনোদন

নূহ আলাইহি সালামের প্লাবনের মতো

পাপের প্লাবন ডেকে আনার বিনোদন।

আমাদের এ বিনোদন

এরাফ বৃক্ষের ফলের মতোই বিম্বাদ ও বিষাদের বিনোদন।

আমাদের এ বিনোদন

জাক্কুম যন্ত্রণায় নিজেদের জর্জরিত করার বিনোদন।

আমাদের এ বিনোদন

পিপাসার্ত জাহান্নামীদের গিসকিন পান করার মতো

বমি উদ্রেক হবার বিনোদন।

এসো, আমরা এ বিনোদন থেকে সরে এসে

বিশুদ্ধ মন তৈরি করি।

যেভাবে কামারশালার আগুনে লোহাকে পিটিয়ে

প্রকৃষ্ট উপকরণ তৈরি করা হয়।

এসো আমরা সংযমের কঠিন আগুনে পোড়াই আমাদের

নফসে আম্মারা ও নফসে লাওয়ামাকে।

অতঃপর রূপান্তরিত হই মুৎমায়িন্নায়।

এসো, জবিউল্লাহ হই।

পৃথিবীটা আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে উৎসর্গিত হবার

এক মিনা ময়দান।

এ ময়দানে থেকে নিছক ইচ্ছের ফানুস উড়ানো আমাদের অন্যায়।

নীরব সত্য

শিমুল হোসেন

অন্ধকার যতো ঘন হয়

তত স্পষ্ট হয় মানুষের মুখ,

অন্যায় যতো বাড়ে

ততই জ্বলে প্রতিবাদের সুখ।

ভাঙা হৃদয়ের ভিতরেই

জন্ম নেয় সত্যের আলো,

নির্ভীক পায়ে মুক্তির স্বপ্নে

ভবিষ্যৎ গড়ে তোলায় ভালো।

নিজের পক্ষে জুলেখার জবানি

নোমান সাদিক

আমারে কওয়ার আগে একবার দেইখা নিস তারে

কি সুখ্যে ছিলাম আমি এদ্দিন এই সংসারে

সই গো তোগোর মুখে কত খই ফোটে

কতা তো কওয়াই যায়, মুখ বুইজা তয় বুকের চুলায়

রাইত-দিন তাওয়া পোড়ে, হজম কে পারে!

এই দ্যাখ সারা শইল কি আগুনে পুইড়া অইলো ছাই

এই চোউখ আন্ধা করলো কার রোশনাই?

থেবুসের বালি ফোটে পোড়া দুপুরের কালে খড়ির মতন

আমারে শোওয়ায়া দিলে আমি তার নাম দিব পৌষের নিশির কুয়াশা

যেই কহরের বিষে সর্বনাড়ী তন্তু ছিড়্যা অয় একাকার

আমারে খাওয়াস যদি তার নাম রাখি আবে হায়াতের বাটি

কিন্তু ওই মুখ দ্যাখ, নয়া আপেলের মতো সবুজ বদন

ওই চোউখ ধবধবে মার্বেলের হাম্মামখানায় গভীর ঠান্ডা পানি

ঐ দুধ-আলতা রং সক্কালের, ঐ রং কলঙ্ক সন্ধ্যার

বিরাট আসমান যদি দুইবার হররোজ মাখে, কিছু কি কইলি তারে?

যত পাপ অবলা নারীর!

আজিজ মেছের জানে কত ভারী সোনার শিকলে বান্ধে নারী

কত মোটা পাথ্থরের দেওয়ালে পাতলে কান শোনে না কান্দন

বোতলে আতর হইয়া নীরবে ফুরায়। কচি লালশাক

কেমনে শুকায়া শেষে চুলার হাজালী অয়া যায়

আমি তো বেহায়া স্বরে স্বীকার করছি সব পাপ

তোরা হায়াবতী ক্যান হাতের ছুরিতে কাটলি আঙ্গুল?

হায় হায়! দোষ দিবি কারে!

আল্লাহর ফেরেশতা বইলা পহেলা নজরে তোগো ভুল অইলো যারে

বারোটা বছর এই নজরের করছে কোন হাল?

কি জবাব দিবি তোরা? জানি তো জবাব নাই, ঘুণে খাওয়া ডাল

ধরতে পারে না পাতা, গীবতের লতা তবু বায় জানালায়

ও সই পারি না আর, একটু বুঝাইয়া ক তারে

কি চায়? কেমনে চায়? শর্ত কি? কি তার দাবি?

দরজা আগেই খুইলা নীল নদে ছুইড়া মারছি চাবি

সই গো বুঝাইয়া ক, কইরা থাকলে পাপ

এতকাল পোড়লাম, কিছু তার অয় নাই মাফ!

ডাকুক হে ঘুঘু বইলা, ফাঁদ ছাড়া আমি দিব ধরা

চোউখের পানিতে আমি নিজে অইছি লোদ

আমারে যেমন খুশি তাই যায় গড়া

কিন্তু যদি বুকের ভাটায় এ জুলেখা পুইড়া ইটা অয়া যায়

সই গো বুঝায়া ক তারে,

তহন দেওয়াল অইমু শিকের গরাদ হইমু

কয়েদ করমু তারে এই পোড়া ইটের খাঁচায়।

জলছাপ

জেবুন্নেছা জেবু

জীবন কখনো আকাশ ছোঁয়ার তীব্র নেশা

কখনো মাটির টানে ফিরে আসা,

বেঁচে থাকা এক অদ্ভুত খেলা

সুখ আর দুঃখের ক্রমাগত মেলা।

মাঝে রোদের মতো আসে ভালোবাসা

বুকে বেঁধে দেয় হাজারো স্বপ্নের বাসা,

ভালোবাসায় গলে যায় সব কঠিন পাথর

মনে হয় এই বুঝি কেটে গেল কঠিন প্রহর।

দরজায় যখন কড়া নাড়ে নির্মম বাস্তবতা

মুহূর্তেই মুছে যায় সব স্বপ্নের মাদকতা,

যখন মেলে না কোনো হিসাবের খাতা

ভালোবাসা খোঁজে এক চিলতে নিরাপত্তা।

জীবন মানে আবেগে ভেসে যাওয়া নয়

বাস্তবতার কাঁটাতারে ক্ষতবিক্ষত যখন হয়,

ভালোবাসা টিকে থাকে জলছাপ কঠিন মায়ায়

স্বপ্নরা বাঁচে মনে হয় সব যুদ্ধ নিজের ছায়ায়।