হতাম যদি

আবুল হোসেন আজাদ

হতাম যদি আমি একটি পাখি

আমায় তুমি পেতে কি মা ডাকি ?

শুনতাম না মা তোমার নিষেধ মানা

নীল আকাশে মেলে দিতাম ডানা।

হতাম যদি আমি নদীর মাঝি

ঢেউয়ের সাথে ধরতাম নিত্য বাজি।

ছলাৎ ছলাৎ ঢেউকে করে সাথে

নাও ভাসাতাম বৈঠা ধরে হাতে।

হতাম যদি আমি রাখাল ছেলে

যেতাম কোথাও তোমায় মাগো ফেলে।

খুঁজে খুঁজে তুমি হন্যে হলে

বলতে কোথায় ? আমার দুষ্টু ছেলে।

হতাম যদি আমি প্রজাপতি

করতাম মা কি কারো ক্ষতি?

যেতাম উড়ে ফোটা ফুলে ফুলে

হাওয়ার সাথে নেচে হেলে দুলে।

বৃষ্টি পড়ে

খন্দকার আল মামুন

বৃষ্টি পড়ে হাওয়ার তালে

বাদলা দিনে,

বৃষ্টি পড়ে রুম ঝুমা ঝুম

মধুর বীণে।

বৃষ্টি পড়ে টাপুরটুপুর

টিনের চালে,

বৃষ্টি পড়ে পাতায় পাতায়

গাছের ডালে।

বৃষ্টি পড়ে পুকুর জলে

খালে বিলে,

বৃষ্টি পড়ে গীত কবিতার

ছন্দ মিলে।

বৃষ্টি পড়ে মাঠে ঘাটে

নদীর পাড়ে,

বৃষ্টি পড়ে রাস্তাঘাটে

বন বাদাড়ে।

ভাঙা স্বপ্ন

শাহজাহান মোহাম্মদ

ইট পাথরের খোয়ার মতো

ভাঙা স্বপ্ন ছবি,

ঘণ্টা নাই, দিন যায়

সাক্ষী বোবা রবি।

মাথার ঘাম পা’য়ে ফেলেও

পাই না কোনো দাম

মজুরিতেও রয় ভেদাভেদ

কোথায় আমার নাম?!

বৃষ্টি দেখে ছোট মৃদুল

রানা হোসেন

টাপুর টুপুর বৃষ্টি পড়ে

ছাদে কতো জল,

ঝুমুর ঝুমুর মেঘের সাথে

গাছে দেখ ফল।

গাছের ডালে পাখি দেখে

অনেক রকম রঙ,

রঙধনুতে আকাশ সাজে

ময়ূর দেখায় ঢঙ।

ফুলপরীরা ফুলবাগানে

হেসে হেসে ফোটে,

বৃষ্টি দেখে ছোট মৃদুল

ঘর থেকে রোজ ছুঁটে।

মায়ের আদর

আনোয়ারুল ইসলাম

আয় রে খোকা মায়ের কাছে

একটু আদর দিই

ভালোবাসার পরশ দিয়ে

কোলে তুলে নিই।

আদর স্নেহে বুক ভরা মোর

গল্প আছে মুখে

পরশ ভরা স্নেহের মায়ায়

থাকবে তুমি সুখে।

মায়ের কোলে মিষ্টি বোলে

মজা পাবে বেশ

ঘুম-পাড়ানি গল্প শুনে

ঘুরবে চাঁদের দেশ।

মায়ের বোলে শক্তি অপার

উপদেশের ঢল

আর করিসনে দেরি খোকা

মায়ের কাছে চল।

সততার কদর

এম. আবু বকর সিদ্দিক

সৎ মানুষের চাষ করো ভাই

সৎ এর মূল্য দাও,

সততাকে আপন মনের

অলংকার বানাও।

সৎ লোকেরা সবার প্রিয়

ঘৃণ্য অসজ্জন,

সৎ জীবনের নেই তুলনা

তৃপ্তি ভরা মন।

অসৎ লোকের পালায় পড়ে

হারালে সব গুণ,

সবাই তাকে ধিক্কার জানায়

কাঁচা ঘায়ে নুন।

সৎ মানুষের অভাবে আজ

গোল্লায় গেল সুখ,

যেদিক তাকাই সেদিক যেন

অসৎ লোকের মুখ।

পাঠ্য বইয়ে দাও ছড়িয়ে

সৎ মানুষের গান,

আসবে আবার সুখের নাগাল

বাড়বে জীবন মান।

মায়ের কথা

পঞ্চানন মল্লিক

মায়ের মুখটা দেখে-

লাগে ভীষণ ভালো,

রাইতে যেমন চন্দ্র

দিনে সূর্যের আলো।

মায়ের স্নেহ, মায়ার

হয় না কোনোই তুল,

বড় হওয়ার জন্য

ফোটায় মনের ফুল।

মা

শারমিন নাহার ঝর্ণা

আমার কাছে মা হলো এক

রংবেরঙের ঘুড়ি,

মাকে নিয়ে ইচ্ছে মতো

নীল আকাশে উড়ি।

আমার কাছে মা হলো এক

প্রজাপতির পাখা,

মনের সকল কথাগুলো

নির্ভয়ে যায় রাখা।

আমার কাছে মা হলো এক

রঙিন যাদুর কাঠি,

দু’জন মিলে সকাল বিকাল

করি হাঁটাহাঁটি।

আমার কাছে মা হলো এক

ভালোবাসার বাতি,

কোথাও খুঁজে পাবে নাকো

এমন খেলার সাথী।

গাঁয়ের পথে

এম এ জিন্নাহ

দূর্বাঘাসের সবুজ রেখায়

কত কিছু চোখে দেখায়

চোখ জুড়ে যায় ছন্দে ;

চোখের মাঝে ঘুম আসে না

কৃষ্ণচূড়ার গন্ধে।

ঝাঁক বাঁধানো পাখির মিছিল

কাঁপ ধরালো বিল হতে বিল

বাজছে সেথা ঘণ্টা;

গল্পে জমে দিন হারালো

যায় ভরে যায় মনটা।

শ্যামল মাটির সুবাস টেনে

চাঁদের বুড়ির ইচ্ছে জেনে

ব্যাকুল রাশি রাশি;

মেঘ আকাশে মন ভাসিয়ে

ঝরছে কেবল হাসি।

শীতলপাটি ছড়িয়ে দিয়ে

গাঁয়ের মাঝে জড়িয়ে গিয়ে

মুগ্ধ অবিরত;

গাঁয়ের সকল পথে পথে

স্মৃতি কত-শত।