মীর ফয়সাল নোমান
এক জঙ্গলে একটি খরগোশ এবং একটি হাতি বসবাস করত। খরগোশটি ছিল যেমন বুদ্ধিমান, তেমন সাহসী। আর হাতিটি ছিল খুব অহংকারী। জঙ্গলের পশুপাখি সবাই তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ ছিল। সে যখন যাকে যেভাবে পেত পায়ের তলায় পিষে মারত; এমনকি জঙ্গলের গাছপালা এবং পরিবেশও ধ্বংস করত।
একদিন বনের সকল পশুপাখি তাকে মারার জন্য একজোট হলো। কিন্তু সবাই মিলে চেষ্টা করেও তাকে ঘায়েল করতে পারল না। বরং হাতির সাথে যুদ্ধ করতে গিয়ে বনের রাজা সিংহ নিহত হলো। হাতি অট্টহাসি দিয়ে বলতে লাগল, “আমার সাথে যুদ্ধ করার মতো ক্ষমতা কারও নেই!” সে চিৎকার করে হাসল এবং দম্ভ করে বলল যে, এই জঙ্গলে তাকে হারাবার মতো কেউ নেই। পরদিন খরগোশ লাফিয়ে চলার সময় হঠাৎ একটি গর্তে পড়ে গেল। সে দ্রুত গর্ত থেকে উঠে এল এবং তার মাথায় একটি দারুণ বুদ্ধি খেলে গেল। সে তার কিছু খরগোশ বন্ধু এবং বনের অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে একটি বড় গর্ত খুঁড়ল এবং সেই গর্তের ওপর ঘাস ও লতাপাতা বিছিয়ে দিল।
কিছুক্ষণ পর খরগোশ সেই হাতির কাছে গেল। দেখল হাতিটি ঘুমাচ্ছে।
সে হাতির গায়ে সুড়সুড়ি দিতেই হাতির ঘুম ভেঙে গেল। তখন খরগোশ হাতিকে ভেঙচি কাটল। হাতি রেগে গিয়ে তাকে ধরার জন্য পিছু নিল। দৌড়াতে দৌড়াতে একপর্যায়ে খরগোশ সেই মরণফাঁদের কাছে পৌঁছে গেল। খরগোশ এক লাফে ফাঁদটি পার হয়ে গেলেও হাতি সেই লতাপাতার ওপর পা রাখা মাত্রই হুরমুড় করে গর্তের ভেতর পড়ে গেল। হাতি ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার করতে লাগল। তখন জঙ্গলের সমস্ত প্রাণী মিলে তার মাথায় ঢিল এবং বড় বড় পাথর ছুড়ে মারতে লাগল। সেখানেই হাতিটি মারা গেল। হাতি তার অহংকারের ফল হাতে-নাতে পেল।
বুদ্ধিমান খরগোশ তার বুদ্ধির জোরে জঙ্গলের সকল প্রাণীকে অহংকারী হাতির হাত থেকে রক্ষা করল। এরপর থেকে জঙ্গলে সবাই সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।