প্রাসঙ্গিক ভাবনা

॥ ড. মো. নূরুল আমিন ॥

॥ চতুর্থ কিস্তি ॥

গত কিস্তিতে আমরা বলেছিলাম যে, বর্তমান বিশ্বে পুনঃগঠিত পাকিস্তান বিশ্বের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর একটি দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং জ্ঞান ও প্রযুক্তির দিক থেকে অগ্রগামী ভূমিকা পালন করারও জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং এক্ষেত্রে সরকার ও বিরোধীদল উভয়ের লক্ষ্যই এক বলে আমার মনে হয়েছে। আবার দায়ী ও দ্বীনি প্রতিষ্ঠান এবং ইসলামী আন্দোলনের পতাকাবাহী রাজনৈতিক দল হিসেবে পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামী, তার সেবা সংস্থা আল খেদমত ফাউন্ডেশন, আর রাহমা, আইপিএস, ইসলামী রিচার্স একাডেমি প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও অনন্য। এক্ষেত্রে ‘বোনো কাবেল’ কর্মসূচি সম্পর্কে আমরা নাতিদীর্ঘ আলোচনাও করেছি।

প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পাকিস্তান কর্তৃক গৃহীত আরেকটি ব্যবস্থায় আমি আশান্তিত বোধ করছি। এই ব্যবস্থাটি হচ্ছে সারা দেশে ক্যাশলেস বাজারের প্রচলন। এই পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে ইসলামাবাদের এইচ-৯ সেক্টরের সানডে মার্কেটে চালু করা হয়। উদ্দেশ্য জাতীয় অর্থনীতিকে ডিজিটালাইজ করে যথাশীঘ্র উন্নয়নের মহাসড়কে পৌঁছে দেয়া। এই ক্যাশলেস পদ্ধতিটি কয়েক মাসের মধ্যেই রাওয়ালপি-িসহ সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে। এই পদ্ধতি ব্যবহারে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তানের রাষ্ট্র পিটু এম কিউ আর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যা কাস্টমাররা ব্যাঙ্কের যেকোনো স্ট্যান্ডার্ড এপ বা মোবাইল ওয়ালেট ব্যবহার করে কোর্ডটি স্ক্যান করার মাধ্যমে লেনদেন করতে সক্ষম। এজন্য কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংকসমূহ এবং সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো ভোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি কর্পোরেশন এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতাও প্রদান করছে। এই পদ্ধতিটি চালু করার উদ্দেশ্য হচ্ছে বহুবিধ, যেমন খুচরা বাণিজ্যে আনুষ্ঠানিকতা আনয়ন, কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তির উন্নয়ন, নগদ টাকা বহনের ঝুঁকি হ্রাস ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। তবে এর কিছু কিছু চ্যালেঞ্জেরও তারা মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমনÑ মোবাইলের দুর্বল সিগন্যাল, ইন্টারনেটের দুর্বল স্পিড। এ সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পাবলিক ওয়াইফাই কাঠামো শক্তিশালী করার জন্য টেলিযোগাযোগ কর্তৃপক্ষের সাথে তাদের কর্মসূচির নিয়মিত সমন্বয় সাধনও করছেন।

ক্যাশলেস লেনদেন বাংলাদেশে যে শুরু হয়নি তা নয়। হোটেল, রেস্তোরাঁ, সুপার স্টোরসহ বিভিন্ন স্থানে আমরাও ক্যাশলেস লেনদেন করছি সন্দেহ নেই। তবে পাকিস্তানে রীতিমতো আনুষ্ঠানিক হাট বসিয়ে যেভাবে ডিজিটাল মার্কেট পরিচালিত হচ্ছে তা দৃষ্টি কাড়ার মতো। পাকিস্তানের আনুষ্ঠানিক ব্যাঙ্কিং পদ্ধতির রিটেইল লেনদেনের প্রায় ৯২ শতাংশ লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে হয় এবং এটা সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একাগ্রতার ফল।

পূর্ববর্তী এক আলোচনায় আমি বলেছিলাম যে, পাকিস্তান শুধু একটি দেশের নাম নয়, একটি আদর্শ, একটি চেতনা ও উচ্ছ্বাসেরও নাম। আরো বলেছিলাম যে, ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট স্বাধীন পাকিস্তানের জন্ম হওয়ার আনন্দে-উচ্ছ্বাসে উদ্বেলিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার নোয়াখালী জেলার কোম্পানিগঞ্জ জেলার বামনী হাইস্কুলের নি¤œ বেতনভুক্ত সাধারণ একজন দফতরি সারাদ্দিন পাকিস্তান জিন্দাবাদ স্লোগান দিয়ে রাস্তায় রাস্তায় দৌড়িয়েছিলেন যার জন্য তার পিতৃপুরুষের দেয়া মোহাম্মদ ইদ্রিস নাম বাদ দিয়ে স্থানীয়রা তার নাম রেখেছিলেন পাকিস্তান। ১৯৭২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের প্রথম ব্যাচের একজন সদস্য হিসেবে নোয়াখালীর হাতিয়ায় আবাসিক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টর হিসেবে আমি নিয়োগ পেয়েছিলাম। এডভোকেট আবদুল মান্নান নামে একজন উকিল আমার আদালতে ওকালতি করতেন। তিনি এতই পাকিস্তান ভক্ত ছিলেন যে, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পতনকে মেনে নিতে পারেননি। সেখানে আমি সাড়ে তিন বছর ছিলাম। আমার কাছে অভিযোগ আসতো যে, প্রতি বছর ১৪ আগস্ট তিনি তার বাড়িতে বাংলাদেশের পতাকার পাশাপাশি পাকিস্তানের পতাকাও উত্তোলন করতেন।

বলা নিষ্প্রয়োজন যে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বরের পর নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশে পাকিস্তান নামটির পাশাপাশি-এর প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, আল্লামা ড. স্যার মোহাম্মদ ইকবালসহ পাকিস্তান আন্দোলনের অগ্রণী সেনাদের নামও হারাম হয়ে যায়। তাদের নামের প্রতিষ্ঠিত সড়ক ও প্রতিষ্ঠানসমূহের নামও রাতারাতি পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যক্তিদের নামে রাখা শুরু হয়। ঢাকার সিটি সেন্টার নামে পরিচিত গুলিস্তানের জিন্নাহ এভিনিও বঙ্গবন্ধু (শেখ মুজিব) এভিনিও বনে যায়। লক্ষ্মীবাজারে কায়েদে আজম কলেজের নামকরণ করা হয় শহীদ সৌহরাওয়ার্দি কলেজ, তার পার্শ্ববর্তী আলিয়া মাদরাসার পরিত্যক্ত ভবনে স্থাপিত ইসলামিক ইন্টারমিডিয়েট কলেজের নাম বদলে করা হয় নজরুল কলেজ। চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের আল্লামা ইকবাল রোডের নাম পরিবর্তন করে শেখ মুজিব রোড করা হয়। নাম পরিবর্তনের এই তা-ব সারা দেশে চলতে থাকে। চট্টগ্রাম সিটি কলেজ গেটের ওপর কালেমায়ে তৈয়ব খচিত ব্যানারও তারা খুলতে গিয়েছিলেন। কিন্তু কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ও স্থানীয় ছাত্র-জনতার তাড়া খেয়ে তারা পালাতে বাধ্য হয়েছিল। ষোল ডিসেম্বর উত্তর সময়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা মুক্তি বাহিনী ও মুজিব বাহিনীর নাম ধারণ করে লাখ লাখ পাকিস্তানপন্থী আলেম-ওলামা, ছাত্র, রাজনীতিক ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছিল যার জের এখনো চলছে। পাকিস্তান সফরকালে অন্যান্য বিষয়ের সাথে যে বিষয়টি আমাকে মুগ্ধ করেছে তা হচ্ছেÑ দেশটির প্রতিষ্ঠাতা কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি পাকিস্তানির অকুণ্ঠ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। এই দেশটিতে আইয়ুব, ইয়াহিয়ার মতো সামরিক স্বৈরাচার অথবা ভুট্টোর মতো কট্টরপন্থী শাসক থাকলেও তাদের কেউই ‘জাতির জনক’ বা ‘কায়েদে আজম’ হবার খায়েস পোষণ করতেন না। বাংলাদেশের অবস্থা ভিন্ন। এখানে জাতির পিতা বলতে গিয়ে কেউ কেউ ‘জুতার ফিতার’ তুল্য বলে গণ্য হয়েছেন। আবার স্বাধীনতার ঘোষক নিয়ে বিতর্ক ছয় দশকেও শেষ হয়নি। রাজাকার, আলবদর, আল সামস, পাকিস্তানী ও হিন্দুস্তানী দালালের গালি তো আছেই। গত কিস্তির লেখায় আমি কিছু ঐতিহাসিক তথ্য দেয়ার চেষ্টা করেছিলাম। তা পড়ে আমার এক বন্ধু আমাকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন। আমি আসলে তা নই, নিছক একজন সাংবাদিক গবেষক। সাংবাদিকের কাজ হচ্ছে ঘটমান বর্তমান খুঁজে বের করে বিশ্লেষণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথ উন্মোচন। ঐতিহাসিকের কাজ হচ্ছে ঘটে যাওয়া অতীতের অনুসন্ধান, বিশ্লেষণ এবং ভুলত্রুটি নিরসনের মাধ্যমে ভবিষ্যতের পথকে নিষ্কণ্টক করে জাতিকে সামনে এগিয়ে চলার আলোকবর্তিকার সন্ধান দান। এ প্রেক্ষিতে উভয়ের কাজই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সমস্যা হচ্ছে, আমাদের ইতিহাস আমরা লিখতে পারি না, যারা লিখেন তারা আমাদের প্রতি বন্ধুসুলভ নন।

পাকিস্তান সফরের কথা বলছিলাম। এই সফরে এসে অন্যান্য কবর বলুন আর মাজার বলুন কিংবা দর্শনীয় স্থান, তাতো আছেই, অন্তত তিনটি অপরিহার্য স্থান জিয়ারত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করি। এগুলো হচ্ছে: ১. মাজারে কায়েদে আজম ২. আল্লামা ইকবালের মাজার এবং ৩. আল্লামা মাওলানা সাইয়েদ আবুল আ’লা মওদুদীর মাজার।

কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৮৭৬ সালের ২৫ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৪৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

করাচীর সেন্টাল জেকব লাইন্স-এর এমএ জিন্নাহ রোডে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহকে কবর দেয়া হয়। এই স্থানটির আরেকটি নাম হচ্ছে- জামশেদ কোয়ার্টার। তার এই কবর বা মাজারের উপরই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করা হয়েছে। এই সৌধের স্থপতি ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার ইয়াহিয়া সি, মার্চেন্ট। ১৯৬০ সালের ২৮ জানুয়ারি এর মৌলিক ডিজাইন প্রণয়নের কাজ শেষ হয় এবং একই বছর ৮ ফেব্রুয়ারি কাজ শুরু হয় এবং ৩১ জুলাই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

স্মৃতিসৌধটি আধুনিক ও গতানুগতিক ইসলামী ঐতিহ্যের ধারার সমন্বয়ে গঠিত একটি স্থাপত্য, অত্যন্ত দৃষ্টিনন্দন। বাবে তাজীমের বিপরীত দিকে অবস্থিত আফফাফ এন্টারপ্রাইজেজ নামক একটি বেসরকারি প্রকৌশল ও ব্যবস্থাপনা সংস্থা মাজারে কায়েদে আজমের স্মৃতিসৌধটির সর্বাঙ্গীন দেখাশোনা ও তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পালন করেন। একজন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সৈয়দ আতাহার মীর প্রকল্প ব্যবস্থাপকের দায়িত্বে আছেন।

অত্যন্ত মৃদুভাষী, ভদ্র, ন¤্র এবং নিষ্ঠাবান এই মেজর সাহেব ১৯৭১ সালে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে একজন কর্তব্যরত কর্মকর্তা ছিলেন। আমাদের পেয়ে তার উচ্ছ্বাস ফেটে পড়েছিল। তিনি তার ক্যান্টনমেন্ট জীবনে সিনিয়র সহকর্মী কর্নেল অলি আহমদের (বর্তমানে ড. অলি ও একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান) ভূয়সী প্রশংসা করলেন এবং ভারতীয় বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণের দলীলে স্বাক্ষর করার আগে জেনারেল নিয়াজির আত্মহত্যা করা উচিত বলে মন্তব্য করনে। মেজর সাহেব এখনো সাবেক পূর্ব পাকিস্তান ও বর্তমান বাংলাদেশের মানুষকে তাদের রক্তের ভাই হিসেবে বিবেচনা করেন বলে জানান এবং ’৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানীদের প্রতি অত্যাচার অবিচারের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি স্মৃতিসৌধটি আমাদের ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখান। তিনি না থাকলে হয়ত জিন্নাহ সাহেবের আসল কবর আমাদের পক্ষে দেখা সম্ভব হতো না। কেননা স্মৃতিসৌধটির সমতলের থেকে ভিত্তি হচ্ছে ৯র্০ী৯র্০ এবং ধীরে ধীরে তা উপরে গিয়ে ৮র্২ী৮র্২ এ স্থিতি লাভ করেছে। ভিত্তিমূলে আছে কায়েদে আজমসহ ৬ জন বিশিষ্টজনের কবর। এরা হচ্ছেন- কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কায়েদে মিল্লাত ফাতেমা জিন্নাহ, কায়েদে আজমের বোন মোহতারামা শিরীন বাই, পাকিস্তানের প্রথম ও অষ্টম প্রধানমন্ত্রী যথাক্রমে নবাবজাদা লিয়াকত আলী খান এবং জনাব নূরুল আমিনের কবর রয়েছে। এখানে পেশোয়ারের প্রভাবশালী মুসলিম লীগ নেতা, এককালের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও পাঞ্জাবের গভর্নর সরদার আবদুর রব নিশতারের কবরও রয়েছে। জিন্নাহ সাহেবসহ প্রত্যেকের কবরের ওপর তাদের নাম ও মৃত্যু দিবস বাংলা ও উর্দু উভয় ভাষায় খচিত রয়েছে। এই কবরগুলো একটি বড় হল ঘরের মধ্যে অবস্থিত; হলটি উত্তর দিকে সম্প্রসারিত এবং এই সম্প্রসারিত অংশে কায়েদে আজমের ব্যবহৃত ব্যক্তিগত ও সরকারি বস্তু সামগ্রী রয়েছে। এছাড়াও আগে তাকে বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন সময়ে প্রদত্ত অভিনন্দনপত্র, দাবিনামা, উপহারসামগ্রী, দু’টি গাড়ী (একটি তার ব্যক্তিগত, আরেকটি গভর্নর জেনারেল হিসাবে ব্যবহৃত কার, সরকারি গাড়ী), পোশাক পরিচ্ছদ, জুতা, ডাকটিকেট, বাংলা ও উর্দু ভাষায় প্রিন্ট করা পাকিস্তানী মুদ্রা/নোট, স্টেশনারী সামগ্রী, আসবাবপত্র, আয়না, খেলার সামগ্রী, চুরুট, ছাইদানী প্রভৃতি। এসব সামগ্রী কায়েদে আজমের বোন শিরীন বাই স্মৃতিসৌধের নামে স্বেচ্ছায় দান করেছেন।

স্মৃতিসৌধটির মোট আয়তন ছিল ১৩১.৭১৮ একর। ১৯৭১ সালের শেষের দিকে জুলফিকার আলী ভুট্টো ক্ষমতা গ্রহণের পর সন্নিহিত রাস্তার জন্য ছেড়ে দেন। ফলে বর্তমানে স্মৃতিসৌধের গ্রীল বাউন্ডারীর অভ্যন্তরের জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬১.২৫০ একরে। সৌধটি নির্মাণ করতে ২১২০০ ঘনফুট মার্বেল পাথর ৬ হাজার টন সিমেন্ট, ৫০০ টন স্টীল, ১২ টন তামা, ১৯১৬৫৬ গ্রাম রূপা ব্যবহৃত হয়েছে। নীচতলা থেকে ছাদ পর্যন্ত এর উচ্চতা ১০০ ফুট, গম্বুজের অভ্যন্তরীণ ব্যাসার্ধ ৭০ ফুট ৭০ ফুট এবং বাইরের ব্যাসার্ধ ৭২ ফুট, উপরের তলায় গম্বুজের নীচে একটি ডামি কবর আছে, মূল কবর নীচে। মেজর আতাহার মীর সাহেবকে তার সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ। (চলবে)