॥ ইবনে হাসান ॥

‘জন্মিলে মরিতে হবে রাখিও স্মরণ’-মানুষসহ সকল প্রাণিই মরণশীল। মৃত্যুর হাত থেকে কারো রেহাই নেই। বলা হয়েছে, প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। সবাই তো মৃত্যু থেকে পলিয়ে বেড়াতে চায়। তবে যেখানেই পালিয়ে যাক না কেন মৃত্যু স্বয়ং তার সামনে গিয়ে হাজির হবে। আকাশ-পাতাল বা দুর্ভেদ্য সিন্দুকের মধ্যে আত্মগোপন করেও কেউ বাঁচতে পারবে না। মৃত্যুর সময় নির্ধারিত। এর কোনো সিরিয়াল নেই। যদিও জন্মের সিরিয়াল আছে। মৃত্যু শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ চেনে না। জন্মের সাথে সাথেই মৃত্যুর ছায়া অবিচ্ছেদ্য অঙ্গের মতো মানুষের সাথেই জড়িয়ে থাকে। মৃত্যুর জন্য সময় নির্ধারিত। সময় ফুরিয়ে গেলে এক সেকে-ও কম-বেশি হয় না। মৃত্যুর কালো থাবা জীবন প্রদীপটা নিভিয়ে দেয়। আমরা সাধারণত বলি, বয়স বাড়ে। কথাটা আসলে ভুল। কারণ বয়স তো নির্ধারিত। সুতরাং বরফ যেমন গলে গলে নিঃশেষ হয়, বয়সও তেমনি কমতেই থাকে, বাড়ে না। মৃত্যু শিশু-কিশোর-যুবক-বৃদ্ধ দেখে না। নির্ধারিত সময়ে এসে হাজির হয় এবং যার আয়ু শেষ হয়ে যায় নির্দয়ভাবে তার প্রাণটাকে হরণ করে নিয়ে যায়। যিনি এ কাজটি করেন তিনি হলেন মালাকুল মউত। আমরা যাকে আজরাইল বলে জানি। তার মধ্যে দয়ামায়া বলে কিছুই থাকার কথা নয়। সে কারণে তার নাম শুনলে সবাই আৎকে ওঠে। তবে আজরাইলেরও একদিন কঠিন মৃত্যু হবে। সকল প্রাণির প্রাণ প্রদীপ নিভিয়ে দেয়ার পরই আসবে তার পালা। মহামহীম আল্লাহ পাকের হুকুমে আজরাইলের ভয়াবহ মৃত্যু হবে। সবশেষ হয়ে গেলেও বাকি থাকবে চিরন্তন, শ্বাস্বত, সর্বসত্তার ধারক মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন। একমাত্র তিনি ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। মানুষ ও জিন তিনিই সৃষ্টি করেছেন। কর্মে কে উত্তম সেটা পরীক্ষার জন্য। অতএব আমাদের জীবন পরীক্ষার জীবন। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনে সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছেÑ সময়। সময়ের যথার্থ ব্যবহারের ওপরই চূড়ান্ত সাফল্য ও ব্যর্থতা নির্ভর করে। তাই মৃত্যু এসে হাজির হওয়ার আগেই সময়কে কাজে লাগিয়ে সাফল্যের সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে হবে। মৃত্যু কাউকে ছাড় দেয় না, ছেড়েও দেয় না। মৃত্যু নির্মম, নিষ্ঠুর, ভয়ঙ্কর।

অবুঝ শিশুদের সামনে থেকে পিতা-মাতাকে কেড়ে নেয়। তাদেরকে অসহায়, এতিম বানায়। পিতা-মাতার সামনে থেকে শিশু-কিশোর-যুবক সন্তানদের কেড়ে নেয়। পিতার কাঁধে সন্তানের লাশ আর সন্তানের কাঁধে পিতার লাশের চেয়ে ভারী আর কী হতে পারে। এমন ভয়াবহ বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়া নিত্যকার ঘটনা। পিতা-মাতা হারিয়ে ইতোপূর্বেই এমন বাস্তবতার স্মৃতি বহন করে চলছি।

সম্প্রতি একটি দোয়া ও স্মরণ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলাম। খ্যাতিমান ব্যক্তিত্ব সাবেক মন্ত্রী সৈয়দ দীদার বখতের একমাত্র পুত্রসন্তান উপল বখত কয়েকদিন আগে আকস্মিক ইন্তিকাল করেছেন। সুস্থ অবস্থায় বাসা থেকে বের হয়ে মেট্রোরেলে গন্তব্যে যাওয়ার পথে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি। দুনিয়ার সফর শেষ করে মহান প্রভুর ডাকে সাড়া দিয়ে সকল মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে সন্তানহারা, স্ত্রীকে স্বামীহারা ও স্বীয় সন্তানদের এতিম করে চলে গেলেন চিরদিনের জন্য। উপল একজন মেধাবী, সজ্জন, বন্ধুবৎসল, বিনয়ী মানুষ ছিলেন বলেই সকলের জানা। বার্ধক্যকালে নয়নমণি কলিজার টুকরো একমাত্র পুত্র সন্তানকে হারিয়ে জনাব দিদার বখত ও তার স্ত্রী শোকে পাগলপ্রায়। অনেক আগেই ৮০ পার করেছেন তিনি। প্রিয় সন্তান বয়স্ক পিতামাতার নিদানকালের অবলম্বন। সে অবলম্বন যদি হারিয়ে যায় তাহলে তাদের বেঁচে থাকাও মৃত্যুর যন্ত্রণার চেয়েও কঠিন। দোয়া মাহফিলে দাঁড়িয়ে বখত সাহেবের বুকফাটা আর্তনাদ উপস্থিত সবাইকে বেদনা ভারাক্রান্ত করেছে।

সৈয়দ দিদার বখত একজন নিবেদিতপ্রাণ সমাজসেবী। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে সম্পৃক্ত থেকে নিরলসভাবে মানুষের জন্য কাজ করছেন। নিজেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। অত্যন্ত সদালাপী মানুষ। সকলের সাথেই প্রাণখুলে কথা বলেন। অনেক মানুষের কষ্ট লাঘবের জন্য সহায়তার হাত বাড়ান। বুকের মানিককে হারিয়ে তিনি অসহায়ত্বের সাগরে ভাসছেন। তাকে আজ সান্ত¡না দেবে কে? সান্ত¡নার সকল ভাষা ও শব্দ ডিক্সনারি থেকে যেন হারিয়ে গেছে। তার বেদনাভারাক্রান্ত শোকাহত চেহারার দিকে তাকালে বুকটা দুমড়ে-মুচড়ে ওঠে। উপলকে স্মরণ করে দোয়া মাহফিলে সাংবাদিক গৃহসংস্থান সমবায় সমিতির সভাপতি আব্দুল আউয়াল ঠাকুরসহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। বিশেষ করে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকারমের সিনিয়র পেশ ইমাম মুফতী মাওলানা মিজানুর রহমানের বক্তব্য ছিল অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী। তার ভাষায় অনিবার্য মৃত্যু থেকে কারো নিষ্কৃতি নেই। সুতরাং মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি থাকতে হবে। যেহেতু মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টির মূল উদ্দেশ্যই হলো পরীক্ষায় অবতীর্ণ হওয়া। মহান প্রভু যাচাই করতে চান পার্থিব জীবনে কর্মে কে উত্তম। আখিরাতের আদালতে সবাইকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। পাপ-পুণ্যের হিসাব-নিকাশ হবে। বিচারে উত্তীর্ণরা অর্থাৎ পুণ্যবানরা জান্নাতে যাবে আর পাপীরা দোযখের আগুনে জ্বলবে। মৃত্যুর কথা সদা স্মরণে থাকলে ও শেষ বিচারে বিশ্বাসী হলে ক্ষণস্থায়ী জীবনটাকে মানুষ পাপ-পঙ্কিলতার পথ পরিহার করে পুণ্যময় জীবন গড়ে তোলার তাকিদ ও প্রেরণা লাভ করে। গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিয়ে ধ্বংসের ও ব্যর্থতার পথে পা বাড়ায় না।

জীবন কুসুমাস্তীর্ণ নয়। বাধা-বিপত্তি, কষ্ট-ক্লেশ, রোগ-শোক নানা অশান্তির মধ্য দিয়েই মানুষকে চলতে হয়। ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথেই সব মোকাবিলা করতে হবে। হতাশ হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। হতাশা ব্যর্থতাই ডেকে আনে। অতএব সবর বা ধৈর্য্যরে কোনো বিকল্প নেই। সর্বাবস্থায় ধৈর্য্য, সাহসিকতা ও আল্লাহ পাকের ওপর অবিচল আস্থা ও ভরসা নিয়ে চলতে হবে। তাহলে ব্যর্থতা স্পর্শ করতে পারবে না। পরিষ্কার বলে দেয়া হয়েছে, আল্লাহ পাক ধৈর্য্যশীলদের সঙ্গী। সর্বশক্তিমান আল্লাহ যদি কারো সঙ্গী হয়ে যান তার মোকাবিলায় এমন কোনো শক্তি নেই যে কেশাগ্র স্পর্শ করতে পারে।

সুতরাং যত দুঃখ-বেদনা, কষ্ট-ক্লেশ আসুক সর্বাবস্থায় সবর করতেই হবে। তা না হলে ইহকাল-পরকাল দুটোই যাবে। মৃত্যুর সাথে দুনিয়ার সব সম্পর্ক ও অভাব-অভিযোগ, চাহিদার যবনিকাপাত ঘটে। কিন্তু পরকালের অনন্ত জীবনের শুরু আছে শেষ নেই। তাই মৃত্যু পরবর্তী জীবনটাকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে। এ ব্যাপারে অসতর্ক হলে আম-ছালা সবই যাবে। আখিরাতের সম্বল এখান থেকেই সংগ্রহ করে নিতে হবে। কিন্তু দুনিয়ার লোভনীয়-মোহনীয়, চাকচিক্যময় রূপ আমাদের গাফেল করে ভুলিয়ে রাখে। মৃত্যুকালে প্রকৃত সত্যটা সামনে আসবে। তখন আকুতি-মিনতি, অনুনয়-বিনয় করে আর একটু সুযোগের জন্য সময় ভিক্ষা চাওয়া হবে। তবে সব আবেদন-নিবেদন নির্মমভাবে প্রত্যাখ্যান করা হবে। তখন কোনো প্রার্থনাই আমলে নেয়া হবে না। যারা নিজেকে নিজের প্রতিপক্ষ বানিয়ে সময়কে সতর্কতার সাথে কাজে লাগিয়ে হিসাব করে চলেছে আত্মার পরিশুদ্ধি অর্জন করেছে। বিশ্বাসে অটল-অবিচল থেকেছে তাদের জন্য দুশ্চিন্তা ও দুর্ভাবনার প্রয়োজন নেই। তারাই সফলকাম অনন্ত জীবনের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য, আরাম-আয়েশ ও অশেষ নেয়ামত লাভে ধন্য হবে। পার্থিব জীবনে কোনো দুঃখ-কষ্ট, ব্যথা-বেদনার কথা তারা নেয়ামতের প্রাচুর্য্য দেখে একদম ভুলে যাবে। যারা সত্যিকার বিশ্বাসী, দুনিয়াতে তাদের পরীক্ষা একটু বেশিই কঠিন হয়। আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয় নবী-রাসূলগণও পরীক্ষার মুখোমুখি হয়েছেন। ঈমানের মজবুতী অর্জনের মাধ্যমে সাফল্যের সিংহদ্বারে পৌঁছানোর জন্যই এ পরীক্ষা। পরীক্ষা না দিয়ে কি পাসের চিন্তা করা যায়। জিন্দাদীল মর্দেমুমিনরা এটাকে সাদরে আলিঙ্গন করে। এ পরীক্ষা হলো মূলত ধৈর্য্য বা সবরের পরীক্ষা।

আমরা সকলেই আল্লাহর জন্য এবং তার নিকট ফিরে যেতে হবে। চূড়ান্ত ফয়সালার দিন তার সামনে গিয়ে দাঁড়াতে হবে এবং গোটা জীবনের প্রতিটি কাজের হিসাব দিতে হবে। পৃথিবীর সবকিছুই তো আল্লাহর সৃষ্টি। দৃশ্যমান আর অদৃশ্যমান যত সম্পদ সবই আল্লাহর দান, তারই নিয়ামত। আলো-বাতাস, আগুন-পানি-মাটিসহ সবই তার দান। তার নিয়ামতের বাইরে কিছুই নেই, তার শুকুর-গুজারি করে এসব নিয়ামতের কদর করতে হবে, তার হুকুমমতো ভোগ ব্যবহার করতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে আখিরাতের আদালতে কঠিনভাবে ধরা পড়তে হবে। কোনো রক্ষা থাকবে না।

দুনিয়াতে আল্লাহ বান্দাকে নানাভাবে পরীক্ষা করেন। কাউকে বেশি নেয়ামত দিয়ে আবার কাউকে কম নেয়ামত দিয়ে তিনি পরীক্ষা করে থাকেন। নেয়ামত দানের পর আবার অনেকের কাছ থেকে ছিনিয়েও নেন। এটা আল্লাহর মর্জি। তিনি দিতে পারেন, নিতেও পারেন। কেননা এটা তো তারই আমানত। তিনি চাইলে নিয়ে যাবেন। কারো বলার সুযোগ নেই, থাকতেও পারে না। দেখার বিষয় হলো আমরা তার নিয়ামতের কতটা মর্যাদা রক্ষা করতে পেরেছি। মহান প্রভুর সব নিয়ামতের মধ্যে পিতা-মাতার নিকট সন্তান আর সন্তানের জন্য পিতা-মাতার চেয়ে বড় নিয়ামত আর কি হতে পারে। মাতা-পিতাকে কেড়ে নিয়ে সন্তানকে এতিম বানিয়ে দেয়া হয়, আর কলিজার টুকরো সন্তানকে যদি পিতা-মাতার কোল থেকে নিয়ে যাওয়া হয়, তার চেয়ে মর্মান্তিক বিষয় আর কিছুই হতে পারে না। কোনো পিতা-মাতার পক্ষে শিশু-কিশোর বা যুবক সন্তানকে হারানোর সকল ব্যথা ও যন্ত্রণা অতি তুচ্ছ ও ম্লান। সন্তানহারা পিতা-মাতার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে, পায়ের তলার মাটি সরে যায়, হৃদয় ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। সান্ত¡না দানের সকল ভাষা স্তব্ধ হয়ে যায়। অবশ্য একজন বিশ্বাসীর জন্য এমন কঠিন পরিস্থিতিতেও মহাসুসংবাদ রয়েছে মহান রাব্বুল আলামিনের পক্ষ থেকে। পরীক্ষা যত কঠিন পুরস্কারও ততো বড়। কেউ যদি এভাবে নিজেকে সান্ত¡না দেন যে, আল্লাহ আমানত হিসেবে যে নেয়ামত দিয়েছিলেন তার সে নেয়ামত ফিরিয়ে নিয়েছেন অতএব অভিযোগের কিছু নেই। বুকে পাথর বেঁধে আল্লাহর মর্জির ওপর আত্মসর্ম্পণ করে এবং কঠিন ধৈর্য্য অবলম্বন করে আল্লাহ অবশ্যই তাকে সর্বোত্তম পুরস্কার দানে ভূষিত করবেন।

হযরত ইয়াকুব (আ.) প্রিয় ইউসুফকে হারিয়ে বহুকাল ধরে শোকে মুহ্যমান ছিলেন। শোকে কান্নাকাটি করে দৃষ্টিশক্তি পর্যন্ত হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু ধৈর্য্যহারা হননি। সম্পূর্ণরূপে আল্লাহর ইচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছিলেন। পরে আল্লাহপাক মিলিয়ে দিয়েছিলেন ইউসুফকে। তার সে ধৈর্য্যকে উত্তম ধৈর্য্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে।

রাসূলে পাক (সা.)-এর সাহাবাদের (রা.) জীবনেও ধৈর্য্য অবলম্বনে বহু জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত রয়েছে। এক সাহাবীর ঘটনা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সন্তানকে অসুস্থ রেখে স্ত্রীকে তার তালাফি করতে বলে বাইরে কোথাও গিয়েছিলেন। স্বামী বাইরে থাকতে সন্তানটি মারা যায়। রাতে ফিরে এসে স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলেন, সন্তানটি কেমন আছে? ক্লান্ত-শ্রান্ত স্বামীকে তিনি শোকাহত করতে চাননি। তাই বললেন, সে আরামেই আছে। তারপর আদর করে স্বামীকে খাওয়া-দাওয়া করালেন। পরে কথাবার্তার এক পর্যায়ে বললেন, কেউ যদি তার আমানত ফেরত নিয়ে যায় তাহলে কি কোনো আপত্তি থাকতে পারে? স্বামী বললেন, না তা থাকবে কেন। তখন স্ত্রী তাকে সন্তানের মৃত্যুর খবর জানালেন। বর্ণিত সাহাবী তখন রাসূলকে (সা.) স্ত্রীর এমন আচরণের কথা জানালেন। রাসূল পাক (সা.) ঘটনা শোনার পর তাদের জন্য দোয়া করলেন। দোয়ার বরকতে পরে তারা আরো ৭টি সন্তান লাভ করেন। সন্তানরা সকলেই ছিলেন হাফেজে কুরআন ও গুণবান ব্যক্তি। এছাড়াও দুনিয়াতেই আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আরো অনেক সুখ-সমৃদ্ধি দান করেছিলেন। আখিরাতের পুরুস্কার তো রয়েছেই। বর্ণিত মহিলা সাহাবী ধৈর্য্যরে যে চরম পরাকাষ্ঠা দেখিয়েছিলেন তা এক অমর ও বিরল দৃষ্টান্ত।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।