॥ সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা ॥
জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের পতন হলেও তাদের রেখে যাওয়া দুষ্টক্ষত বা অপছায়া দেশ ও জাতির পিছু ছাড়ছে না। দেশের বর্তমান তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মূল কারণ মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকা-, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন হ্রাস এবং আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির মূল্যবৃদ্ধি মনে করা হলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তারা বলছেন, দেশে তৈরি হওয়া নজিরবিহীন গ্যাস ও জ্বালানি সঙ্কট কোনো আকস্মিক কারিগরি বিপর্যয় বা প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়; বরং এটি বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে সংঘটিত ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছ চুক্তি এবং সরকার সংশ্লিষ্টদের অন্যায্য রাজনৈতিক প্রভাবের প্রত্যক্ষ পরিণতি।
অভিযোগ উঠেছে, ফ্যাসিবাদী সরকারের বিগত মেয়াদে তড়িঘড়ি ও নিয়মবহির্ভূতভাবে করা কিছু চরম অস্বচ্ছ জ্বালানি চুক্তির ফলে আজ দেশের শিল্প খাত, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন চরম হুমকির মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে হবিগঞ্জ ছাড়াও নরসিংদী, মাধবদী, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, সাভার ও আশুলিয়ার বস্ত্র, ডাইং, প্রিন্টিং ও রি-রোলিং মিলগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশের উৎপাদন বন্ধ বা অর্ধেকের নিচে নেমে গেছে। বিএসআরএম-এর মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় ইস্পাত কারখানা তাদের ১০টি প্রধান কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হওয়ায় দেশীয় নির্মাণ খাতও থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি (প্রায় ৩৭%) আসে মহেশখালীর দু’টি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসএআরইউ) থেকে। যার একটি পরিচালনা করে দেশীয় কোম্পানি ‘সামিট’ এবং অন্যটি পরিচালনা করে মার্কিন কোম্পানি ‘এক্সিলারেট এনার্জি’। গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের জাহাজে আগুন লাগার পর পেট্রোবাংলা ঘটনাটিকে ‘কারিগরি ত্রুটি’ বলে চালানোর চেষ্টা করে এবং আগুনের বিষয়টি শুরুতে গোপন রাখে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।
বিগত সরকারের অস্বচ্ছতাকে দায়ী করে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) বা টেন্ডার ছাড়া যে কার্গোগুলো আনার চেষ্টা করা হয়েছিল, সেগুলোর ঠিকাদার বা সরবরাহকারী বাছাইয়ে চরম গাফিলতি দেখা গেছে। যেমন ‘আল-হামরা’ নামের একটি ‘মস টাইপ’ এলএনজি কার্গো উচ্চ গোলকাকৃতির ডেকের কারণে মহেশখালী টার্মিনালে নোঙর করার হিসাব মেলাতে পারেনি। এ ধরনের অদক্ষতার মাশুল হিসেবে জাহাজটি গভীর সমুদ্রে দাঁড়িয়ে থাকলেও গ্যাস সরবরাহ চালু করা যায়নি। বিষয়টি অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।
পতিত সরকারের আমলে দ্বিগুণ দামে কেনাকাটা ও কোটি কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ এনে বলা হয়, তড়িঘড়ি করে স্পট মার্কেট থেকে আগস্ট মাসে প্রতি ইউনিট গ্যাস ২২.৩৫ ডলারে কেনা হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক চুক্তি বা আগের কেনাকাটায় প্রতি ইউনিটের দাম ছিল মাত্র ৯ থেকে ১০.৪০ ডলার। মাত্র ৩ দিন চলার জন্য এক জাহাজের গ্যাস কিনতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করা হয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ টাকা কার পকেটে গেছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
তবে দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটের জন্য সরকারের ব্যর্থতাকে দায়ী করা হলেও এর নেপথ্যে সাবোটাসকে দায়ী করছেন অভিজ্ঞমহল। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ এবং অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কেন এত সঙ্কট হয়নি সে প্রশ্নও সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। এর পেছনে ‘অন্য কিছু’ আছে কি না সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে জনমনে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, পর্দার আড়ালে গভীর রাজনৈতিক ‘স্যাবোটাজ’-এর তথ্য। দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে আবার মাঠে আসার সুযোগ তৈরি করতে চায়। আর এজন্যই টার্গেট করা হয়েছে দেশের জ¦ালানি খাতকে।
অনুসন্ধানী তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে স্বল্পতার বাইরেও বিদ্যুৎসংকটের পেছনে রয়েছে পতিত আওয়ামী লীগসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের স্যাবোটাজ। তেল নিজেদের সংরক্ষণে রেখেও সরকারকে জিম্মি করে টাকা আদায়ের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রেখেছে বেশ কয়েকটি বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র। তাদের সঙ্গে স্যাবোটাজে ইন্ধন দিচ্ছেন বিগত সরকারের আমলের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও নেতারা। তাঁদের পরামর্শে আওয়ামী লীগ সমর্থক সাবেক ও বর্তমান কতিপয় আমলা, পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করেপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) কর্মকর্তা এবং বিদ্যুৎ-গ্যাস খাতের সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা এ স্যাবোটাজের নেপথ্যে ভূমিকা রাখছেন।
বিদ্যুৎ বিভাগের হিসাব অনুসারে, বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ১৮ হাজার মেগাওয়াট এবং সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে ১৫ হাজার মেগাওয়াট। মাসখানেক ধরে বিদ্যুতের সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে পার্থক্য সর্বোচ্চ ৩ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে; যা গত কয়েক বছরের মধ্যে রেকর্ড। এ বিদ্যুৎসংকটের কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস, এলএনজি ও কয়লাসংকটকে দেখানো হয়েছে। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতির বাইরে প্রতিবেশী দেশের ভূমিকার কারণেও বিদ্যুৎ নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশটি প্রকাশ্যে বিদ্যুৎ দিলেও অন্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। আগামী ডিসেম্বরে পতিত শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার পর থেকেই বাংলাদেশে জ্বালানিসংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। এ সঙ্কট সৃষ্টির পেছনে জ্বালানি নিরাপত্তাকে বিঘিœত করতে ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থক ও সুবিধাভোগী বিভিন্ন মহল তৎপর রয়েছে। বিগত সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী লীগ সমর্থক বিভিন্ন আমলার কাছে টেলিফোনে যোগাযোগ করে দেশে বিদ্যুৎসংকট সৃষ্টি করায় ইন্ধন দিচ্ছেন বলে প্রমাণ পেয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সূত্র মতে, বাইরে অবস্থান করা সাবেক এ প্রতিমন্ত্রীর দেশের বিদ্যুৎব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করার অভিযোগ রয়েছে। তার নির্দেশে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে তাঁর সঙ্গে থাকা কিছু প্রভাবশালী আমলা এখনো পর্দার আড়ালে এ খাত অস্থির করে তুলতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ভিতরের একটি চক্র বিশেষ করে প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিগত সরকারের থেকে সুবিধাভোগী একটি গোষ্ঠী, বিপিসি ও পেট্রোবাংলার কিছু কর্মকর্তা ও একটি মহল এ সরকারকে ব্যর্থ করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিদ্যুৎসংকটের আড়ালে দেশকে অস্থিতিশীল করে তোলার চেষ্টা করছে। এদিকে বিদ্যুৎসংকট চূড়ান্ত পরিস্থিতিতে যাওয়ার পর সরকারের কাছে বকেয়া দাবি করেছে দেশের বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর মালিকরা। এর আগে দুই সরকারের কাছে এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকরা বিভিন্ন সময় তাঁদের বকেয়া টাকা দাবি করেও পাননি। কিন্তু বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার ছয় মাসের মধ্যেই তাঁদের এ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেয়।
এ সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে অতীত সরকারের আমলের বকেয়া দাবির পেছনেও রয়েছে পতিতদের সৃষ্ট সিন্ডিকেট। ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সুযোগ পাওয়া এসব বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র নামে-বেনামে তৎকালীন সরকারের দোসরদের দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এরই মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কিছু কোম্পানির মালিক ক্যাপাসিটি চার্জ শোধ এবং ‘কমিশনের’ ভাগ পেতে সরকারের সঙ্গে দেনদরবার শুরু করেছেন। এ সিন্ডিকেটটি সচিবালয়ে প্রশাসনের ভিতরের আওয়ামী সরকারের লেজুড়বৃত্তি করা একটি অংশ এবং বিরোধী মতাদর্শের আরেকটি গোষ্ঠীর একটি জোট নিয়ে গঠিত হয়েছে। তারা সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এদের চক্রান্তেই বিদ্যুৎসংকট আরও বাড়িয়ে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনরোষ গড়ে তোলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, ‘বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মালিকদের বকেয়া টাকা পরিশোধ করলে এখনই আমাদের কাছে যে তেল সংরক্ষণ আছে, সেটিও কাজে লাগাতে বা বিদ্যুৎ উৎপাদনে তেল বাড়িয়ে দিতে পারবো। আমরা সরকারকে ৫ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ দিতে রাজি আছি। আবার সরকার আমাদের টাকা দিলে তেল আনতে সিঙ্গাপুর থেকে তিন সপ্তাহ লাগবে।’
সরকার সূত্র জানাচ্ছে, এর আগে সব সরকারের আমলে অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে পূর্ণাঙ্গ উৎপাদনে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকারকে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের ৫০টির ওপর বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন চালানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। এক্ষেত্রে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ৫ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সংযুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে কাক্সিক্ষত সময়ের মধ্যে তাদের বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সংযুক্ত না হলে দেখা দেবে নতুন প্রশ্ন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার ও রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি নির্দিষ্ট নিয়মের গতিতে চলে। ক্ষমতাচ্যুত ও অন্তর্বর্তী সরকারের দু’বছরে লোডশেডিং কম থাকলেও বিএনপি সরকার আসার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের এ সংকট প্রশ্ন তুলেছে। মাত্র দু’মাসের ব্যবধানে সঙ্কট সৃষ্টি প্রশ্নের উদ্রেক করে। এর নেপথ্যে কারা তা তদন্ত করে দেখার আবশ্যকতা রয়েছে।
জ¦ালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতে সংস্কারের ফলে এ খাত থেকে স্বার্থান্বেষী মহল মুনাফা নিয়েছে। একশ্রেণির সরকার ঘেষা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী অবাধে লুণ্ঠন করেছেন, দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছেন। নানাভাবে আর্থিক সুবিধা পেয়েছেন। সে সরকার এ খাত থেকে বেশি বেশি রাজস্ব আহরণ করেছে। এ কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সর্বনাশ হয়েছে; যার পরিণতিতে এখন দেশ বিদ্যুৎসংকটের মধ্যে পড়েছে।’
তারা বলছেন, ‘বিদ্যুৎখাতে সঙ্কট তৈরি হয়েছে ১৫-১৬ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকারকে দোষ দেওয়া যাবে না। ২০১০ সাল থেকে জ্বালানিতে আমরা যে আমদানিনির্ভরতার দিকে গিয়েছিলাম এটিই সঙ্কটের মূল কারণ। আমাদের বর্তমানে যে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে, সেখানে আমরা সর্বোচ্চ ১ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের বেশি এলএনজি রাখতে পারি না। অন্তর্বর্তী সরকারের বড় ভুল হয়েছে দুটি ভাসমান টার্মিনাল নির্মাণের চুক্তি বাতিল করা। এটি না করলে এখন অতিরিক্ত এলএনজি আমদানি করে সংকটময় পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত।’
মূলত, দেশে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে। এসব এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বিপুর লোকদের নিয়ন্ত্রকের আসনে বসানো হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁরা প্রয়োজনের অতিরিক্ত লোডশেডিং কারিগরিভাবে দেখানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। যেখানে বিদ্যুতের এক ঘণ্টা লোডশেডিং দিলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যায়, সেখানে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং করা হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের এ অবস্থা কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
তত্ত্বাভিজ্ঞমহল মনে করছে, ‘সাধারণত দেশের এ ধরনের সংকটময় পরিস্থিতিতে একটি মহল সুযোগ নেওয়ার অপচেষ্টা করে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়। এ থেকে বিভিন্ন জায়গায় অফিস ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে, কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনাটি অন্যখাতে প্রবাহিত হতে পারে বা কোনো একটি মহল এ ঘটনা থেকে সুবিধা নিতে পারে-এ আশঙ্কা থেকে সতর্কতার অংশ হিসেবে নিরাপত্তা চেয়ে অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সরকারের সহযোগিতা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। এ ঘটনায় বিভিন্ন জায়গায় এরই মধ্যে পুলিশ প্রশাসন নাশকতা রোধে টহল দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কিছুদিন আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশেও অভিযোগ করেছেন, জ্বালানি খাত অস্থির করতে একটি চক্র ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের আরও বেশ কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তিও একই অভিযোগ করেছেন। বিদ্যুৎমন্ত্রীও সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনে গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘বিদ্যুতের সঙ্কট কমবেশি অতীতেও ছিল। দেশে বিদ্যুতের প্রি-পেইড মিটার নিয়ে আগে কোনো সমস্যা ছিল না, তাহলে এ বিষয়টি হঠাৎ করেই কেন সামনে এলো? নারায়ণগঞ্জে মিটার ভাঙা হলো। আর এটা ভেঙেছেন যে লোকটি, তিনি সেভেন মার্ডার মামলার আসামিকে সহযোগিতা করেছিলেন। এটা এক ধরনের ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগ আমলেও মিটার লাগানো হয়েছিল, কিন্তু তখন কোনো বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বা সংশ্লিষ্টদের ধাওয়া দেওয়া হয়নি। এখন হচ্ছে। এটা ষড়যন্ত্র।’ মূলত, দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে ফ্যাসিবাদী ষড়যন্ত্র দিবালোকের মত স্পষ্ট।
সার্বিক দিক বিবেচনায় মনে হচ্ছে, দেশে লাগামহীন বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটের দায় সরকারের ওপর পুরোপুরি চাপিয়ে দেওয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। কারণে, এর পেছনে রয়েছে পতিতদের সুগভীর ষড়যন্ত্র। এমতাবস্থায় দেশ ও জাতিকে এ অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে সরকার ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। পতিতদের রেখে পাওয়া দুষ্টচক্রকে মোকাবেলা করতে হবে সম্মিলিতভাবে। অন্যথায় পরিস্থিতি মোকাবেলা করা কোনভাবেই সম্ভব হবে না।
www.syedmasud.com