অ্যাডভোকেট আবু হাসিন

আমাদের দেশে বেকারত্ব একটি প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট, যেখানে উচ্চশিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের একটি বড় অংশ কর্মহীন। বিবিএস-এর তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখের উপরে এবং বেকারত্বের হার ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। চাহিদা অনুযায়ী কর্ম বা চাকরির অভাব, দক্ষ জনবলের অপ্রতুলতা এবং অস্থিরতা এর মূল কারণ। যা আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা।

বাংলাদেশের শ্রমশক্তি বিষয়ক জরিপ অনুসারে বেকার হচ্ছে সে ব্যক্তি যার বয়স ১৫ বছর বা তার চেয়ে বেশি এবং যে সক্রিয়ভাবে কাজের সন্ধান করা বা কাজের জন্য তৈরি থাকা সত্ত্বেও কোন কাজ করছে না। বেকারত্বের এ সংজ্ঞা অনুসারে বাংলাদেশের শ্রমশক্তি ও জরিপে দেখা যাচ্ছে, ২০০২-০৩ এবং ২০০৫-০৬ সালে দেশের মোট বেসামরিক শ্রমশক্তি ছিলো যথাক্রমে ৫ কোটি ৬৩ লাখ ও ৪ কোটি ৯৫ লাখ। এর মধ্যে যথাক্রমে ৩ কোটি ৬০ লাখ ও ৩ কোটি ৭৪ লাখ ছিল পুরুষ এবং ১ কোটি ৩ লাখ ও ১ কোটি ২১ মিলিয়ন ছিল নারী। কিন্তু পরবর্তীকালে কর্মজীবী শক্তি বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ৪ কোটি ৪৩ লক্ষ ও ৫ কোটি ৭৪ লক্ষ যার মধ্যে যথাক্রমে ৩ কোটি ৪৫ লক্ষ ও ৩ কোটি ৬১ লক্ষ ছিল পুরুষ এবং যথাক্রমে ৯৮ লক্ষ ও ১ কোটি ১৩ লক্ষ ছিল নারী। ফলে বেকার জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় যথাক্রমে ২০ লাখ ও ২১ লাখ যার মধ্যে যথাক্রমে ১৫ লক্ষ ও ১২ লক্ষ ছিল পুরুষ এবং ৫ লক্ষ ও ৯ লক্ষ ছিল নারী। দেশে কর্মজীবী শক্তির চেয়ে শ্রমশক্তির বেশি বৃদ্ধির কারণে বেকার সংখ্যার পরিমাণ বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০১৬-১৭ জরিপ মতে, বেকার সংখ্যা ৪ কোটি ৮২ লক্ষ ৮০ হাজার।

কাজের বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিবছরই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সাময়িকী ইকোনমিস্ট-এর ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বাংলাদেশের ৪৭% স্নাতকই বেকার। দক্ষিণ এশিয়ায় এর চেয়ে বেশি উচ্চশিক্ষিত বেকার আছেন কেবল আফগানিস্তানে, ৬৫%। এর বাইরে ভারতে এর হার ৩৩%, নেপালে ২০%-র বেশি, পাকিস্তানে ২৮% এবং শ্রীলঙ্কায় ৭.৮%। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) শ্রমশক্তি জরিপ ২০১০ অনুযায়ী, দেশে শ্রমশক্তির পরিমাণ পাঁচ কোটি ৬৭ লাখ। এর মধ্যে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ মানুষের কাজ আছে। এর অর্থ মাত্র ২৬ লাখ মানুষ বেকার। তবে জরিপেই বলা আছে, পরিবারের মধ্যে কাজ করে কিন্তু কোনো মজুরি পান না, এমন মানুষের সংখ্যা এক কোটি ১১ লাখ। এ ছাড়া আছে আরও এক কোটি ছয় লাখ দিনমজুর, যাদের কাজের কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশ্বব্যাংকের বিবেচনায়, সরকার কম দেখালেও প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে বেকারত্বের হার ১৪.২%। এর ওপর এখন প্রতিবছর নতুন করে ১৩ লাখ মানুষ শ্রমবাজারে যোগ হচ্ছেন। সুতরাং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির চাপ রয়েছে অর্থনীতির ওপর।

তবে একথা ঠিক যে, দেশে প্রকৃত বেকার সংখ্যা কত এর কোনো সঠিক হিসাব নেই। সরকার বেকারের যে হিসাব দেয়, তা প্রায় অবিশ্বাস্য। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, এক দশক ধরেই দেশে বেকারের সংখ্যা ২৫ থেকে ২৭ লাখের মধ্যে সীমাবদ্ধ আছে। ১৭ কোটি মানুষের দেশে মাত্র ২৭ লাখ বেকার, তা কেউ মানবেন না; কিন্তু বেকারের সংজ্ঞার মারপ্যাঁচে এটাই সত্য। কিন্তু দেশে প্রায় এক কোটির মতো মানুষ মনমতো কাজ পান না। তারা পড়াশোনা করেন না, কাজেও নেই। তারা ছদ্মবেকার। কোনো রকম জীবনধারণের জন্য কাজ করেন।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রতিবছর কমপক্ষে ২০-২২ লাখ মানুষ চাকরির বাজারে প্রবেশ করেন। তাদের এক-তৃতীয়াংশের কর্মসংস্থান হয় বিদেশে। বাকি ১৪-১৫ লাখ দেশে কর্মসংস্থান হয়। বেকারের সংখ্যা যেহেতু প্রায় অপরিবর্তিত থাকে, তাই প্রতিবছর যত তরুণ-তরুণী কর্মবাজারে প্রবেশ করেন, ঠিক তত সংখ্যক কর্মসংস্থান হয় বাজারে। আবার সরকারের দেওয়া পরিসংখ্যান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে অর্থনীতিবিদদের। তাঁদের মতে, সরকার যে হিসাব দেয়, প্রকৃত বেকারের সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি। ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে বিবিএসের হিসাবে, বাংলাদেশে এখন বেকার লোকের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ।

বিবিএস এখন ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে শ্রমশক্তি জরিপ করে থাকে। ফলে মৌসুমি বেকারদের চিত্র উঠে আসে। বিবিএসের সর্বশেষ ত্রৈমাসিক হিসাবে, সংজ্ঞা অনুসারে গত সেপ্টেম্বর মাস শেষে ২৬ লাখ ৬০ হাজার বেকার আছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মূল প্রেক্ষাপট ছিল সরকারি চাকরিতে কোটা প্রথা বাতিল। কারণ, শিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব হার সবচেয়ে বেশি। এ হার প্রায় ৪০ শতাংশ।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুযায়ী, সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে মজুরি পেলে তাঁকে বেকার হিসেবে ধরা হবে না। গত এক মাস ধরে কাজপ্রত্যাশী এবং সর্বশেষ এক সপ্তাহে কেউ যদি এক ঘণ্টা মজুরির বিনিময়ে কাজ করার সুযোগ না পান, তাঁদের বেকার হিসেবে গণ্য করা হবে। এটি আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সংজ্ঞা। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে জীবনধারণ অসম্ভব। উন্নত দেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। উন্নত দেশের মানুষ সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করলে মজুরির পাশাপাশি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাঁদের বেকার ভাতা দেওয়া হয়। ফলে জীবনধারণের খরচ জোগাতে তাদের খুব বেশি সমস্যা হয় না।

কেউ যদি বেকার থাকেন, তাহলে তিনি গরিব হয়ে যান। কত টাকা আয় করলে গরিব মানুষের তালিকা থেকে বের হয়ে যাবে এর একটি হিসাব আছে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোতে (বিবিএস)। দারিদ্র্যসীমার মানদণ্ড হলো, খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবা কেনার জন্য একজন মানুষের প্রতি মাসে গড়ে ৩ হাজার ৮২২ টাকা খরচ করার সামর্থ্য যদি না থাকে, তাহলে তিনি দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবেন বা গরিব হয়ে যাবেন। সে হিসাবে প্রতি সপ্তাহে ৯৫৫ টাকা আয় করতে হবে। শ্রমজীবীদের মানুষের পক্ষে সপ্তাহে এক ঘণ্টা কাজ করে ৯৫৫ টাকা আয় করা কঠিন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে বিশালসংখ্যক নিষ্ক্রিয় তরুণ-তরুণী রয়েছেন। আর এ সংখ্যা প্রায় এক কোটি। তাদের বয়স ১৫ থেকে ২৯ বছর। যেকোনো দেশে এ বয়সের তরুণ-তরুণীরা হয় পড়াশোনায় থাকার কথা, নতুবা কাজের মধ্যে থাকার কথা। কিংবা প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা; কিন্তু তারা এ তিনটির কোনোটিই করছেন না। তাহলে তারা কী করেন? তারা মূলত ‘ছদ্মবেকার’ নামেই পরিচিতি। ২০২২ সালের শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে, এমন নিষ্ক্রিয় তরুণ-তরুণী আছেন ৯৬ লাখ ৪০ হাজার। এর মধ্যে ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীর সংখ্যা প্রায় ৪১ লাখ।

১০ বছর ধরে এমন ছদ্মবেকার বা নিষ্ক্রিয় তরুণ-তরুণীর সংখ্যা এক কোটির মতো রয়েছে। এর মানে, দেশে সংজ্ঞা অনুসারে ২৭ লাখ লাখ বেকার আছেন। এর সঙ্গে ছদ্মবেকার এক কোটি যুক্ত হলে দেশের প্রায় সোয়া এক কোটি মানুষকে বেকার বলা যায়। এ বিষয়ে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, এ নিষ্ক্রিয় তরুণ গোষ্ঠীর সংখ্যা কমানো যাচ্ছে না। এটি চিন্তার বিষয়। নীতিনির্ধারকদের এ বিষয়ে ভাবতে হবে।

মূলত, বেকারত্ব তিন ধরনের। যেমন, সামঞ্জস্যহীনতাজনিত বেকারত্ব, বাণিজ্য চক্রজনিত ও কাঠামোগত বেকারত্ব। শ্রমবাজারের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ঘাটতি থাকলে সেটিকে সামঞ্জস্যহীন বেকারত্ব বলে। উত্তরবঙ্গ ও হাওর অঞ্চলে এমন বেকারত্ব দেখা যায়। শিল্পকারখানা ও সেবা খাতে যে ধরনের লোক প্রয়োজন, সেই ধরনের লোকের সরবরাহ কম থাকলে তা সামঞ্জস্যহীন বেকারত্ব। এখন এই বেকারত্ব নিয়ে বেশি কথা হচ্ছে।

এছাড়া অর্থনীতিতে চাঙ্গাভাব কিংবা মন্দাভাবের কারণেও অনেক সময় বেকারত্ব বাড়ে-কমে। যেমন কোভিডের কারণে বেকারের সংখ্যা বেড়েছিল। এটি বাণিজ্য চক্রজনিত বেকারত্ব। আবার প্রযুক্তির পরিবর্তনের কারণেও বেকারত্ব বাড়ে। এ ধরনের বেকারত্বকে কাঠামোগত বেকারত্ব বলে।

সার্বিক দিক বিবেচনায় স্পষ্টতই প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশে বেকারত্ব এখন রীতিমত অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। প্রতি বছর বিশ্ববিদ্যালয় পেরিয়ে হাজারো মেধাবী তরুণ যখন একরাশ রঙিন স্বপ্ন নিয়ে কর্মজীবনে পা রাখে। আমাদের সনাতনী শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে আধুনিক শ্রমবাজারের যোজন যোজন দূরত্ব, কারিগরি দক্ষতার অভাব এবং কর্মসংস্থানের সীমিত সুযোগ এ সংকটকে এক ভয়াবহ রূপ দান করেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর প্রত্যাশার চাপে পিষ্ট হয়ে তরুণরা যখন বারবার প্রত্যাখ্যাত হয়, তখন তাদের অন্তরে জন্ম নেয় এক গভীর হীনম্মন্যতা ও সামাজিক বিচ্ছিন্নতাবোধ।

বেকারত্বের এ করাল গ্রাস কেবল অভাব নয় বরং এক ভয়াবহ মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি করে। একজন শিক্ষিত যুবক যখন সমাজ ও পরিবারের অবজ্ঞার মুখোমুখি হয়, তখন তার ভেতরের আত্মবিশ্বাস আর থাকে না। মাদকাসক্তির করাল গ্রাস থেকে শুরু করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি কিংবা সাইবার অপরাধের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া যেন অবধারিত নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়। তবে সবচেয়ে মর্মান্তিক অধ্যায়টি রচিত হয় তখন, যখন জীবনের সব আলো নিভে যায় এবং ব্যর্থতার গ্লানি সইতে না পেরে সম্ভাবনাময় প্রাণ শেষ করে দেওয়ার পথ বেছে নেয়।

বাস্তবতার আলোকে বিচার করলে অসংখ্য বিয়োগান্ত ঘটনা সমাজকে বিদ্ধ করে। সম্প্রতি খবরের কাগজে আসা এক যুবকের কথা ভাবলে আজও শিউরে উঠতে হয়, যিনি দীর্ঘ আট বছর চাকরির পরীক্ষার দুয়ারে করাঘাত করেও বিফল হয়ে শেষমেশ আত্মহুতির পথ বেছে নেন। এটি শুধু এক যুবকের আর্তনাদ নয়, বরং কয়েক লাখ বেকার তরুণের মৌন হাহাকার। বেকারত্ব থেকে আত্মহত্যার পেছনে বেশ কয়েকটি সামাজিক, মানসিক ও আর্থিক কারণ কাজ করে। সমাজের নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ‘কাজ পাচ্ছে না মানে অযোগ্য’ এমন চিন্তা। আত্মীয় বা বন্ধুর সাফল্যের সঙ্গে নিজের ব্যর্থতা তুলনা করে লজ্জাবোধ করে। দীর্ঘদিন বেকার থাকলে আত্মবিশ্বাস কমে যায়। পরিবারের চাহিদা পূরণে ব্যর্থতা বিশেষ করে পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলে চাপ আরও বেড়ে যায়। ডিপ্রেশন (হতাশা) দীর্ঘদিন বেকার থাকার ফলে বিষণ্নতা দেখা দেয়। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতায় নিজের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও চাকরি না পাওয়া।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন আইএলও এবং সানেম SANEM)-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, দক্ষিণ এশিয়ায় শিক্ষিত বেকারত্বের হার বাংলাদেশে আশঙ্কাজনকভাবে ঊর্ধ্বমুখী। অর্থনীতিবিদরা বারবার সতর্ক করছেন, এ বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে যদি এখনই উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তর করা না যায়, তবে জাতির ভবিষ্যৎ এক অন্ধগলিকে স্পর্শ করবে। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অজ্ঞাত কারণেই উদাসীন।

তাই বেকারত্বের এ অভিশাপ থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু সনদের পেছনে না ছুটে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং এবং কারিগরি শিক্ষার মাধ্যমে বিশ্ববাজারের উপযোগী করে নিজেকে গড়ে তোলা যেমন জরুরি; একই সঙ্গে রাষ্ট্রকেও শুধু বড় বড় অবকাঠামো নয়, বরং বেকারত্ব দূরীকরণে সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ বিনিয়োগের দুয়ার খুলতে হবে। আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের ভিত্তি হবে তরুণদের উদ্ভাবনী শক্তি; তাই তাদের মেধা ও শ্রমকে অবহেলার ডাস্টবিনে না ফেলে সঠিক পরিচর্যায় জনশক্তিতে রূপান্তর করতে হবে।

বেকারত্ব আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম প্রধান সমস্যা। তাই একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা দেশে ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলেও দেশের বেকরাত্ব সহনীয় পর্যায়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষাকে অধিকতর গুরুত্ব দিতে হবে। দেশে ব্যাপকভিত্তিক কর্মসংস্থানের জন্য বেশি শিল্প প্রতিষ্ঠা করা দরকার। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির যুব সমাজকে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করতে হবে। বিদেশে শ্রমবাজার সম্প্রসারণের জন্য সরকারকে নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ। তাহলেই বেকারত্বের অভিশাপ জাতিকে মুক্ত করা সম্ভব।

লেখক : আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।