গল্প, নাটক বা চলচ্চিত্রে যে প্রধান চরিত্র বা নায়কের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে রক্তপাত করে এবং ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যায়, দুষ্টুমি বা ধ্বংসাত্মক কাজ করে তাকে খলনায়ক বা ‘ভিলেন’ বলা হয়। খলনায়কের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে কম-বেশি সবারই জানা। এ লেখাটি ভিলেন দিয়ে শুরু করার কারণ হলো-বিশ্বজুড়ে এ মুহূর্তে যে চরম আনরেস্ট অবস্থা (অস্থিরতা) চলছে- এজন্য একজন ভিলেন রাষ্ট্রপ্রধানের খামখেয়ালিকেই দায়ী করা যায়। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার সহযোগী রক্ত পিপাসু চরম ইসলামোফোবিক ইসরাইলের প্রেসিডেন্ট বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ দু’জন এখন যুদ্ধাবাজ রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছে।
বিশ্বের পারমাণবিক শক্তিধর দেশগুলোর কেউ তাদের এ আগ্রাসনের সমর্থন দিচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল শক্তি প্রদর্শন করে নিজেদেরকে বিশ্বের কাছে মহাশক্তিধর বা সুপার পাওয়ার দেশ হিসেবে পরিচিত পাওয়ার চেয়ে বেশি হচ্ছেন নিন্দিত। যুক্তরাষ্ট্র একমাত্র অপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘সুপার পাওয়ার’ বা পরাশক্তি, যা অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূ-রাজনৈতিক দিক থেকে সবার উপরে বলে নিজেদেরকে বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চায়। তবে ইরানে হামলা শুরুর পর থেকে ক্রমেই তাদের সামরিক শক্তির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসছে। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অন্য দেশ যত শক্তিশালীই হোক তাদেরকে তুচ্ছ বলে ধরে নেয়া হতো। কিন্তু খামখেয়ালি বা দম্ভ যে শেষ পর্যন্ত পতনের দিকে টেনে নিতে পারে তার উদাহরণ হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। এ পতন কার্যত তাদের শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতাকে তলানিতে নিয়ে যাওয়াকেও বোঝাতে পারে।
কোনো কারণ ছাড়াই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানে যৌথভাবে বড় ধরনের সামরিক হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। এ হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, সামরিক অবকাঠামো এবং শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ও সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালিয়ে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যা করে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চালানো বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইরানের দু’হাজারের বেশি মানুষ নিহত হন। হামলায় ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা প্রধান মেজর জেনারেল সৈয়দ মজিদ খাদেমি নিহত হন। এর জবাবে ইরান ইসরাইলসহ জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে, যেখানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা রয়েছে, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলেও বিধিনিষেধ আরোপ করেছে তেহরান। এ হামলার যৌক্তিকতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, এ অভিযানটির লক্ষ্য ছিল তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখা এবং ইরানী শাসনের আসন্ন হুমকি নির্মূল করা। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, শাসন পরিবর্তনও এ হামলার লক্ষ্যগুলোর একটি।
পারমাণবিক অস্ত্র : বর্তমানে বিশ্বে মোট ৯টি দেশের কাছে রয়েছে পারমাণবিক অস্ত্র। এ দেশগুলো হলো-রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, ভারত, পাকিস্তান, উত্তর কোরিয়া এবং ইসরাইল। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র-এই দুই দেশের কাছেই বিশ্বের মোট অস্ত্রের প্রায় ৮৭-৯০% রয়েছে। এছাড়া, চীন তার পারমাণবিক অস্ত্র দ্রুত আধুনিকীকরণ ও বৃদ্ধি করছে। পারমাণবিক শক্তিধর দেশসমূহের তালিকা (২০২৬ সালের প্রাক্কলন অনুযায়ী) রাশিয়া: ৫,০০০টিরও বেশি ওয়ারহেড নিয়ে বিশ্বের বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের মালিক। যুক্তরাষ্ট্র: ৫,০০০টির বেশি পারমাণবিক অস্ত্রসহ দ্বিতীয় শীর্ষ দেশ। চীন তাদের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার দ্রুত বৃদ্ধি করছ্ ে ফ্রান্স ইউরোপের অন্যতম পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। যুক্তরাজ্য নিজস্ব পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। ভারত দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। পাকিস্তান দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ। উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার তালিকায় রয়েছে। ইসরাইল সরাসরি ঘোষণা না দিলেও পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে স্বীকৃত। রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য-এ ৫টি দেশ পারমাণবিক অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (NPT) অনুযায়ী আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত পারমাণবিক শক্তিধর দেশ। নেতানিয়াহু বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির গোপন কর্মসূচি বন্ধে আগাম ব্যবস্থা হিসেবে এ হামলা চালানো হয়েছে। তার দাবি, তেহরান ইতিমধ্যে ৯টি পারমাণবিক বোমা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করেছে।
তবে ইরান যে পারমাণবিক শক্তি অর্জন করেছে তার কোনো প্রমাণ নেই। প্রশ্ন হচ্ছে-ইরান যদি পরমাণু শক্তি অর্জন করেও থাকে তাতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের মাথাব্যথা হওয়ার কারণ কী? ইরান এখন পর্যন্ত যেচে গিয়ে কোনো দেশের ওপর হামলা চালায়নি। শুধুমাত্র তারা হামলার শিকার হলেই আত্মরক্ষার্থে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যেভাবে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই রাতের অন্ধকারে দেশটির শীর্ষ নেতাদের হত্যা করেছে তা কোনো সভ্য সমাজের কাজ হতে পারে না। কিন্তু ইরানে যে উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছিল, হয়েছে তার বিপরীত। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ভেবেছিলেন ইরানে হামলা চালিয়ে শীর্ষ নেতাদের, সেনা ও আইআরজিসি প্রধানসহ নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্তাদের হত্যা করলেই দেশটিরে শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন হয়ে যাবে। দেশটির বিদ্রোহী গ্রুপ রাস্তায় নেমে সরকার পতন করে ফেলবে। যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল গোপনে বিপুল অস্ত্র সরবরাহ করেছে বিদ্রোহীদের কাছে, যাতে তারা গৃহযুদ্ধ করে সুযোগ মতো ইরানের মসনদ দখল করে নেয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সেসব তৎপরতা কোনো কাজে আসেনি। দেশপ্রেমিক ইরানীরা আগ্রাসীদের ফাঁদে পা দেয়নি। উল্টো ইরানী নাগরিকরা দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করতে রাস্তায় নেমে আসে। তারা বর্তমান ক্ষমতাসীনদের সমর্থন করে তাদের পক্ষেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন এবং আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে তৈরি হন। এরই মধ্যে ৭ এপ্রিল শুন্য আওয়ার পর্যন্ত ইরানকে সময় বেঁধে দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র তাদের শর্তগুলো মেনে নিয়ে বশ্যতা স্বীকার করতে। ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়ে বলেছিলেন, যদি তার দাবিগুলো না মেনে নেয় তাহলে ইরানী সভ্যতাকে চিরতরে ধ্বংস করে দেবেন। এর আগে বেশ কয়েকবার তিনি ইরানকে নরককুণ্ডে পরিণত করার হুমকি দিয়েছিলেন। কিন্তু হুমকিতে কাজ হয়নি। তার এসব হুমকি এখন বাগাড়ম্বরে পরিণত হয়েছে। তার আলটিমেটামের সময় শেষ হওয়ার ঠিক ৯০ মিনিট আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নেওয়াজ শরীফ একটি টুইট করেন যে দু’পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। ওই টুইটের ভাষা থেকে বিশ্ববাসী ধরে ফেলেছে যে এটি লিখে দেওয়া টুইট। সেখানে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল টুইটারে লেখা হয়েছে ‘পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন’! সে আলোচনাও শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের খামখেয়ালিতে সিদ্ধান্ত ছাড়াই ভেঙে যায়। এরপরও আবার যুক্তরাষ্ট্র হুমকি দিয়ে বসেছিল। সেসব হুমকি থোরাই কেয়ার করেনি ইরান। বর্তমানে আবারও ইরানের সাথে আলোচনায় বসতে বাধ্য হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অযোগ্যতার কারণে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনান। তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং মানসিক অবস্থাকে দেশের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে অভিহিত করেছেন। ব্রেনান স্পষ্ট করে বলেছেন, ট্রাম্পের মতো এক ব্যক্তিকে কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্বে রাখা নিরাপদ নয়। মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীর উল্লেখ করে তিনি বলেন, শারীরিক বা মানসিকভাবে কোনো প্রেসিডেন্ট অযোগ্য হয়ে পড়লে তাকে সরিয়ে দেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভবত সেই সংশোধনীর সবচেয়ে উপযুক্ত উদাহরণ।
বারাক ওবামা প্রশাসনের সাবেক এ সিআইএ প্রধান গত শনিবার এমএস নাউ টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘এ ব্যক্তি স্পষ্টতই মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন।’ বিশেষ করে ইরানী সভ্যতা ধ্বংস করে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উসকানিমূলক বক্তব্য জন ব্রেনানকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। তিনি মনে করেন, এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য লাখ লাখ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। ব্রেনানের মতে, এ ধরনের বেপরোয়া আচরণের পর ট্রাম্পকে ক্ষমতায় রাখা মানে হলো বিশ্বের সামনে চরম বিপদ ডেকে আনা। সাক্ষাৎকারে ব্রেনান আরও যুক্তি দেন যে, মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীটি যেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের মতো পরিস্থিতি বিবেচনা করেই লেখা হয়েছিল। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, যার হাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার ও শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর চাবিকাঠি রয়েছে, তিনি যদি ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন তবে তার পরিণতি কী হতে পারে। ব্রেনানের মতে, ট্রাম্প এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছেন যেখানে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্টের মানসিক অবস্থা এখন মার্কিন গণতন্ত্রের জন্য এক বড় ধরনের থ্রেট বা হুমকি। দীর্ঘদিন সিআইএ প্রধান হিসেবে বিশ্ব রাজনীতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করার অভিজ্ঞতার আলোকে ব্রেনান বলেন যে, একজন প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হতে হয় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল এবং শান্ত। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে এর ঠিক উল্টোটি দেখা যাচ্ছে। ইরানী সংকটকে কেন্দ্র করে তিনি যেভাবে সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দিচ্ছেন, তা পেশাদার গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
যুদ্ধবিরতি নিয়ে আবারও আলোচনা : যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য নতুন দফার আলোচনার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ ইতোমধ্যে প্রথম দফার বৈঠকের আয়োজন করেছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দ্বিতীয় দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ লেবাননে ঘোষিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং আশা প্রকাশ করেছেন যে এটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে সহায়ক হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এই যুদ্ধবিরতি “সাহসী” কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সম্ভব হয়েছে, যার নেতৃত্ব দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শাহবাজ শরিফ আরও বলেন, পাকিস্তান লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি তার দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, অঞ্চলটিতে টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সব ধরনের উদ্যোগে ইসলামাবাদ সমর্থন দিয়ে যাবে। বর্তমানে শরিফ আঞ্চলিক সফরে রয়েছেন। তিনি কাতারে পৌঁছেছেন, যেখানে আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। এর আগে তিনি সৌদি আরব সফর করেন এবং এরপর তার তুরস্ক সফরেরও পরিকল্পনা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার দেশ ইরানের সাথে চুক্তি করার ‘খুবই কাছাকাছি’ অবস্থানে রয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তেহরান তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম হস্তান্তরসহ ‘প্রায় সব কিছুতেই রাজি হয়েছে’। হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ইরানের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতি ২২ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা, তার মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন না-ও হতে পারে; কারণ ওই তারিখের আগেই একটি চুক্তি হয়ে যেতে পারে।
লেখক : সাংবাদিক।