বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং শিক্ষা ও কৃষি খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির জোরালো সুযোগ রয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রুনাইয়ের রাষ্ট্রদূত হারিস বিন ওসমান। গতকাল রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে নওয়াব সলিমুল্লাহ একাডেমি আয়োজিত ‘বাংলাদেশ ও ব্রুনাইয়ের মাঝে বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়ন’ শীর্ষক এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। হারিস বিন ওসমান বলেন, এক্সপোর্ট প্রমোশন ব্যুরো (ইপিবি) বা সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনের মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যে বাণিজ্য মেলার উদ্যোগ নিলে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। তবে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত বাণিজ্য মেলাগুলোর পরিকল্পনা বিশ্বজুড়ে সঠিকভাবে প্রচার করা হয় না। বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের আকৃষ্ট করতে বিডা, ইপিবি এবং বিদেশে থাকা বাংলাদেশী দূতাবাসগুলোকে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের সেতুবন্ধন হিসেবে ‘ব্রুনাই-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স’ গঠনের বিষয়টিও সংশ্লিষ্টদের বিবেচনার জন্য আহ্বান জানান তিনি। বিনিয়োগের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানি ও জার্মান কোম্পানির উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, এখানে বিনিয়োগের চমৎকার পরিবেশ রয়েছে। তবে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের প্রধান উদ্বেগ হলো দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার অভাব। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বাণিজ্যিক নীতি পরিবর্তনের আশঙ্কায় অনেক বিনিয়োগকারী বর্তমানে পর্যবেক্ষণমূলক অবস্থানে রয়েছেন। বাংলাদেশে একটি স্থিতিশীল ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে ব্রুনাই থেকে সরাসরি বিনিয়োগ আসার পথ সুগম হবে, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বাজারে পণ্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে তিনি বলেন, ব্রুনাই বাংলাদেশ থেকে সুগন্ধি চাল আমদানিতে আগ্রহী। যদিও অতীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে তা সম্ভব হয়নি, তবে সুগন্ধি চালের পাশাপাশি আম ও কাঁঠালের মতো কৃষিপণ্য রপ্তানির বড় বাজার হতে পারে ব্রুনাই। মুসলিম প্রধান দেশ হিসেবে ব্রুনাইয়ের মানুষ বাংলাদেশি পণ্যের প্রতি বিশেষ আগ্রহ পোষণ করে থাকে। এছাড়া শিক্ষা খাতে ব্রুনাইয়ের চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে, যা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সমন্বয় করা হয়। তবে তা খুব সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সাংবাদিকদের সফর এবং তথ্য আদান-প্রদানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।