প্রফেসর তোহুর আহমদ হিলালী
কুরআন মজিদে অতীত জাতিসমূহের ধ্বংসের কিছু বর্ণনা আমরা দেখতে পাই। যেমন লুত (আ.)-এর জাতির ধ্বংসের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে তাদের অশ্লীলতাকে। আবার শোয়াইব (আ.)-এর জাতির ধ্বংসের কারণ হিসেবে জুলুমের কথা বলা হয়েছে। ব্যাপকভাবে তারা মানুষকে ওজনে কারচুপি করে ঠকাতো। নমরুদ-ফেরাউনরা ছিল খুব শক্তিশালী জাতি কিন্তু ছিল ভীষণ অত্যাচারী। এরা ছিল নবী-রসূল ও তাঁদের অনুসারীদের প্রতি খড়গহস্ত। আগুনে পুড়িয়ে মারা থেকে শুরু করে সবধরনের জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। আল্লাহপাক তাদেরকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। বর্তমানে জুলুমের কথা উচ্চারণের সাথে সাথে নমরুদ-ফেরাউনের নাম উচ্চারিত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে কিছু শাসকবর্গের ন্যক্কারজনক পতনের কারণ হিসেবে জুলুমের কথা উল্লেখ করা যায়।
বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির এ যুগে মানুষের মান-মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা খুব সহজ। অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করা মুনাফিকদের কাজ। সমাজে অশ্লীলতা ছড়িয়ে দেয়া শয়তানের কাজ। পরকালে অবিশ্বাসী নিরেট নাস্তিক ছাড়া এমন আচরণ কেহ করতে পারে না। পৃথিবীতে আল্লাহর গজব নেমে আসে তখনই যখন সমাজে জুলুম ও অশ্লীলতা ছড়িয়ে পড়ে। করোনা ছিল আল্লাহপাকের পক্ষ থেকে এক সতর্ক বার্তা। এটা ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে স্রেফ গজব কিন্তু ছোট্ট পরিসরে। আল্লাহপাক আমাদেরকে সবধরনের অশ্লীল ভাষা ব্যবহার ও কাজ থেকে বিরত থাকার তৌফিক দান করুন।
লেখক : সাবেক উপাধ্যক্ষ, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ।