মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী

রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দূর্বল আইন-শৃঙ্খলা ও গভীর সামাজিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে বিএনপি সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এই ক্ষমতায় আসার ব্যাপারে মানুষের অনেকগুলি প্রত্যাশা কাজ করছে। এগুলো কতটা পূরণ হবে কি হবে না তার ওপর নির্ভর করছে নতুন সরকারের শ্লোগান মোতাবেক সবার আগে বাংলাদেশ গড়ে তোলার ৩১ দফা কর্মসূচি। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিল, প্রশাসন হবে দুর্নীতিমুক্ত। বিগত সরকারের আমলে গ্রাম থেকে শহর, গলি থেকে রাজপথ সর্বত্র তেলবাজের যন্ত্রণায় মানুষ অতিষ্ট হয়ে পরেছিল। গণতান্ত্রিক রার্ষ্টের নেতারা বিরোধী দলে থাকাকালে সর্বত্রই বলতে শোনা যায় দুর্নীতিমুক্ত ও একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই। কথাটার কোন উত্তর বাংলাদেশে তো নেই এমনকি দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায়ই কেউ কোনদিন খুঁজে পাবেন কি-না জানিনা। ইতিমধ্যে বিএনপি সরকার পাঁচ মাস অতিবাহিত করেছে তবে ্এরই মধ্যে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধিতে নাখোস দেশের জনগণ।

বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুর্নীতির মহোৎসব দেখেছি এখন যে দুর্নীতি নেই এ কথা বুকে হাত দিয়ে বলা দুস্কর তবে অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে যে ব্যাপক দুর্নীতি ও মব ভায়োলেন্সর মাধ্যমে লুণ্ঠন ও ভাংচুরের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল তা ইতিহাসে লেখা থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। তারপর বাংলাদেশের জনগণ আশায় বুক বেধে আছেন এবার হয়তো দুর্নীতি ও তেলবাজি পুরনো বিত্রনপি’র পরিবর্তে নতুন ও তরুণ নেতৃত্বে নতুন সরকারের সামনে রয়েছে একাধিক চ্যালেঞ্জ। আবার অনেক চ্যালেঞ্জ আসতে পারে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে। যেমন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক। পুশ ব্যাক, সীমান্ত সংকট, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট, ব্যাংকিং দুরবস্থা, বেকারত্ব, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ করা, যানজট ইত্যাদি।

নুতন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, রোহিঙ্গা সমস্যা, যা এখনও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসছে। এর বোঝা বহন বাংলাদেশের জন্য মহাবিপদ ডেকে এনেছে। ইতিমধ্যে প্রতিবেশী দেশ ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্পর্কে ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ তৈরী করছে এর দায় ভারতকেই নিতে হবে। এখন চীন সম্প্রতি বেইজিং-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় সফরে বাস্তচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্টিীর নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ারমারের সঙ্গে ত্রিপক্ষীয় সংলাপকে আরো সহজতর করার অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে। বিষয়টি আর অবহেলা না করে বিএনপি সরকারকে লুফে নেওয়া উচিত। কারণ রোহিঙ্গাদের কোনভাবে বাংলাদেশ থেকে ফিরে গেলে বাংলাদেশ বিশাল অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সংকট থেকে মুক্তি পাবে। এতে বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ বাচঁবে, কক্স্রবাজারের পরিবেশ পুনরুদ্ধার হবে এবং স্থানীয়রা তাদের জায়গা-জমি, কর্মসংস্থান ও নিরাপওা ফিরে পাবে। বর্তমানে আঞ্চলিক সংযোগ ও বাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীন নতুন বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোরের যে প্রস্তাব দিয়েছে তা অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশ লাভবান হতে পারে।

এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আর্থিক খাত সংস্কারের ক্ষেত্রে নতুন সরকারের কাছে জনগণের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। সার্বিকভাবে বৈষ্যমহীন ও গণতান্ত্রিক একটি বাংলাদেশ কার্যকরিতার উপর দেশের মানুষের অনেক আশা ভরসা রয়েছে যা কোনভাবেই যেন উপেক্ষিত না হয়। বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্বে আসায় বিএনপিকে নতুন করে জনআস্থা অর্জনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। বিএনপি’র জন্য মূল বাস্তবতা হচ্ছে; বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা, দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসন তৈরী করা, নিত্য পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ রাখার এবং আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধন, বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্ঠি করা, প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করা, জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সকল দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও সম্মান জনক পররাষ্ট্র নীতি বজায় রাখার চেষ্টা করা। সংবিধান ও রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার ও অর্থনৈতিক মুক্তির লক্ষ্যে বিএনপি’র ৩১ দফা বাস্তবায়ন দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী রয়েছে।