॥ এম এ খালেক ॥

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি) তাদের নির্বাচনী অঙ্গিকারনামায় ২০৩৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জিডিপি’র আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ৪শ’ ৫০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থাৎ উল্লেখিত সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে নিয়ে যেতে হলে জিডিপি’র পরিমাণ ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি করতে হবে। বিএনপি অর্থনীতি সম্প্রসারণের যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে তা অবশ্যই উল্লেখের দাবি রাখে। কিন্তু এ লক্ষ্যমাত্রা কতটা অর্জনযোগ্য তা নিয়ে প্রশ্ন এবং সংশয় রয়েছে। কারণ বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে যে অবস্থায় আছে সেখান থেকে রাতারাতি এভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। আমাদের দেশে চমক সৃষ্টির জন্য অনেক সময় বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। কিন্তু সে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য উপযুক্ত কার্যক্রম হাতে নেয়া হয় না। ফলে গৃহতি পরিকল্পনাটি মেয়াদান্তে ব্যর্থতার বালুচরে হাবুডুবু খায়। ২০২৫ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার দ্বিগুনের বেশি সম্প্রসারিত করার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে তা শুনতে বেশ ভালোই লাগে। এটি কোনভাবেই অর্জনযোগ্য নয় তা বলা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয় বলেই মনে হয়।

সম্প্রতি রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনীতি কি দুষ্টচক্রের ফাঁদে’ শীর্ষক এক গোল টেবিল বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়। এতে দেশের খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশ গ্রহণ করেন। তারা বলেন, শুধু উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনের ঘোষণা দিলেই হবে না সে লক্ষ্য অর্জনের জন্য লাগসই এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সব অর্জনের পেছনে নিয়ামক ভূমিকা পালন করতে পারে প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট কাক্সিক্ষত মাত্রায় বাড়ানো। প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি করা না গেলে প্রবৃদ্ধি বাড়বে না। আর প্রোডাক্টিভ সেক্টরে উচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে না পারলে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে না। কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে বেকার বসিয়ে রেখে কখনোই সুষম উন্নয়ন অর্জন সম্ভব নয়। সবার জন্য কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা না গেলে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব নয়। আগে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা এমন ছিল যে একটি পরিবার থেকে একজন মাত্র সদস্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা গেলেই পরিবারটি ভালোভাবে চলতে পারতো। আর এখন অবস্থা এমন হয়েছে যে, পরিবারের প্রতিটি সদস্যের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না গেলে ভালোভাবে টিকে থাকা সম্ভব হয় না। জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচন সম্ভব একমাত্র প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধির মাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ মোটেও সুবিধাজনক নয়।

জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট রেশিও এখনো নি¤œতম পর্যায়ে রয়েছে। সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকালে জিডিপি- প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ২৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার ধারে-কাছে আমরা যেতে পারিনি। সর্বশেষ পরিসংখ্যানে জানা গেছে, দেশের জিডিপি- প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট রেশিও দাঁড়িয়েছে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। এটা বিগত ১০ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ। গত প্রায় দুই দশক ধরে জিডিপি- প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ২২-২৩ শতাংশে উঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশের অর্থনীতির যে আকার এবং গতি তাতে জিডিপি-প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট রেশিও ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে হওয়া প্রয়োজন। জিডিপি’র সাড়ে ৪ থেকে ৫ শতাংশ মাত্রায় বিনিয়োগ হলে এক শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হতে পারে। ২০৩৫ সালের মধ্যে যদি বাংলাদেশের অর্থনীতির সার্বিক আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করতে হয় তাহলে প্রতি বছর গড়ে ৮ থেকে ৯ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যমান পরিস্থিতিকে এটা অর্জন করা অসম্ভব বলেই মনে হয়।

বিগত আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে বাংলাদেশ অবকাঠামোগত খাতে ব্যাপক উন্নতি অর্জন করেছে। কিন্তু সেই উন্নয়নের লক্ষ্য প্রশ্নমুক্ত ছিল না। পাবলিক সেক্টরে উন্নয়নের আড়ালে ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতির সুযোগ সৃষ্টি হয়। আওয়ামী লীগ আমলে উন্নয়নের নীতি কৌশল ছিল, অতি উন্নয়ন, অতি দুর্নীতি।’ উন্নয়নের নামে কিভাবে রাষ্ট্রীয় অর্থ লুটে নেয়া যায় তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করেছিল তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গঠিত শে^তপত্র কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে,টাকার অঙ্কে যার পরিমাণ ২৮ লাখ কোটি টাকা। প্রতি বছর গড়ে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফিন্যান্সিয়াল ইনট্রিগ্রিটি (জিএফআই) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, দক্ষিণ এশিয়ান দেশগুলোর মধ্যে অর্থ পাচারকারি শীর্ষ ১০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাংলাদেশ গত ১০ বছরে (২০১৩-২০২২) মোট ৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এ অর্থ মূলত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের আড়ালে বিদেশে পাচার করা হয়। এর মধ্যে ৩৩ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থ পাচার করা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে।

বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ফেরৎ আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালিন সরকার আমলে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল। বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে নন-ডিস্কোজার এগ্রিমেন্ট স্বাক্ষর করা হয়েছে। আরো কিছু দেশের সঙ্গে এধরনের চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে একবার অর্থ পাচার হয়ে গেলে তা ফেরৎ আনা খুবই কঠিন, যদিও কাজটি অসম্ভব নয়। আওয়ামী লীগ শাসনামলে সরকারি আশিবাদপুষ্ট একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী ব্যাংক থেকে ঋণের নামে অর্থ বের করে নিয়ে ভিন্ন খাতে ব্যবহার করেছে। এমনকি বিদেশে পাচার করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের বিতর্কিত উদ্যোক্তা গোষ্ঠী এস আলম বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণের নামে বের করে নিয়ে বিদেশে পাচার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সরকারি ইন্দনে দেশের ৬টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মালিকানা গ্রহণ করে এস আলম উদ্যোক্তা গোষ্ঠী ব্যাংকগুলো এখন দেউলিয়ার পর্যায়ে রয়েছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সম্প্রতিক জরিপে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের উদ্যোক্তাগণ তাদের সমস্যার কথা বলতে গিয়ে প্রথমেই বিনিয়োগযোগ্য তহবিল প্রাপ্তিতে নানা সীমবদ্ধতার কথা জানান। ব্যাংকে গেলে তারা চাহিদা মতো ঋণ পান না। নানাভাবে তাদের হয়রানি করা হয়। অথচ বাংলাদেশ যদি ২০৩৫ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের জিডিপি অর্জন করতে চায় তাহলে প্রাইভেট সেক্টরে প্রতি বছর গড়ে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারেরে সম পরিমাণ বিনিয়োগ প্রয়োজন। প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হবে ৮ থেকে ৯ শতাংশ। অথচ চলতি অর্থবছরে (২০২৫-২০২৬) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ৩ দশমিক ৯ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে বিশ^ব্যাংক প্রক্ষেপন করেছে। ২০২৫ সালে নতুন করে দারিদ্র্য সীমার নিচে নেমে গেলে ১৪ লাখ মনুষ। সংস্থাটি আরো বলেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি থাকতে পারে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। ফলে তারা অনিশ্চিত জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছে। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ছিল ২০২২ সালে ১৮ শতাংশ। ২০২৫ সালে এসে তা ২১ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও ৭শতাংশের নিচে নেমে এসেছে,যা বিগত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বনি¤œ।

দেশে প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্টের পরিবেশ মোটেও সন্তোষজনক নয়। বিনিয়োগের জন্য যেসব আইন বিদ্যমান রয়েছে সেগুলো অত্যন্ত উদার এবং আন্তর্জাতিক মানের হলেও এগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন নেই। বিশেষ করে সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর এক শ্রেণির কর্মকর্তার ঘুষ-দুর্নীতি এবং অসহযোগিতামূলক আচরণের কারণে উদ্যোক্তাগণ যারপর নাই বিরক্ত। কোন দেশের স্থানীয় বিনিয়োগকারিরা পর্যাপ্ত পরিমাণে বিনিয়োগ না করলে বিদেশি বিনিয়োগ কাঙ্খিত মাত্রায় আসে না। বিদেশি বিনিয়োগকারিগণ হচ্ছেন ‘শীতের অতিথি পাখির মতো।’ শীতের অতিথি পাখি যেমন কোন জলাশয়ে পর্যাপ্ত খাবার এবং জীবনের নিরাপত্তা না পেলে আশ্রয় গ্রহণ করেন না। বিদেশি বিনিয়োগকারিগণও তেমনি কোন দেশে পর্যাপ্ত মানুফা এবং পুঁজি ও জীবনের নিরাপত্তা না পেলে বিনিয়োগে আগ্রহী হয় না। বিশ^ব্যাংক তাদের সর্বশেষ ‘ইজ অব ডুয়িং বিজনেস’ সূচকে ১৯০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থা দেখিয়েছিল ১৭৬তম। বর্তমানে বিশ^ব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস সূচক প্রকাশ বন্ধ রয়েছে। তার পরিবর্তে সংস্থাটি স্টার্ট বিজিনেস নামে একটি আলাদা সূচক প্রকাশ করেছে। এতে ৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান দেখনো হয়েছে চতুর্থ স্তরে।

প্রাইভেট সেক্টরে লেবার ইনটেনসিভ বা শ্রমঘন শিল্প স্থাপন ব্যতীত উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কোনভাবেই সম্ভব নয়। প্রাইভেট সেক্টরে ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি জন্য ব্যাংক ঋণ প্রাপ্তি সহজীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে ব্যাংক ঋণের সুদের হার যৌক্তিক মাত্রায় কমাতে হবে। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পলিসি রেট(সিডিউল ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে স্বল্পকালিন সময়ের জন্য ঋণ বা ধার গ্রহণের সময় যে সুদ প্রদান করে) একাধিকবার বাড়ানো হয়। আগে পলিসি রেট ছিল ৫ শতাংশ। এখন তা ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু পরিসি রেট বাড়ানো হলেও দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হার (ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তা পর্যায়ে ঋণদানকালে যে সুদ চার্জ করে) অনেক দিন পর্যন্ত ৯ শতাংশে ফিক্সড করে রাখা হয়েছিল। এটা করা হয়েছিল মূলত সরকার সমর্থক ব্যবসায়ি গোষ্ঠীকে তুলনামূলক স্বল্প সুদে ঋণদানের লক্ষ্যে। ব্যাংকগুলো তাদরে কস্ট অব ফান্ডের সঙ্গে সুদের হার সমন্বয় সাধন করতে না পেরে ঋণ সংকোচন নীতি গ্রহণ করে। কিন্তু সরকার সমর্থক উদ্যোক্তা গোষ্ঠী নানাভাবে ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের উপর চাপ সৃষ্টি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণের নামে বের করে নেয়। ব্যাংক ঋণের এই অর্থ নানা উপায়ে বাজারে চলে আসে।

ফলে পলিসি রেট বাড়ানোর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশল ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। পলিসি রেট বৃদ্ধির মাধ্যমে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ একটি সাময়িক কৌশল। এটা দীর্ঘস্থায়ী করা হলে প্রাইভেট সেক্টর ইনভেস্টমেন্ট মন্থর হয়ে পড়ে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আমরা ঠিক সেটাই প্রত্যক্ষ করেছি। বর্তমানে পলিসি রেট ১০ শতাংশ করার পাশাপাশি ব্যাংক ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হারের ক্যাপ তুলে দেয়া হয়েছে। এতে সুদের হার ১৫/১৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের দেশের বাস্তব অবস্থার প্রেক্ষিতে এত উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে তা বিনিয়োগ করা হলে প্রতিষ্ঠান লাভজনকতা অর্জন করতে পারবে না। হাই প্রোডাকশন কস্টের কারণে অধিকাংশ শিল্প-কারখানায় উৎপাদন কমে গেছে। ফলে রপ্তানি আায় হ্রাস পাচ্ছে।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য দ্রুত বাংলাদেশ ব্যাংকের পলিসি রেট যৌক্তিকভাবে কমানো প্রয়োজন। যেসব গ্রাহক নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন অর্থাৎ ট্র্যাক রেকর্ড ভালো তাদের তুলনামূলক কম সুদে ঋণদানের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

লেখক : সাবেক ব্যাংকার ও প্রাবন্ধিক।