মাহবুবুল হক
সাম্প্রতিক কিছু লেখায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভালো কাজগুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। যেখানে প্রশংসা করা দরকার সেখানে আমরা প্রশংসা করতে দ্বিধা করিনি। আবার যেখানে তিনি ভুল-ভ্রান্তি করছেন সেটা নিয়েও আমরা নরম সুরে কথা বলেছি এবং যে সব ত্রুটি উপেক্ষা করা যায় বা যেসব ভুল জনগণের সামনে না আনলেও চলে সেসব আমরা আলোচনা করছি না। তিনি রাজনীতি করেছেন এবং একটি রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। কিন্তু তিনি ক্ষমতার রাজনীতিতে এবারেই প্রথম প্রবেশ করলেন। সুতরাং তাঁকে উৎসাহ দেয়া, সহযোগিতা করা অর্থাৎ ভালো কাজে তথা জনগণের কল্যাণ কাজে উদ্বুদ্ধ করার পজেটিভ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েই আমরা কাজ করছি। তার মানে এ নয় যে, এই প্রথম আমরা সরকারি দলকে বা সরকার প্রধানকে উৎসাহ যোগাচ্ছি না। এ সংবাদপত্রের বয়স ৫২ বছর। অপরদিকে পাকিস্তান আমলের দু’বছর। মোট মিলে ৫৪ বছর। এ পুরোটা সময় ধরে এ সংবাদপত্রটি ‘সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো’ এ নীতিবোধ নিয়েই অগ্রসর হচ্ছে। কখনও এই নীতিবোধ থেকে কোনো বিশেষ কারণে সরে যায়নি। পত্রিকাটি প্রকাশের উদ্দেশ্যই ছিলো মানুষকে ভালো মানুষে রূপান্তর করার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা। কারণ ভালো মানুষরাই, সমাজের সেতুবন্ধন, সমাজের খুঁটি, সমাজের ব্যালেন্স। তারাই, সমাজের ঐতিহ্য, আদর্শ ও মূল্যবোধকে ধরে রাখার জন্য সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করে। সর্বনিম্নভাবে অর্থাৎ ন্যূনতমভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে ভালো মানুষরূপে গড়ে তোলার চেষ্টা করে। এ চেষ্টায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় তারা সফলকাম হয়। তাদের ছেলেমেয়েরা নিয়মনিষ্ঠ হয়, চরিত্রবান হয়, পরিণামদর্শী হয়, তারা ভালো ও উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে পরিচিত হয়। লেখাপড়া, খেলাধুলা সব বিষয়ে তারা উন্নতি বিধান করে। চাকরি হোক, ব্যবসা হোক, সর্বক্ষেত্রেই তারা সততা অবলম্বন করে সমাজে একটা ব্যালেন্স কাঠামো তৈরী করে (বর্তমানে এই অবস্থা ভিন্নতর)। এ সংবাদপত্রটি যখন প্রকাশিত হয় তখন উপর্য্ক্তু অবস্থা বিরাজিত ছিলো। এখন অবশ্য বিশ্বায়নসহ নানা বৈশ্বিক কারণে সেই মূল্যবোধটি অনেকটাই রহিত। সে প্রসঙ্গে আজ আমরা যাব না।
আমরা লক্ষ্য করছি প্রধানমন্ত্রী জনহিতকর কাজে মননিবেশ করছেন। গরীব ও দুখি মানুষের দিকে তাকাচ্ছেন। যেমন তাঁর স্বনামধন্য পিতা ও মাতা করেছেন। ইতিমধ্যে সাধারণভাবে কথা, রটে গেছে যে, তিনি তার পিতামাতাকে ফলো করছেন অর্থাৎ তাঁদেরকে অনুসরণ ও অনুকরণ করছেন। বলতে দ্বিধা নেই বিএনপির সেকুলার নেতৃবৃন্দ তাদের কথামালার মধ্যে কোচিত-কদাচিত ইনশাআল্লাহ, মাশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলেন। মনে হয় এসব শব্দ উাচারণ করতে চান না। কারণ দেশটা তো সব ধর্মের বা কোনো ধর্মের নয়। দেশটাতো আওয়ামী লীগ ‘সেকুলার দেশ’ বানিয়েছে। এখানে হুঁশ করে কথা বলতে হয়। কিন্তু এসব কিছু মেনে নিয়েও প্রধানমন্ত্রী হরহামেশা ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ বলেই যাচ্ছেন। সংকোচবোধ করছেন না। কথার তালে তালে তাল মিলিয়ে জনগণের ভাষায় তিনি কথা বলছেন। না বলে পারা যায় না। এদেশের সব শ্রেণীর, সব আদর্শের, সব ধর্মের, সব মতবাদের লোক স্বাভাবিকভাবেই এসব শব্দ উচ্চারণ করে। যা তারা অতীত থেকে করে আসছে।
আমরা প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য উদ্দেশ্য ও কর্মসূচী ভালোভাবে জানিনা। তাঁর মনে কী আছে তাও আমরা জানিনা। ছিলেন নিজ দেশে বাবা-মার আদরে, সমঝে। বাবা-মার রাজনৈতিক কারণ এবং পারিবারিক ও আত্মীয়তার কারণে গড়ে ওঠা হিংসা ও বিদ্বেষের কারণে নানা দুঃখ-কষ্ট, জুলুম, নির্যাতনের ফলশ্রুতিতে তাঁকে বাধ্য হয়ে দেশ ত্যাগ করতে হয়। তিনি ছিলেন একটি সেকুলার দেশে। যে দেশে তার শৈশব, কৈশোর ও যৌবনের একটা অংশ কাটেনি। কেটেছে একটা ভিন্ন পরিবেশে, ভিন্ন দর্শনে, ভিন্ন সংস্কৃতিতে, ভিন্ন মনন ও মূল্যবোধে। তিনি সেখানে কোনো সার্টিফিকেট অর্জন করেন নি। এ নিয়ে আমাদের সমাজে এখন নানা কথা চলছে। কিন্তু আমরা মনে করি লেখাপড়া ও জ্ঞান-বিজ্ঞান অর্জনের জন্য, আরও বৃহত্তর ক্ষেত্রে গবেষণার জন্য পৃথিবীর মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটা শহরে তিনি ১৭মাস নয়, ১৭বছর অতিবাহিত করেছেন। যে শহরে শিক্ষার ইচ্ছা না থাকলেও, জানার ইচ্ছা না থাকলেও, আপসে আপ যে কোন মানুষ জ্ঞান-বিজ্ঞান, সংস্কৃতি খেলাধুলাসহ দুনিয়ার যাবতীয় জ্ঞানের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অধিকারী হয়ে যায়।
যেখানে টিভি থেকে, রেডিও থেকে, সংবাদপত্র থেকে, সঙ্গীত থেকে, চলচ্চিত্র থেকে, খেলাধুলা থেকে, যাপিত জীবন থেকে অটোমেটিক্যালি শুধু শিখেই যায়। সে শেখার দেশে তিনি এতটি বছর কিছুই শেখেননি তাকি চিন্তা করা যায়। যদি এমন হতো তিনি ‘অডজব’ করে বেড়াচ্ছেন, থাকা খাওয়ার কোন নিশ্চয়তা তার নেই- তাহলেও বলবো, সে দেশ থেকে শেখেনি, জানেনি, জীবনকে বুঝেনি এমন লোকের সন্ধান পাওয়া বিরল। আমাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা আছে বলেই এই কথাগুলো বলে ফেললাম। ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
কিন্তু তিনিতো সেখানে মাতা-পিতার কারণে উচ্চবৃত্ত বা ধনীর জীবন-যাপন করার মহাসুযোগ পেয়েছিলেন। সে দেশে বাংলাদেশীদের অবস্থান একেবারেই দুর্বল নয় এবং আমরা এটাও ভালোভাবে জানি যে, তাঁর মাতা-পিতাকে দেশের বেশিরভাগ মানুষ ভাল জানতো, ভালোবাসতো। সে কারণে তাদের সন্তানের দেখভালের জন্য কোনো অসুবিধা সেখানে হয়নি। তিনি অপার মায়া, মমতা, প্রীতি, ভালবাসা, সহানুভূতি, আদর, আপ্যায়ন অকাতরে পেয়েছেন। উপহার, উপঢৌকন, হাদিয়া, শুভেচ্ছা ইত্যাদি তিনি অবারিতভাবে পেয়েছেন। সুতরাং শিখতে, জানতে তাঁর কোনো অসুবিধা হয়েছে বলে মনে হয় না। তাছাড়া তিনি তো সাধারণ ঘরের সন্তান ছিলেন না। তারমধ্যে উচ্চাশা ছিলো না, বড় হওয়ার স্বপ্ন ছিলো না তেমন তো নয়। তাছাড়া তাঁর দরদী মা তাঁকেতো দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানও করে দিয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে ‘চেয়ার ম্যাক্স ম্যান’। চেয়ার মানুষ তৈরি করে। বুদ্ধিমান ও বিজ্ঞ মাতা সে কাজটি করে দিয়েছিলেন। যদিও এ বিষয়টিকে পরিবারতন্ত্র হিসেবে গণ্য করা হয় (জিয়া থেকে খালেদা, খালেদা থেকে তারেক)। অবশ্য শহীদ জিয়াউর রহমান তাঁর জীবনসঙ্গীকে রাজনীতির অঙ্গনে প্রবেশ করান নি। দলের লোকেরাই দিশামিশা না পেয়ে একজন সম্মানিত গৃহবধূকে দলের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেছেন। সুতরাং রাজতন্ত্রবলী আর পরিবারতন্ত্র বলি- এজন্য শহীদ জিয়া একদম দায়ী নন। পরিবারতন্ত্র যদি দোষ হয়ে থাকে সেজন্য বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ দায়ী।
ফিরে আসি আমাদের মুখ্য কথায়। আমারা দেখছি তারেক রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি, মনোভঙ্গি ও আচার-আচরণ এক রকম অন্যদিকে বিএনপির মনন, দৃষ্টিভঙ্গি ও আচার-আচরণ ভিন্নতর। তারেক রহমানের ‘আই হ্যাব এ প্ল্যান’ নিয়ে বিএনপি বা বিএনপির নেতৃবৃন্দ তেমন কোনো কথা বলছেন না। তারা তাদের মতো চলছেন, বলছেন, পূর্বে যেভাবে ছিলেন এখনও সেভাবে আছেন। দলের মেজাজ মর্জি একইভাবে বিস্তারিত হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে লন্ডনে বসে তারেক রহমান অনলাইনে প্রায় যে দলীয় ও দেশবাসীর উদ্দেশে যেসব ভাষণ দিতেন ফিরে এলে দেখা যায় তিনি সেসবের মধ্যেই আবর্তিত হচ্ছেন। আমরা ধরে নিচ্ছি এসব তার নিজের কথা (যদিও অন্যরা বলছেন এসব অন্য কারো লেখনি বা চিন্তার বিন্যাস)। দেখা যাচ্ছে বিএনপি নিয়ে তিনি খুব মাথা ঘামাচ্ছেন না। মাথা ঘামাচ্ছেন দেশ ও দশ নিয়ে। তিনি বিরোধী দলের আমন্ত্রণে ইফতার পার্টিতে গিয়েছেন, অনির্ধারিতভাবে বিরোধীদলের লোকজনের সঙ্গে কথাবার্তা বলেছেন। যা বিএনপির নেতৃবৃন্দ হয়তো পছন্দ করছেন না। মোদ্দাকথা তিনি একটু ইনফরমাল লাইফ লিড করার চেষ্টা করছেন। ফরমাল লাইফ থেকে দূরে থাকছেন। মনে হয় দলের বাইরেও নিজেকে একজন দেশের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে পৃথকভাবে প্রতিষ্ঠা করার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ চিন্তা করা মাথায় ঢুকেছে। বিষয়টিকে বিজ্ঞজনেরা শুভদৃষ্টি বলেই মনে করছে। বিরোধী দলের মতো তিনিও ঐকের কথা বলছেন। কি ঐক্য, কাদের ঐক্য সে বিষয়টি কিন্তু এখনও পরিষ্কার নয়। বিরোধী দলের বিরোধিতা তিনি করছেন না তা নয়, কিন্তু তাঁর বিরোধিতা এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের বিরোধিতা একরকম নয়। ভারতের ও তদানীন্তন বিএনপি নেতৃবৃন্দের ভুল পরামর্শের কারণে একসময় বেগম খালেদা জিয়া খাল খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প বাদ দিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেশে ফিরে এসেই মরহুম পিতার প্রিয় প্রকল্পকে পুনঃজন্ম দিয়েছেন। খাল শব্দটা ছোট হলেও, খাল খনন ও পুনঃখনন শব্দটি মোটেও ছোট নয়। এর সঙ্গে অন্য দেশের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে এতে কি মনে হয় না যে তিনি পিতাকে অনুসরণ করছেন। এক্ষেত্রে মাতাকে অনুসরণ করেননি। খাল খননের বিষয়ে ভারত স্পষ্টভারে বিরোধিতা করেছে। সেটা কি তারেক রহমান জানেন না। নিশ্চয়ই জানেন এবং তিনি এটাও জানেন যে তাঁর দেশপ্রেমিক পিতা এই প্রকল্পটি ভুল করে প্রণয়ন করেননি। এখনো তো আমরা লক্ষ্য করছি দেশের মানুষ বিশেষ করে চাষা-ভুষা মানুষ খাল খননকে যেভাবে আলিঙ্গন করেছে বিএনপি বা বিএনপির নেতৃবৃন্দ সেখানে অনেকটাই অনুপস্থিত। সুতরাং আমরা ধরে নিতে পারি যে দেশকাল, পাত্রভেদে প্রেগমেটিক চিন্তা ও চেতনা নিয়ে তিনি অগ্রসর হবেন।
ইতোমধ্যে তিনি খৃস্টান সম্প্রদায়কে সামনে রেখে গত ৫ তারিখে বলেছেন, সুখী-সমৃদ্ধ দেশ গড়ুতে সব ধর্মের সহযোগিতা প্রয়োজন। খৃস্টান সম্প্রদায়ের ইস্টার সানডে উপলক্ষে প্রোটেস্টেন্ট চার্চের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সমান চোখে দেখি। আমরা ঐক্যবদ্ধ ‘বেটার বাংলাদেশ’ চাই (এ পর্যন্ত আমরা শুনে এসেছি ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা সোনার বাংলাদেশ চাই) এই প্রথমবারের মতো আমরা ঐক্যবদ্ধ ও বেটার বাংলাদেশ বাক্যটি শুনলাম। এ বাক্যটির মধ্যে অনেক কথা আছে। এর আগে উন্নত বাংলাদেশের কথা, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের কথা, তারও পূর্বে উন্নয়নকামী বাংলাদেশ, পরে উন্নয়নশীল বাংলাদেশসহ ইত্যাকার নানা বাক্য আমরা শুনেছি। এ ‘বেটার’ শব্দটি বৃটেনের। বৃহৎ ক্ষেত্রে ইংরেজদের। আর বিশ্ববাসী জানে ইংল্যান্ড হলো প্রোটেস্টেন খৃস্টানদের দেশ। যারা ক্যাথলিকদের মতো একনিষ্ঠ খৃস্টান নয়। তারাইতো ধর্ম থেকে শিল্পবিপ্লবের পর রাজনীতিকে বিচ্ছিন্ন করেছে। চার্চকে অমান্য করেছে। তারাই ক্যাথোলিকদের বলেছে ফান্ডামেন্টালিস্ট। অর্থাৎ মৌলবাদী। যে তকমাটা শেকড় সন্ধানে ইসলামিস্টদের বিরুদ্ধে গত প্রায় ৫০০ বছর ধরে ‘সিল মারা’ হচ্ছে। যার প্রকৃত জনবাহী শব্দ তারা ব্যবহার করছে ‘জঙ্গী’ হিসেবে। প্রোটেস্টেনরা ক্যাথলিকদেরকে ধর্মান্ধ বলছে। মৌলবাদী বলছে (এখানে অর্থ আবার রক্ষণশীল, জঙ্গী নয়) মূলত এসব শব্দ ব্যবহার করে ক্যাথলিকদেরকে তারা চিহ্নিত করেছে অপ্রগতিশীল হিসেবে। যারা প্রগ্রেসিভ নয়। যারা পুরোনো মূল্যবোধ নিয়ে আঁকড়ে ধরে আছে। প্রোটেস্টেনদের চাপে একসময় ক্যাথলিক খৃস্টানরা স্কটল্যান্ড ও আয়ার ল্যান্ডে চলে গেছে। তাদের গীর্জাগুলো ইংল্যান্ডে অনেকাংশে (ইংল্যান্ডে) বেচা-বিক্রি হয়ে গেছে। কিছু কিছু মসজিদ, মাদরাসা ও শিক্ষায়াতনে রূপান্তরিত হয়েছে। প্রোটেস্টেনরা একসময় পৃথক করে যে গীর্জা তৈরী করেছিলো সেসবও তারা একসময় বন্ধ করে রেখেছিলো। এখন তারা সেসব ধীরে ধীরে বিক্রি করছে। পুরোনো কিছু চার্চ হয়তো স্মৃতির জন্য টিকিয়ে রাখবে। মূল লন্ডনের ক্যাথলিক হোক, প্রোটেস্টেন্ট হোক বা অন্য কোন মাজহাবের চার্চ হোক, তা হয়তো লন্ডন বা ইংল্যান্ডবাসী টিকিয়ে রাখবে। অনেকটা অতীতের স্মৃতি রক্ষা করার মিউজিয়ামের মতো। সে প্রোটেস্টেনদের বাংলাদেশের অনুসারীরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে বলেছেন তাদের ৭ হাজার চার্চে প্রতিদিন প্রধানমন্ত্রীর মাতা ও স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রার্থনা করা হয়। একেই বলে ‘ডিভাইড এন্ড রুল’। নিজ জন্মভূমির চার্চগুলো বন্ধ রেখে এবং বর্তমানে বিক্রির অবস্থায় রেখে বাংলাদেশের মতো ছোট একটা দেশে তাদের ৭ হাজার চার্চে আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রার্থনা করা হয়; এই শুভ সংবাদ শুনে আমরা ধন্যসহ বিগলিত হয়েছি। আমরা প্রোটেস্টেন চার্চগোষ্ঠীকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। ভালবাসা ও আশীর্বাদ জানাচ্ছি।
এখানে প্রধানমন্ত্রীর দিক থেকে আমরা কোনো অসুবিধা দেখছি না। তিনি সব ধর্মের সব মতের সহযোগিতা চেয়েছেন। বলেছেন, ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’। এ আহ্বানের মধ্যে আমাদের দিক থেকে কোনো ত্রুটি আমরা দেখছি না। সবাই নিজ নিজ ধর্ম পালন করলে সেটাতেইতো আমরা খুশি থাকবো। কারণ ধর্ম অতীতের কথা বলে, ইতিহাসের কথা বলে, চিন্তার কথা বলে, ধ্যানের কথা বলে, কল্যাণের কথা বলে, স্বাস্থ্যের কথা বলে, মননের কথা বলে, জীবন ও জগতের কথা বলে, পরকালের কথা বলে, শাস্তির কথা বলে, পুরস্কারের কথা বলে, মানুষকে সঠিকভাবে মানুষ হবার কথা বলে, প্রেম, প্রীতি, ভালবাসা, স্নেহ, মমতা, ভ্রাতৃত্ব ও বন্ধুত্বের কথা বলে, প্রতিবেশির সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের কথা বলে, প্রতিবেশি দেশের কল্যাণ ও মঙ্গল চায়, কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মাৎসর্য থেকে মানুষকে যোজন যোজন দূরে থাকতে বলে। সত্যের ওপর দৃঢ় থাকতে বলে। মানবিকতার চর্চার কথা বলে। মানবতার উন্মেষ চায়। শিক্ষার বিস্তৃতি চায়। সঠিক জ্ঞানের প্রসার চায়। সুবিচার ও ন্যায়বিচার চায়। ছোট ও বড়কে সমান দেখতে চায়। সুখ, শান্তি ও স্বস্তি প্রতিষ্ঠিত দেখতে চায়-না, এ বিষয়ে আর দৃষ্টান্ত বাড়াতে চাচ্ছি না। আর আবেগের বশে কিছু শব্দ বা বাক্য উচ্চারণ করলাম মাত্র।
প্রোটেস্টেনরা মূলত সংশয়বাদী, সেকুলার, ইহকাল নিয়েই তাদের কাজ-কারবার। বেটার কমফোর্ট, বেটার লাইফ এটাই আরাধ্য। কিন্তু বাংলাদেশের প্রোটেস্টেনরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর সামনে ধর্মকে উচ্চকিত ও সমুজ্জ্বল করে বড় একটা ভাল কাজ করেছেন। আমরাও ধর্ম চাই। সব ধর্মের লোকেরা স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মপালন করবে, সরকার সব ধর্মের মানুষকে সহানুভূতির সাথে দেখ ভাল করবে এটাইতো কাম্য।
লেখক : কলামিস্ট।