নানা দূষণে রাজনীতির মান ক্রমেই অবনমিত হচ্ছে। রাজনীতি এখন যেন প্রকৃতি দূষণের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে। দূষণ যেমন দেশে চলছে, তেমনি চলছে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলেও। তবে প্রকট শব্দটি বোধহয় এখন বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশটির সাথে যুক্ত করা যায়। ভারতের রাজনীতিতে দূণের মাত্রা বেড়েই চলেছে। ভারত অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরে মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, তার দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের (এনসি) বিধায়কদের দলত্যাগে রাজি করাতে বিজেপি ২০-৩০ কোটি রুটি, মন্ত্রিত্ব এবং রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। গত শনিবার কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের কাছে হজরতবালে আয়োজিত ন্যাশনাল কনফারেন্সের এক সমাবেশ ওমর আব্দুল্লাহ এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, তার দলকে ভাঙতে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিজেপি’র ঘনিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী এনসি’র এক বিধায়কের কাছে দলত্যাগের বিনিময়ে ২০-৩০ কোটি রুপি, মন্ত্রিত্ব এবং জম্মু-কাশ্মীরের রাজ্যমর্যাদা পুনর্বহালের আশ্বাস দেন।

মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ সাক্ষী, জম্মুর একজন বিধায়ক এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন।’ তার ভাষায়, যখন অর্থের লোভ দেখিয়ে কাজ হলো না, মন্ত্রীত্বের প্রলোভনও ব্যর্থ হলো, তখন বিধায়কদের বলা হচ্ছে-আমাদের সঙ্গে আসুন, আমরা আপনাদের ‘রাজ্যের মর্যাদা’ ফিরিয়ে দেবো।’ ওমর আব্দুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, ন্যাশনাল কনফারেন্সের কোনো বিধায়কই টাকার বিনিময়ে নিজের আদর্শ বিক্রি করবেন না। একই সঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও বিজেপিকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের ধৈর্য ও ভদ্রতার পরীক্ষা নেবেন না। তিনি জানান, জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনি একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিশাহ এবং অন্যান্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন। কিন্তু প্রতিবারই তাকে বলা হয়েছে, ‘উপযুক্ত সময়ে’ এ মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে ওমর আব্দুল্লাহ বলেন, ‘খোদার দোহাই আমাদের বলুন, সেই উপযুক্ত সময়টি কবে আসবে?’

ওমর আব্দুল্লাহর মন্তব্যটি এমন এক সময়ে এলো যখন জম্মু-কাশ্মীরের সাংবিধানিক মর্যাদা পুনর্বাহালের দাবিতে কেন্দ্রের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে। উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের আগস্টে ভারতীয় সংসদ সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করার পর জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভেঙে জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ নামে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে ভাগ করা হয়। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও কেন্দ্রীয় সরকারের দেওয়া এই আশ্বাস নথিভুক্ত করে যে, ‘উপযুক্ত সময়ে’ জম্মু ও কাশ্মীরকে পুনরায় রাজ্যের মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোয় ন্যাশনাল কনফারেন্স কাশ্মীরের ‘রাজ্য মর্যাদা’ পুনর্বহালের দাবিতে তাদের আন্দোলন জোরদার করেছে। এ দাবির সমর্থনে দলটি ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তরে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। তাদের দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং প্রকৃত ফেডারেল জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা পুনর্বহাল অপরিহার্য। ন্যাশনাল কনফারেন্সের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আকাক্সক্ষা বিজেপি সরকারের কাছে আদৌ কোনো গুরুত্ব পাবে কিনা সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে। কারণ, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লাহ যখন অভিযোগ করেন, তার দলে ভাঙন ধরাতে বিজেপি সরকার অর্থের প্রলোভন দিচ্ছে, তখন কেন্দ্রীয় সরকারের সদিচ্ছা সম্পর্কে প্রশ্ন জাগতেই পারে। তাইতো ওমর আব্দুল্লাহ প্রশ্ন করেছেন, রাজ্য মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার ‘উপযুক্ত সময়টা’ কখন আসবে?