মাঝে মাঝে বয়স নিয়ে প্রশ্ন জাগে। সেটা হতে পারে ব্যক্তির বয়স, এমন কি সংগঠনের বয়সও। মোদিজীর তো বয়স বাড়ছে, বয়স বাড়ছে বিজিপি সরকারেরও। বয়স বাড়লে স্মৃতিশক্তি কমতে পারে, তাই বলে চক্ষুলজ্জাও? না হলে মুসলিম হওয়ার কারণে দুই নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে এভাবে মারা যায়! ভারতে দুই মুসলিম নারী সাংবাদিককে থানায় নিয়ে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ তাদের ধর্মীয় পরিচয় জানার পর অত্যাচার করেছে বলে তারা অভিযোগ করেন। গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই অভিযোগকারী দুই সাংবাদিকের মধ্যে একজনের রেকর্ড করা ভিডিও ভাইরাল হয়। ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহীন খান ও নাফিজা খান ডিজিটাল সংবাদমাধ্যম ফোর পিএম-এ কাজ করেন। তারা অভিযোগ করেন, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তকে প্রশ্ন করায় তাদের ধর্মীয় পরিচয় সামনে এনে দিল্লির সাকেত পুলিশ স্টেশনে তাদের হেনস্তা করা হয়। এরপরই সাকেত পুলিশ স্টেশনে বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
দিল্লি পুলিশের কাছে দায়ের করা এক অভিযোগে শাহীন খান জানান, বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ তিনি দেখেন এলাকাটি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন। খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পারেন, রেখা গুপ্তা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিতশাহ ম্যাক্স হাসপাতালের একটি নতুন ভবন উদ্বোধনে আসছেন, আর সে কারণেই এ পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হয়। তিনি ও তার সহকর্মী নাফিসা খান অনুষ্ঠানস্থল থেকে বেশ কিছুটা দূরে ছিলেন। তারা মুখ্যমন্ত্রীর একটি কাট-আউটের সামেন দাঁড়িয়ে ভিডিও করেন। যেখানে তিনি বলেন, এলাকাটি সাধারণত এতটা পরিষ্কার থাকে না। এমনকি থানা ও হাসপাতালের বাইরেও যেখানে প্রায়শই আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়, সেখানে কেন ভিআইপির আগমন উপলক্ষে এমন পরিপাটি ও ঝকঝকে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে? অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ঠিক তখনই কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা পেছন থেকে এগিয়ে আসেন এবং হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের ফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি যখন ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে এর প্রতিবাদ জানাই, তখন কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যকে সেখানে ডাকা হয়। এ ভিডিওতে শাহীন খান দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, আমাকে চরম মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করার পর তারা আমার নাম জানতে চায়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করার শাস্তি হিসেবেই দিল্লি পুলিশ আমার সাথে এমন আচরণ করে। প্রেসক্লাব ইন্ডিয়া তাদের বিবৃতিতে বলেন, থানায় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার ওই দুই নারী সাংবাদিককে একটি ঘরে নিয়ে যেতে বলেন, যেখানে নারী পুলিশ অফিসারও উপস্থিত ছিলেন, তারপর ওই দু’জন নারী সাংবাদিককে মারধর করা হয়। নাফিসা খান সংবাদমাধ্যমকে জানান, যাদের সুরক্ষা দেওয়ার কথা তারাই অত্যাচার করেছে। ধর্ম জিজ্ঞাসা করে অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়েছে। আমি মুসলিম, এটা জানার পর ওরা আরো বেশি মারধর করে। আমাদের যখন পুলিশ মারছিল, তখন স্টেশন হাউস অফিসার বসে বসে হাসছিল। এ সময় বলা হয়, ওদের বিরুদ্ধে এমন আইনি ধারা দেওয়া হবে, যা কল্পনাতীত।
দু’জন নারী সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় প্রেসক্লাব অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়ান উইমেনস প্রেস কোর, দিল্লি ইউনিয়ন অব জার্নালিস্ট, প্রেস অ্যাসোসিয়েশন এবং কেরালা ইউনিয়ন অব ওয়ার্কিং জার্নালিস্টস একটি যৌথ বিবৃতি জারি করে। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থারও দাবি জানান। রাজনৈতিক অঙ্গন থেকেও সাংবাদিকদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের নিন্দা জানানো হয়েছে। ফলাফল কি দাঁড়ায়, সেটা অবশ্যই দেখার মত একটি বিষয়। তবে উপলব্ধি করা গেল, মোদির আমলে পুলিশও সাম্প্রদায়িকতার দূষণ থেকে মুক্তি নয়।