ফিলিস্তিনিরা বর্তমান সভ্যতায় মজলুম জনগোষ্ঠীর প্রতীক। গাজায় এবার ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর নিহত হয়েছেন ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন প্রায় দুই লাখ। নিখোঁজের সংখ্যা ১১ হাজার ২০০। এসব নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং তাদের ভাগ্য নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। ৩০ আগস্ট আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে রোববার গাজা সিটিতে অবস্থিত আন্তর্জাতিক রেডক্রস কমিটির (আইসিআরসি) কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন তারা। সে সময় বিক্ষোভ থেকে এ দাবি জানানো হয়। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হিসাব অনুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ জন। নিখোঁজদের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মধ্যে বিপুল অংশ হামলায় ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন বা বাস্তুচ্যুতির সময় নিখোঁজ হয়েছেন অথবা ইসরাইলিদের হাতে বন্দি হয়েছেন।

স্বজনদের বিক্ষোভে অংশ নেন ২৫ বছর বয়সি মাহমুদ বাসেম মাতারের মা। মাহমুদ গত ১২ মার্চ রমযানের সময় বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। বর্তমানে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে বাস্তুচ্যুত হয়ে থাকা মাহমুদের মা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানান, তার ছেলের মানসিক সমস্যা রয়েছে, তাই তার বিশেষ যত্নের প্রয়োজন। ছেলেকে ফিরে পেতে বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করছেন। তিনি বলেন, আত্মীয়রা মাহমুদের খোঁজ করেছেন, হাসপাতালে খবর নিয়েছেন, এমনকি নিখোঁজ ব্যক্তিবিষয়ক সংস্থা ও রেডক্রসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন; কিন্তু কোনো সন্ধান পান নি তিনি। ছেলে বেঁচে আছে, না মারা গেছে—কোনো তথ্যই জানেন না তিনি। আর রিম আবু খুওয়াইদ বলেন, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে গাজা শহরে এক অভিযানের সময় ইসরাইলি বাহিনী তার স্বামী ও দুই ছেলেকে আটক করে। তাদের হত্যা করা হয়েছে, না বন্দি আছে, তার কোনো খবরই জানেন না তিনি। এ হলো গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসনের খণ্ডচিত্র। পুরো চিত্র আরো ভয়াবহ, নিষ্ঠুর ও অমানবিক।

গাজায় হামলা, অপহরণ ও জুলুম-নির্যাতনের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের কাজও চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। যুদ্ধাপরাধী দেশটির এমন আগ্রাসনের এবং অবৈধ বসতি স্থাপনের নিন্দা জানিয়েছেন বৃটিশ-আরবরা। একই সাথে ইসরাইলি অবৈধ বসতির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিতে বৃটিশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা। এছাড়া বৃটেনের কোনো অর্থ যাতে ইসরাইলিদের কাজের সহায়ক না হয়, সে জন্য বাধ্যতামূলক আইন প্রণয়নেরও আহ্বান জানিয়েছেন বৃটিশ-আরবরা। ২৪ আগস্ট বৃটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এডওয়ার্ড মিলিব্যান্ডকে লেখা যৌথ চিঠিতে তারা আরো বলেন, ১৯৬৭ সাল থেকে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরাইলের দখলদারিত্বকে স্বীকৃতি ও সহায়তা না করাসহ অন্যান্য বাধ্যতামূল দায়িত্ব বৃটিশ সরকার যাতে পালন করেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, আসল প্রশ্নটি ইসরাইলি বসতিগুলো অবৈধ কিনা, তা দেখা নয়; বরং বসতিগুলোকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে— এমন বাণিজ্য বা বিনিয়োগ প্রতিরোধ করা। বৃটিশ সরকার চিঠির মর্মার্থ উপলব্ধি করলেই মঙ্গল।