পর্বতের সর্বোচ্চশৃঙ্গে আরোহন করলে সাবধানে থাকতে হয়। কারণ, সঙ্গত বিবেচনার বাইরে গিয়ে আরো লাফ দিতে গেলে পতন অনিবার্য। বিভিন্ন যুগে পতনের এমন দৃশ্য আমরা অবলোকন করেছি বড় বড় সা¤্রাজ্যের ক্ষেত্রে। রোম সা¤্রাজ্য, পারস্য সা¤্রাজ্য আজ কোথায়? বর্তমান সময়ে প্রশ্ন জেগেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোন পথে? উল্লেখ্য, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যৌথ হামলা চালিয়েছে আমেরিকা ও ইসরাইল। জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালায় মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সামরিক স্থাপনাগুলোতে। এখানে বলার মত বিষয় হলো, যুদ্ধে আমেরিকা বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করায় ইতিমধ্যে দেশটির নিজস্ব অস্ত্র ভা-ারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভবিষ্যতে চীন ও রাশিয়ার মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবেলার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শুক্রবার ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সংঘাত চলাকালে মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত বিপুল পরিমাণ অস্ত্র পাঠিয়েছে আমেরিকা, যা তাদের অস্ত্রের মজুতের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে কিছু অস্ত্রের মজুত দ্রুত হ্রাস পেয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, ইউরোপে মোতায়েন থাকা মার্কিন সামরিক বাহিনীর পিএসি-৩ প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর এবং আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম বা এটি এসিএসএসের মজুত এখন অত্যন্ত সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে। আর এ কারণেই কর্মকর্তারা ইউরোপে থাকা মার্কিন অস্ত্রের মজুতকে ‘সংকটজনক অবস্থার ঊর্ধ্বে’ বলে বর্ণনা করেছেন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের মতে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ পেন্টাগণের দীর্ঘদিনের পদ্ধতি অনুসারে একটি ‘অর্ডার বুক’ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্রশস্ত্র পাঠানোর তদারকি করেছেন। ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করতে আমেরিকা ও তার মিত্ররা এই অস্ত্রগুলো ব্যাবপকভাবে ব্যবহার করেছে। প্রতিবেদন অনুসারে, ইরান ও আমেরিকা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সরাসরি হামলা বন্ধ রেখেছে। তা সত্ত্বেও জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জার্মানির মতো দেশগুলো থেকে অস্ত্রের মজুত পুনরায় পূরণ করতে ওয়াশিংটনের কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে। অস্ত্রের এমন ঘাটতিতে চীন ও রাশিয়ার সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলা করাই এখন প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘাটতি আমেরিকার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বড় ধরনের সংঘাত মোকাবিলায় অস্ত্রের মজুত বাড়াতে দেশটির প্রতিরক্ষাশিল্পের ওপর যথেষ্ট চাপ পড়তে পারে।
শুধু ট্রাম্প প্রশাসনের ক্ষেত্রেই বিবেচনাবোধের অভাব লক্ষ্য করা যায় নি, নেতানিয়াহু প্রশাসন আরো উগ্র। ওদের ফাঁদে পা দিয়েই তো আজ ট্রাম্পের এই অবস্থা। জ¦ালানি ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে মার্কিন জনমনে এখন বিরাজ করছে অসন্তোষ। ফলে ট্রাম্পের জনসমর্থন এখন একেবারে তলানিতে। যুদ্ধ প্রশ্নে রেগে গিয়ে কিছুদিন আগে তো নেতানিয়াহুকে পাগল বলেও মন্তব্য করেছিলেন ট্রাম্প। এই যখন অবস্থা, তখন দক্ষিণ আফ্রিকা অভিযোগ করেছে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আদেশ লংঘন করে চলছে ইসরাইল। ২০২৪ সালে গাজায় গণহত্যা বন্ধে যাবতীয় ব্যবস্থা নিতে ইসরাইলকে আদেশ দিয়েছিল আইসিজে। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জেনোসাইড কনভেনশনের অধীনে ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় এ উদ্যোগ নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আদালতের আদেশ পরিপূর্ণভাবে অবিলম্বে পালনের জন্য ইসরাইলকে বাধ্য করতে সম্ভাব্য সব ধরনের পথেই চেষ্টা চালানো হবে।’ দক্ষিণ আফ্রিকা তো তার অঙ্গীকারের কথা ব্যক্ত করলো। তবে বিশ^বাসী জানে, ফিলিস্তিন ও ইরানে যুদ্ধপরাধের আসল কারিগর হলো ইসরাইল। দেশটি এখন দাঁড়িয়ে আছে বিশ^বিবেকের কাঠগড়ায়।